বিশ্বকাপ টিকিট নিয়ে ফিফার ‘প্রতারণা’

স্পোর্টস ডেস্ক

২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছে ফিফা। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র দুই মাস আগে হঠাৎ করেই নতুন একটি টিকিট ক্যাটাগরি চালু করেছে সংস্থাটি, যা পরিকল্পিতভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কৌশল বলেই মনে করছে ফুটবল ভক্তরা।

গত বছরের শরৎ ও শীত মৌসুমে চারটি ক্যাটাগরিতে লাখ লাখ টিকিট বিক্রি করেছিল ফিফা। এর মধ্যে সবচেয়ে দামী ছিল 'ক্যাটাগরি ১', যা স্টেডিয়ামের নিচের অংশের প্রায় সব আসনকেই অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ভক্তরা কয়েকশ থেকে হাজার ডলার খরচ করে এসব টিকিট কিনলেও তখন নির্দিষ্ট আসন জানানো হয়নি। পরে গত সপ্তাহে আসন বরাদ্দ দেওয়া হলে দেখা যায়, অনেকেই কর্নার, গোলপোস্টের পেছন বা মাঠ থেকে তুলনামূলক দূরের আসন পেয়েছেন, যা তাদের প্রত্যাশার সঙ্গে মেলেনি।

এই হতাশা কাটতে না কাটতেই আরেকটি চমক দেয় সংস্থাটি। নতুন করে 'ফ্রন্ট ক্যাটাগরি ১' নামে টিকিট বিক্রি শুরু হয়, যেখানে স্টেডিয়ামের সামনের সারির আসনগুলো রাখা হয়েছে, আর এসব টিকিটের দাম অনেক ক্ষেত্রে আগের ক্যাটাগরি ১-এর চেয়ে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেশি। ফলে আগে যারা উচ্চমূল্যে ক্যাটাগরি ১ কিনেছিলেন, তারা নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন।

অনেক ভক্তের অভিযোগ, শুরুতেই ক্যাটাগরি ১ টিকিটকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল যেন তারা স্টেডিয়ামের সেরা সাইডলাইন আসন পেতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে সেই আসনগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছে আরও দামী 'ফ্রন্ট' ক্যাটাগরির জন্য বা হসপিটালিটি প্যাকেজের ক্রেতাদের জন্য।

বিভিন্ন ম্যাচে এই নতুন ক্যাটাগরির দামের পার্থক্য চোখে পড়ার মতো। যেমন, আর্জেন্টিনার গ্রুপ ম্যাচে যেখানে আগে ক্যাটাগরি ১ টিকিটের দাম ছিল প্রায় ৭৬৫–৭৭৫ ডলার, সেখানে 'ফ্রন্ট' টিকিটের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৩০০ ডলারের কাছাকাছি। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচগুলোতেও দাম প্রায় তিনগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি তুলনামূলক কম জনপ্রিয় ম্যাচগুলোতেও 'ফ্রন্ট' টিকিটের মূল্য দ্বিগুণ করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ভালো আসনগুলো আগে গোপন রাখা হয়েছিল, যাতে পরে বেশি দামে বিক্রি করা যায়। যদিও ফিফা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। সংস্থাটির দাবি, আগের ধাপে টিকিট বিক্রি হয়েছিল ক্যাটাগরি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট আসন নয়; আর নতুন ধাপে নির্দিষ্ট আসন বিক্রির কারণেই এই 'ফ্রন্ট' ক্যাটাগরি চালু করা হয়েছে।

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, যখন কোটি কোটি আবেদন জমা পড়েছিল, তখন কেন এই সামনের সারির আসনগুলো আগের ক্রেতাদের দেওয়া হয়নি? এর কোনো স্পষ্ট উত্তর দেয়নি ফিফা। বরং পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েই এখন বড় ধরনের সন্দেহ তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটির প্রতি ভক্তদের আস্থায় নতুন করে ধাক্কা দিচ্ছে।