বিজ্ঞান শব্দ: বায়োফোটন

স্টার অনলাইন ডেস্ক

বিজ্ঞান কত মজার ও রহস্যে ভরা, তা আমরা অনেক সময় টেরই পাই না। আমাদের চারপাশে প্রতিদিন ঘটে চলেছে অসংখ্য আশ্চর্য ঘটনা। এমনকি আমাদের শরীরের ভেতরেও লুকিয়ে আছে অবাক করা রহস্য! বিজ্ঞানজগতের এমনই দারুণ সব শব্দ, আবিষ্কার আর ধারণা নিয়ে আমাদের নতুন আয়োজন ‘বিজ্ঞান শব্দ’।

এই ধারাবাহিকের প্রথম শব্দ—বায়োফোটন। জানো কি, মানুষসহ সব জীবিত প্রাণী থেকেই বের হয় খুব ক্ষীণ এক ধরনের আলো? চোখে দেখা না গেলেও বিজ্ঞানীরা সেই আলোর অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন। চলো, আজ জেনে নেওয়া যাক বায়োফোটনের সম্পর্কে। গ্রন্থনা করেছেন রবিউল কমল

বায়োফোটন কী?

বিজ্ঞানীদের ভাষায়, বায়োফোটন মূলত এক ধরনের আলোককণা। এই আলোককণা মানুষ, প্রাণী, গাছপালাসহ সব জীবিত জিনিস থেকেই বের হয়। এই আলো এতটাই ক্ষীণ যে, খালি চোখে দেখা যায় না। তাই বিজ্ঞানীদের বিশেষ সংবেদনশীল যন্ত্র ব্যবহার করতে হয়।

উদাহরণ হিসেবে, মানুষের ত্বকের প্রতি বর্গসেন্টিমিটার অংশ থেকে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় এক হাজারটি ফোটন বের হয়। কিন্তু একটি জোনাকি পোকার আলো এর চেয়ে প্রায় ১০ লাখ গুণ বেশি উজ্জ্বল!

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শরীরের কোষে রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় এই আলো তৈরি হয়। বিশেষ করে অক্সিজেন-সম্পর্কিত রাসায়নিক কাজ থেকে সবচেয়ে বেশি বায়োফোটন বের হয়। যেসব অঙ্গে রাসায়নিক কাজ বেশি হয়, সেগুলো সাধারণত বেশি আলো ছড়ায়।

কখনো কোষ হঠাৎ ঝলকের মতো আলো ছাড়ে, আবার কখনও ধীরে ধীরে টানা আলো বের হয়।

মস্তিষ্কও আলো ছড়ায়!

বায়োফোটনের হিসাবে মানুষের মস্তিষ্ক বেশ উজ্জ্বল। মস্তিষ্কের যে অংশ বেশি কাজ করে, সেই অংশের আলোও বেশি।

মজার ব্যাপার হলো, আমরা কী করছি তার ওপরও আলোর ধরন বদলে যেতে পারে। যেমন, কেউ গান শুনলে তার মস্তিষ্কের আলোর প্যাটার্ন এক রকম হয়, আর কেউ চুপচাপ বিশ্রাম নিলে তা অন্য রকম হয়।

ডিএনএ ও মাইটোকন্ড্রিয়া নামের কোষের অংশগুলো তুলনামূলক বেশি বায়োফোটন ছড়ায়। মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের ‘শক্তিঘর’ বলা হয়, কারণ এটি শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক কাজ সম্পন্ন করে।

বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, বায়োফোটন ব্যবহার করে নতুন প্রযুক্তি তৈরি করা যাবে। যেমন, মস্তিষ্কের কাজ পর্যবেক্ষণের জন্য কম কষ্টদায়ক ব্রেইন স্ক্যান প্রযুক্তি তৈরি হতে পারে।

এক বাক্যে

বায়োফোটন ও জোনাকি পোকার উজ্জ্বল আলো এক জিনিস নয়। জোনাকির আলোকে বলা হয় বায়োলুমিনেসেন্স। জোনাকির বায়োলুমিনেসেন্স বিশেষ রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয় এবং অনেক বেশি উজ্জ্বল।