৬৬ বছর ধরে কিউবায় হামলার ছুতা খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ঘরের বাইরে কাঠ, কয়লা ইত্যাদি জোগাড় করে রান্নার চেষ্টা করছেন অনেকে। গায়ে অপুষ্টির ছাপ, পোশাকে দারিদ্র্যের। বিদ্যুৎ-গ্যাস নেই। পেট্রোল পাম্প বন্ধ। বাজার জনশূন্য। পণ্যশূন্য সরকারি দোকান।

রাতের অন্ধকারে বাতিহীন রাজধানী শহরের রাস্তা। খাবারের খোঁজে বিপন্ন মানুষ।

গরম থেকে স্বস্তি পেতে খোলা জায়গায় ঘুমাচ্ছেন কেউ কেউ।

—এসব করুণ দৃশ্য এক সময়ের সমৃদ্ধ দ্বীপরাষ্ট্র কিউবার।

গত ১৫ মে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস মহাক্ষমতাধর যুক্তরাষ্ট্রের এই ছোট্ট প্রতিবেশীর চরম দুর্দশার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ‘অ্যা নেশন গোয়িং ডার্ক’ শিরোনামের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়—কিউবাবাসীকে দুঃখকষ্ট মানিয়ে চলতে হচ্ছে ৬ দশকের বেশি সময় ধরেই।

১৯৫৯ সালে কিউবায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শত্রুতা ও নানান ধরনের অবরোধের কারণে এই দ্বীপের বাসিন্দাদের ওপর নেমে আসে দুর্ভোগ এবং তা চলছে ৬৬ বছর ধরে।

এখন সেই দুর্ভোগ যেন সব সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন সেনারা সব আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে ভেনেজুয়েলা থেকে দেশটির রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে নিউইয়র্কে নিয়ে আসে।

এরপর ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় আসা জ্বালানি তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।

কিউবার দুরবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, দ্বীপটি যেন শিল্পযুগের আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও জানানো হয়—ঘরবাড়ি, শহর-নগর সবকিছু অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে। কলকারখানায় স্থবিরতা।

অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানায়—কিউবায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। দেশটির একটি বড় অংশ অন্ধকারে। এর প্রায় ১ কোটি জনসংখ্যার অধিকাংশ জীবন চালাতে প্রতিদিন হিমশিম খাচ্ছে।
একদিকে, কিউবায় খাবারের সংকট; অন্যদিকে, বিদ্যুতের অভাবে অনেকের ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হয়েছে।

কর্মক্ষেত্রে কর্ম-ঘণ্টা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেক এলাকায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের রাস্তায় জড়ো হয়ে থালা-বাটি বাজিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে।
মধ্য আমেরিকার দেশ নিকারাগুয়া থেকে প্রকাশিত হাভানা টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়—জ্বালানি তেলের অভাবে সাধারণ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ নেই। অথচ, পুলিশের গাড়িতে তেল ঠিকই আছে।

হাভানার রাস্তায় প্রচুর সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়।

‘যুক্তরাষ্ট্র ছুতা খুঁজছে’

অনেকের কাছে মনে হতে পারে—এপ্রিল নয়, মে যেন কিউবাবাসীদের জন্য ‘নিষ্ঠুরতম’ মাস।

১৯৬০ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের মে—দীর্ঘ ৬৬ বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্র ছোট্ট দ্বীপদেশ কিউবায় হামলার ছুতা খুঁজে আসছে। 

বিপরীতে দ্বীপবাসীকে খুঁজে যেতে হচ্ছে ‘হামলা নয়’, ‘প্রতিহামলা নয়’, স্রেফ বেঁচে থাকার পথ।

এমন বাস্তবতায়, চলমান ইরান যুদ্ধের মধ্যেই আরেকটি ‘সংঘাতের’ ডঙ্কা শোনা যাচ্ছে। তাও আবার খোদ যুক্তরাষ্ট্রের দোরগোড়ায়। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য থেকে অনেকটাই ‘ঢিল ছোড়া দূরত্বে’।

‘কিউবার অভিযোগ সামরিক হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ছুতা খুঁজছে’—বিবিসির এমন শিরোনাম অনেকের মনে অতীত জাগিয়ে তুলতে পারে। কেননা, এ ধরনের সংবাদ বিশ্ববাসী পেয়ে আসছে ৬ দশকের বেশি সময় ধরে।

অর্থাৎ, কিউবা করছে ‘অভিযোগ’ আরও যুক্তরাষ্ট্র খুঁজছে ‘ছুতা’।

গত ১৯ মে বিবিসির সেই প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ—ফ্লোরিডায় ড্রোন হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা মূলত কিউবায় হামলার একটি অজুহাত মাত্র।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছিল, কিউবার হাতে ৩০০ ড্রোন আছে এবং সেগুলো দিয়ে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার আলোচনা চলছে।

এদিকে, কিউবার কমিউনিস্ট শাসকদের প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলার সাবেক কমিউনিস্ট রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোর পরিণতি ভোগ করার হুমকি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প।

গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে গোপন অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে তুলে আনার পর অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন এরপর ‘কিউবার পালা’।

বিবিসির প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর তেল নিষেধাজ্ঞার কারণে কিউবা চরম জ্বালানি সংকটে ভুগছে। ট্রাম্প প্রশাসন চাপ দিচ্ছে কিউবার সরকারকে চুক্তিতে পৌঁছাতে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ‘ফ্লোরিডায় সম্ভাব্য হামলার’ সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বলেন, কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘হুমকি নয়’ এবং যুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছাও তাদের নেই।

যুদ্ধে না জড়ানোর ইচ্ছা থাকলেও বাইরের শত্রু দেশের আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষার ইচ্ছা কিউবাবাসী ছাড়েনি বলেও দাবি করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

গত ১৭ মে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক সম্পাদকীয়তে মন্তব্য করা হয়—ট্রাম্প বলেছেন তিনি কিউবা নিয়ে যা চান তাই করতে পারেন। কিন্তু, তার মনে রাখা দরকার যে দ্বীপটি তা ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।

যেভাবে দ্বন্দ্বের শুরু

বিশ্লেষকরা মনে করেন—৬ দশকের বেশি সময় আগে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার সংঘাতের জেরে ধীরে ধীরে ‘ফোকলা’ হয়েছে এক সময়ের সমৃদ্ধ কিউবা।

মহাক্ষমতাধর যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ‘চিড়া চেপ্টা’ কিউবার অর্থনীতি। এক সময়ের ‘আদর্শিক মিত্র’ সোভিয়েত ইউনিয়ন ও বর্তমানের ‘রাজনৈতিক মিত্র’ রাশিয়ার সহায়তায় চলছে ক্যারিবীয় দেশটির সরকার।

যতদিন সোভিয়েত ইউনিয়ন টিকেছিল ততদিন কিউবাকে সমঝেই চলতো যুক্তরাষ্ট্র। মূলত দ্বীপটির ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপানোর মধ্যেই সীমিত ছিল মার্কিন সরকারের ‘চাপ’।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত শাসন ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে বিশ্বব্যাপী কমিউনিস্ট দেশগুলোয় শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের ‘বান’ বয়ে যেতে শুরু করে। তবে সেই ‘পরিবর্তনের’ হাওয়া ঠেকিয়ে রাখে হাভানা।

পৃথিবীতে হাতে গোনা যে কয়েকটি দেশ কমিউনিস্ট বলে দাবি করে, কিউবা তাদের অন্যতম।

ইতিহাস বলছে—১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে কিউবায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমে পতন হয় দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক ফুলহেনসিও বাতিস্তার। এর মাস ছয়েকের মধ্যে কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের সঙ্গে পুঁজিবাদী যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে।

সেসময় কাস্ত্রো তার সরকারের ওপর ‘খড়গহস্ত’ হওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে।

বিপ্লবের পর ব্যক্তিগত সম্পত্তি জব্দ করার পাশাপাশি শীর্ষ সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে কিউবার সরকার। এর ফলে কিউবায় মার্কিন ধনকুবেররা ক্ষতিগ্রস্ত হন।

কিউবায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের এক বছরের মধ্যে কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা পান তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোয়াইট আইজেনহাওয়ার।

কংগ্রেসের সিদ্ধান্তে কিউবার সঙ্গে বাণিজ্য কমিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। পরিস্থিতি এত জটিল হয় যে, ১৯৬১ সালে হাভানার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে ওয়াশিংটন ডিসি।

ব্যর্থ হামলা ও ঐতিহাসিক ‘ক্ষেপণাস্ত্র সংকট’

১৯৬১ সালের ১৫ এপ্রিল কিউবার ইতিহাসে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। আবার যেন সেই দিনের পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে ক্যারিবীয় অঞ্চলের সেই দ্বীপ দেশটিতে।

সেদিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণ নেওয়া কিউবার কমিউনিস্ট সরকারবিরোধী একটি দল হামলা চালিয়েছিল কিউবার কয়েকটি বিমান ঘাঁটিতে। এর দুদিন পর বিরোধীদের কয়েকটি দল মার্কিন সরঞ্জাম সঙ্গে নিয়ে দ্বীপের কয়েকটি অংশে অবতরণ করেছিল।

ব্রিটানিকার তথ্য বলছে: ১৯৬০ সালের মে মাস থেকেই কিউবায় আক্রমণের পরিকল্পনা করে আসছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। পরের বছর ১৫ এপ্রিল হাভানার কাছে দ্বীপটির মধ্য-দক্ষিণাঞ্চলীয় ‘বে অব পিগস’ এলাকায় একদল প্রবাসী কিউবান কমিউনিস্ট ফিদেল কাস্ত্রোর সরকারের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেন।

কাস্ত্রোর হাতে ক্ষমতাচ্যুত বাতিস্তুার সমর্থকদের একটি অংশকে সিআইএ সেই হামলাকারীদের দলে রেখেছিল।
হামলাকারীরা অল্প সময়ের মধ্যেই কিউবার সরকারি বাহিনীর হাতে পরাজিত হন। পরে, মুক্তিপণের মাধ্যমে কাস্ত্রো সরকার আটক ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠায়।

বিশ্লেষকদের অনেকের মতে, প্রবাসী কিউবানদের মার্কিন সরকার যথাযথ সহায়তায় না দেওয়ায় সেই ‘বে অব পিগ’ অভিযান ব্যর্থ হয়েছিল।

কারও মতে, কিউবার সরকারি বাহিনীর তুলনায় হামলাকারীদের সংখ্যা অনেক কম থাকায় অভিযানটি ব্যর্থ হয়।

সিআইএ সমর্থিত অভিযান ব্যর্থ হওয়ার প্রেক্ষাপটেই জন্ম দিয়েছিল কিউবার যুক্তরাষ্ট্র-কাঁপানো ‘ক্ষেপণাস্ত্র সংকট’।

১৯৬২ সালের অক্টোবরে কিউবার নিরাপত্তার জন্য সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাক করে পরমাণু বোমা বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করলে দুই পরাশক্তি যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল।

Aircraft
১৯৬২ সালে একটি রুশ জাহাজের ওপর দিয়ে মার্কিন জেট। ছবি: আর্কাইভ

ব্রিটানিকার তথ্য অনুসারে—পরিস্থিতি এত জটিল হয়েছিল যে, সেই বছর ২৮ অক্টোবর সোভিয়েত রাষ্ট্রপতি নিকিতা ক্রশ্চেভ তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতি জন এফ কেনেডিকে জানান, মস্কো কিউবাতে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন বন্ধ রাখবে। যেসব ক্ষেপণাস্ত্র ইতোমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে সেগুলো ফেরত আনা হবে।

বিনিময়ে, কেনেডি কথা দেন যে যুক্তরাষ্ট্র কখনই কিউবায় হামলা চালাবে না।

তবে বর্তমান মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবা নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেন তা ভবিষ্যৎ দেখা যাবে।

অসম লড়াই

নিজ দেশ থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে মার্কিন সেনাদের যুদ্ধ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও প্রতিবেশী কিউবায় তারা কখনই পা রাখেনি। উল্টো হাভানা হয়েছে হোয়াইট হাউসের ‘ঘুম নষ্টের’ কারণ।

অনেকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নিকটতম ‘শত্রু’ রাষ্ট্র কিউবা। দেশ দুটি ফ্লোরিডা প্রণালী দিয়ে বিভক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য থেকে কিউবার সর্বনিম্ন দূরত্ব প্রায় দেড় শ কিলোমিটার।

ফ্লোরিডার বহুল পরিচিত শহর মায়ামি থেকে কিউবার রাজধানী হাভানার দূরত্ব প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার।

উত্তর আমেরিকার এই দুই বিবদমান দেশের আয়তন, অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তির তুলনা করলে দেখা যায়—যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ; এই তালিকায় কিউবার অবস্থান ৬৯তম।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে ৩২ দশমিক ৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে, কিউবার জিডিপি ধরা হয়েছে ১০৭ বিলিয়ন ডলার।

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার সূচক অনুসারে, সামরিক দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দেশ। তালিকায় ১৪৫ দেশের মধ্যে কিউবার অবস্থান ৬৮তম।

আটলান্টিক মহাসাগরের মেক্সিকো উপসাগর বা অধুনা ‘গালফ অব আমেরিকার’ দ্বীপ দেশ কিউবার আয়তন ১ লাখ ১০ হাজার ৮৬০ বর্গকিলোমিটার।

উপকূলের উল্টো দিকে কিউবার প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রের আয়তন ৯৮ লাখ ৩৩ হাজার ৫২০ বর্গকিলোমিটার।

অর্থাৎ, আয়তনের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র স্প্যানিশভাষী কিউবার তুলনায় প্রায় ৯০ গুণ বড়।

‘গণহত্যার সামিল’

কিউবার রাষ্ট্রপতি মিগেল দিয়াজ-কানেল তার দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অবরোধকে ‘গণহত্যার সামিল’ বলে মন্তব্য করেছেন।

সমাজমাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেছেন, ‘এমন বিকৃত চিন্তার মূল লক্ষ্য হচ্ছে পুরো জাতিকে দুর্দশায় ফেলে দেওয়া। তাদেরকে জিম্মি করা ও তাদেরকে সরকারবিরোধী করে তোলা।’

যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে কিউবার ঘনিষ্ঠ মিত্র ভেনেজুয়েলার মাদুরোকে অপহরণ করে নিউইয়র্কে নিয়ে এসেছে। এ ছাড়াও, তেহরানে আকস্মিক হামলা চলিয়ে কিউবার অপর মিত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের হত্যা করেছে।

বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন: যুক্তরাষ্ট্র এসব করেছে মূলত কিউবাকে ‘পদানত’ করার জন্য। তাদের ভাষ্য: কিউবার ঘনিষ্ঠ মিত্র ভেনেজুয়েলা ও ইরানে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র এবার কিউবায় হামলার অজুহাত খুঁজছে।

ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিনিময়ে দ্বীপ দেশটির রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির পাশাপাশি সেখানকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উদারনীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

গত ১৯ মে ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক রাজনৈতিক সাময়িকী দ্য আটলান্টিকের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়—কিউবার ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অর্থনৈতিক চাপের কারণে দ্বীপবাসীর প্রতিদিনের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও জ্বালানি তেলের সংকটে অনেকটাই থমকে গেছে কিউবাবাসীর জীবন।

বাসিন্দাদের অনেককে তাদের সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

তবে সব ঘটনার নাটকীয় মোড় নেয় গতকাল ২০ মে। সেদিন, মার্কিন বিচার বিভাগ কিউবার সাবেক রাষ্ট্রপতি ৯৪ বছর বয়সী রাউল কাস্ট্রোর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনে।

আজ ২১ মে সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়—১৯৯৬ সালে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় দুটি বেসামরিক উড়োজাহাজ গুলি করে ভূপাতিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার দায়ে রাউলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।