এক বছরের মধ্যেই নোবেল জয়ে সহায়তা করবে এআই: অ্যানথ্রোপিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আগামী এক বছরের মধ্যেই মানুষের সঙ্গে কাজ করে নোবেল পুরস্কারজয়ী কোনো বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে সহায়তা করতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ক্লার্ক।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বুধবার ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডে এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, প্রযুক্তিটির অগ্রগতি এখন এত দ্রুত যে তা ‘মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো’ অনুভূতি তৈরি করছে।
জ্যাক ক্লার্কের মতে, আগামী ১৮ মাসের মধ্যেই শুধু এআই দ্বারা পরিচালিত কোম্পানিগুলো লাখ লাখ ডলার আয় করতে শুরু করবে। আর দুই বছরের মধ্যে মানবাকৃতির রোবট বিভিন্ন কারিগরি পেশার মানুষের কাজে সহায়তা করবে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ এআই নিজেই নিজের পরবর্তী সংস্করণ ডিজাইন করতে সক্ষম হতে পারে।
তবে এআইয়ের ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেছেন তিনি। ক্লার্ক বলেন, এখনও এমন সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না যে, প্রযুক্তিটি ‘পুরো পৃথিবীর সবাইকে হত্যা করতে পারে’।
তার ভাষায়, ‘এই ঝুঁকি এখনও দূর হয়নি—এটা স্পষ্টভাবে বলা জরুরি।’
অ্যানথ্রোপিকের সবচেয়ে পরিচিত এআই মডেল ‘ক্লড’। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি ‘মাইথোস’ নামে নতুন একটি সংস্করণ চালু করেছে, যা সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক দক্ষতা দেখিয়েছে।
ক্লার্ক বলেন, এআইয়ের বিকাশের গতি ধীর করতে পারলে মানবজাতির জন্য ভালো হতো, যাতে মানুষ প্রযুক্তিটির প্রভাব মোকাবিলার জন্য আরও সময় পায়। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। কারণ বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাণিজ্যিক ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা প্রযুক্তিটির উন্নয়নকে আরও দ্রুততর করছে।
অ্যানথ্রোপিক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এমন কিছু গবেষক, যারা নিরাপত্তা ইস্যুতে মতবিরোধের কারণে ওপেনএআই ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী এআই কোম্পানি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন, অ্যানথ্রোপিক, গুগল ও ওপেনএআইয়ের মতো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে এআই প্রযুক্তি কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়লে বৈশ্বিক ব্যবস্থায় ‘একক ব্যর্থতার ঝুঁকি’ তৈরি হতে পারে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত এডওয়ার্ড হারকোর্ট সতর্ক করে বলেন, এআই মানুষের হয়ে ক্রমেই বেশি কাজ করতে শুরু করলে মানুষের চিন্তা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
তিনি এমন ‘সক্রেটিক এআই’ মডেলের পক্ষে মত দেন, যা মানুষকে আরও বেশি চিন্তা করতে উৎসাহিত করবে।
জ্যাক ক্লার্ক বলেন, তার সবচেয়ে ‘রক্ষণশীল’ পূর্বাভাস হলো—সমাজ ও অর্থনীতির বিশাল অংশ গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাবে। এর মধ্যে মানুষের অর্থনীতি থেকে আলাদা ‘মেশিন অর্থনীতি’, রোবটের উন্নত বুদ্ধিমত্তা, এমনকি মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়াই বৈজ্ঞানিক গবেষণার অগ্রগতির মতো বিষয়ও থাকতে পারে।
তিনি স্বীকার করেন, এসবের কিছু কিছু হয়তো ‘পাগলামির মতো’ শোনাতে পারে।
এর আগে, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্ময়কর পূর্বাভাস দেন অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী ডারিও অ্যামোদেই। তার দাবি, ভবিষ্যতে প্রতিটি বড় এআই ক্লাস্টারে ৫ কোটি নোবেল পুরস্কারজয়ীর সমপরিমাণ ‘মেধাশক্তি’ থাকবে।
তিনি এআই ডেটা সেন্টারকে ‘প্রতিভাবানদের দেশ’ হিসেবেও বর্ণনা করেন। তার ভাষায়, একটি উন্নত এআই ক্লাস্টার এমন বুদ্ধিমত্তা ধারণ করবে, যা কোটি কোটি অসাধারণ বিজ্ঞানী ও গবেষকের সম্মিলিত সক্ষমতার সমান হতে পারে।
ডারিও অ্যামোদেই বলেন, আগামী কয়েক বছরে এআই এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে, যা বিজ্ঞান, চিকিৎসা, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি গবেষণায় মানুষের সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
তবে তিনি সতর্কও করেছেন। তার মতে, এত শক্তিশালী প্রযুক্তির নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ ও নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে বড় ধরনের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।