স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করেন স্ত্রী, ভাড়াটিয়ার অভিযোগে আটক

নিজস্ব সংবাদদাতা, শরীয়তপুর

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় স্বামীকে হত্যার অভিযোগে আসমা আক্তার (৩৫) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই নারী পুলিশকে জানিয়েছেন, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি তার স্বামী জিয়া সরদারকে (৪২) হত্যা করেছেন।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, গত রাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ থেকে অভিযোগ পেয়ে উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের পালং এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

হত্যার পর মরদেহ টুকরো

‘এরপর আসমার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জিয়ার মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ,’ বলেন আলম।

তিনি জানান, বৃক্ষতলা নামে এলাকার একটি পুকুর থেকে নিহত ব্যক্তির মাথা ও হাড় উদ্ধার করা হয়। এর আগে দুপুর ৩টার দিকে নড়িয়া উপজেলার বাঁশতলা এলাকা থেকে খণ্ডিত দুই হাত ও দুই পা উদ্ধার করা হয়।

ওই নারীর বরাত দিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, হত্যার পর মরদেহ লুকাতে টুকরো টুকরো করেন আসমা। এরপর হাড় ও মাংস আলাদা করে ড্রামে ভরে রাখেন। গত সন্ধ্যায় তিনি অটোরিকশা ভাড়া করে মরদেহের কিছু অংশ বিভিন্ন জায়গায় ফেলে আসেন। মাংস এক ভাড়াটিয়ার ফ্রিজে রাখতে যান আসমা। তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় ভাড়াটিয়াদের সন্দেহ হয়, তারাই ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন।

তবে আসমা দাবি করেছেন, জিয়াই তাকে আগে হত্যার চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষায় তিনি রড দিয়ে মাথায় আঘাত করলে জিয়ার মৃত্যু হয়।

গণমাধ্যমকর্মীদের আসমা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী বিভিন্ন মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতো। নিষেধ করলে আমাকে মারধর করতো। ঘটনার রাতে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। তখন দেখি আমার স্বামী আমার গলায় ধারালো অস্ত্র (বটি) ধরেছে। এরপর আমাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে আমি রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করি। এতে সে মারা যায়। পরে ভয় পেয়ে মরদেহ লুকানোর জন্য ছুরি দিয়ে টুকরো করি এবং বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দিই।’

পুলিশ জানিয়েছে, আসমা আক্তারের বাড়ি পিরোজপুর জেলায়। মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে জিয়া সরদারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

জিয়ার বাড়ি সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদ এলাকায়। তবে বিয়ের পর তিনি সস্ত্রীক শহরের পালং এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

শাহ আলম বলেন, আসমা দাবি করেছেন, তিনি একাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্তে উঠে আসবে।