যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনে কিউবায় রুশ তেলবাহী ট্যাঙ্কার
জ্বালানি সংকটে থাকা কিউবায় যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের পর রাশিয়ার একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার পৌঁছেছে।
সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্যাঙ্কারটিতে প্রায় ১ লাখ টন জ্বালানি রয়েছে, যা দেশটির বিদ্যুৎ সংকট সামাল দিতে সহায়তা করবে।
মস্কোর পরিবহন মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আনাতোলি কোলদোকিন’ নামের জাহাজটি বন্দরে তার ‘মানবিক সহায়তা’ কার্গো খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি ব্লুমবার্গকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন রুশ ট্যাঙ্কারটিকে কিউবায় ভিড়তে অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
তারা বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কিউবার কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। অবরোধের পর দ্বীপটির মার্কিন দূতাবাসে জ্বালানি পৌঁছাতেও অনুমতি দিয়েছে সরকার।
রোববার ট্রাম্প এ পরিকল্পনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘কারও এক জাহাজভর্তি জ্বালানি পেতে আমাদের আপত্তি নেই। তাদের বেঁচে থাকতে হবে।’
কিউবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি বলে জানায় ব্লুমবার্গ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অবরোধের কারণে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে দ্বীপজুড়ে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।
গত মাসে জাতিসংঘ সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযান হাসপাতাল, জনস্বাস্থ্য, পানি সরবরাহ ও খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থায় ‘ক্রমশ গুরুতর প্রভাব’ ফেলছে। তারা সব দেশকে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টিকারী পদক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
কিউবার ওয়াশিংটন দূতাবাসের উপপ্রধান তানিয়েরিস দিয়েগেস লা এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে হাজার হাজার অস্ত্রোপচার স্থগিত হয়েছে, গর্ভবতী নারী ও অন্যান্য রোগীরা মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং ডায়ালাইসিস কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
দ্বীপটির প্রায় এক কোটি বাসিন্দা বহু বছর ধরেই পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হলেও ট্রাম্পের অবরোধের অধীনে সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
এই জ্বালানি সরবরাহ কিউবার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে প্রায় এক সপ্তাহ চালানোর জন্য যথেষ্ট হবে।
এর আগে নিউইয়র্ক টাইমস তেলবাহী ট্যাঙ্কার সংক্রান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনার খবর প্রকাশ করেছিল।