রোমাঞ্চকর টাইব্রেকারে জিতে ফের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা পিএসজির

স্পোর্টস ডেস্ক

রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেওয়া আর্সেনাল ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে গেল। অন্যদিকে, আক্রমণকেই খেলার রসদ বানানো পিএসজি সমতায় ফিরল দ্বিতীয়ার্ধে। তবে নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও আলাদা করা গেল না দুই দলকে। তাই ফাইনাল গড়াল টাইব্রেকারে। সেখাতে বাজিমাত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতল পিএসজি।

হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালে জিতে ইউরোপের সর্বোচ্চ ক্লাব আসরে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখল ফরাসি লিগের চ্যাম্পিয়নরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত সময়ের খেলাও শেষ হয় ১-১ গোলে। এরপর পেনাল্টি শ্যুটআউটে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নদের ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে উল্লাসে মাতে লুইস এনরিকের শিষ্যরা।

জার্মান ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজ ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে এগিয়ে দেন আর্সেনালকে। এতে দীর্ঘ ২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জেতা গানারদের প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ট্রফি উঁচিয়ে ধরার স্বপ্ন ডানা মেলে। লিড নিয়েই প্রথমার্ধ শেষ করে মিকেল আর্তেতার শিষ্যরা।

তবে দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে আর্সেনালের জমাট রক্ষণে ফাটল ধরাতে সক্ষম হয় আক্রমণের বন্যা বইয়ে দেওয়া পিএসজি। ৬৫তম মিনিটে ব্যালন দি'অরজয়ী ফরাসি ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে পেনাল্টি থেকে সমতা টানেন লড়াইয়ে। ক্রিস্তিয়ান মসকেরা ডি-বক্সে খাভিচা কাভারাতস্খেলিয়াকে ফাউল করায় রেফারি বাজিয়েছিলেন স্পট-কিকের বাঁশি। ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) প্রযুক্তি ব্যবহারের পরও বহাল ছিল সেই সিদ্ধান্ত।

বাকি সময়ে কোনো দলই আর জাল খুঁজে নিতে পারেনি। আর্সেনাল ছিল পাল্টা-আক্রমণে মনোযোগী। গোলমুখে তাদের নেওয়া সাতটি শটের মধ্যে কেবল হাভার্টজের ওই গোলটিই ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে, পিএসজি বল দখলে রেখে আক্রমণ শানাতে থাকে বারবার। গোলমুখে ২১টি শট নিয়ে তারা চারটি লক্ষ্যে রাখলেও দ্বিতীয়বার আর জালের ঠিকানা পায়নি। এর মধ্যে ৭৩তম মিনিটে জর্জিয়ান ফরোয়ার্ড খাভারাতস্খেলিয়ার শট মাইলস লুইস-স্কেলির গায়ে লেগে পোস্ট ছুঁয়ে বাইরে চলে যায়।

ফয়সালার জন্য তাই দ্বারস্থ হতে হয় টাইব্রেকারের। সেখানে পিএসজির প্রথম দুটি ও আর্সেনালের প্রথম শট জালে জড়ায়। এরপর ইংলিশ মিডফিল্ডার এবেরেচি এজের দুর্বল শট লক্ষ্যেই থাকেনি। ফলে আর্সেনালের ডেরা ঢেকে যায় হতাশার কালো মেঘে। কিন্তু পরক্ষণেই তারা উজ্জীবিত হয়ে ওঠে পর্তুগিজ ডিফেন্ডার নুনো মেন্দেসের শট স্প্যানিশ গোলরক্ষক দাভিদ রায়া বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দিলে।

তারপর দুই দলেরই দুটি করে শট গোললাইন অতিক্রম করে। তবে শেষ শটটি নিতে যাওয়া ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল ভেঙে পড়েন চাপের মুখে। তিনি বল উড়িয়ে মেরে বাইরে পাঠিয়ে দিলে আর্সেনালের ইউরোপ সেরা হওয়ার আশা ফের ভেস্তে যায়। এর আগে ২০০৬ সালের ফাইনালে বার্সেলোনার কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল তারা।

বিপরীতে, কাতারি মালিকানাধীন পিএসজি লম্বা সময় ধরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অধরা শিরোপার স্বাদ পাওয়ার খোঁজে ছিল। স্প্যনিশ কোচ এনরিকের অধীনে ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে গুঁড়িয়ে সেই অপেক্ষা গত মৌসুমে শেষ করে দলটি। এবার সাফল্যের ধারা বজায় রেখে তারা উদযাপন করল ট্রফি ধরে রাখার আনন্দ।

১৯৯২ সালে ইউরোপের সর্বোচ্চ ক্লাব প্রতিযোগিতার নাম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ (আগে ছিল ইউরোপিয়ান কাপ) হওয়ার পর এতদিন কেবল স্প্যানিশ পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদেরই ছিল টানা শিরোপা জয়ের কীর্তি। তারা ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হ্যাটট্রিক গড়েছিল। এবার তাদের পাশে নাম লেখাল উড়তে থাকা পিএসজি।