বাংলাদেশকে বিধ্বস্ত করে সিরিজে ফিরল পাকিস্তান

ক্রীড়া প্রতিবেদক

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। বৃষ্টি নামার আগেই শাহিন শাহ আফ্রিদির তোপে হারিয়ে ফেলে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে স্কোরবোর্ডে তখন রান মাত্র ১৫, চাপটা তখন থেকেই স্পষ্ট। পরে বৃষ্টি আইনে লক্ষ্য হয়ে যায় আরও কঠিন।

তবে একপর্যায়ে লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয়ের জুটিতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলে বাংলাদেশ। মনে হচ্ছিল, ম্যাচে ফেরার লড়াইটা জমে উঠতে পারে। কিন্তু সেই আশা বেশি দূর এগোয়নি। হারিস রউফ ও মাজ সাদাকাতের দুর্দান্ত বোলিংয়ে এই জুটি ভাঙার পরই যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে টাইগারদের ব্যাটিং লাইন-আপ। শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানেই হার মানতে হয় স্বাগতিকদের।

শুক্রবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশকে বৃষ্টি আইনে ১২৮ রানে হারায় পাকিস্তান। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৭.৩ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রান করে তারা। জবাবে ২৩.৩ ওভারে মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা।

প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে বিধ্বস্ত করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচের এমন দাপুটে জয়ে সিরিজে ফিরে এলো সফরকারী দলটি।

বৃষ্টির পর তাওহিদকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন লিটন। ৪৮ রানের জুটিও গড়েন তারা। কিন্তু সাদাকাতের বলে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পরেন লিটন। যদিও আম্পায়ার শুরুতে আউট দেননি। রিভিউ নিয়ে তাকে ফেরায় পাকিস্তান। তার বিদায়ের পর ভেঙে পড়ে বাংলাদেশ। কেউ দায়িত্ব নিতে পারেননি। ৪১ রান তুলতেই হারায় শেষ ৭ উইকেট।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪১ রানের ইনিংস খেলেন লিটন। তাওহিদ করেন ২৮ রান। এ দুই ব্যাটার ছাড়া দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছেন সাইফ হাসান ও আফিফ হোসেন। ফলে বড় ব্যবধানেই হারতে হয় টাইগারদের। 

পাকিস্তানের পক্ষে ২৩ রানের খরচায় ৩টি উইকেট নেন সাদাকাত। এছাড়া ৩টি শিকার করেন হারিস রউফও। শাহিন শাহ নেন ২টি উইকেট।

এর আগে টস জিতে আগের ম্যাচের মতোই ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মিরাজ। তবে শুরুটা আশানুরূপ হয়নি স্বাগতিকদের জন্য। আগের ম্যাচে পাঁচ উইকেট শিকার করা নাহিদ রানা এদিন শুরুতে ছিলেন ছন্নছাড়া। সেই সুযোগে পাকিস্তানি দুই ওপেনার মাজ সাদাকাত রীতিমতো তান্ডব চালান। তাতে মাত্র ১২.২ ওভারেই দলীয় শতরান পূর্ণ করে পাকিস্তান।

তবে দ্রুতই ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজে পায় বাংলাদেশ। ব্রেক-থ্রু এনে দেন খোদ অধিনায়ক মিরাজ; সাজঘরে ফেরান ভয়ংকর হয়ে ওঠা সাদাকাতকে। এরপরই পথ হারায় পাকিস্তান। তাসকিন আহমেদের বলে ফারহান এবং নাহিদ রানার শিকারে পরিণত হয়ে শামিল হোসেন বিদায় নিলে ১২২ রানেই ৩ উইকেট হারায় তারা। চতুর্থ উইকেটে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আগা মিলে ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন। এই জুটিতে আসে ১০৯ রান, যা পাকিস্তানকে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল।

কিন্তু ম্যাচের সব নাটকীয়তা যেন জমা ছিল ইনিংসের ৩৯তম ওভারের জন্য। মিরাজের একটি ডেলিভারি রিজওয়ান বোলারের দিকে ঠেলে দিলে মিরাজ সেটি পা দিয়ে থামান। এসময় নন-স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা সালমান আগা অনেকটা অসতর্কভাবেই ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন এবং বলটি কুড়িয়ে মিরাজের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বল তখনো ‘ডেড’ হয়নি দেখে উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দেন মিরাজ; দ্রুত বল তুলে নিয়ে আন্ডারআর্ম থ্রোতে স্টাম্প ভেঙে দেন। আম্পায়ারদের দীর্ঘ পর্যালোচনার পর নিয়ম অনুযায়ী সালমানকে আউট ঘোষণা করা হলে মাঠে গড়ায় চরম উত্তেজনা।

৬২ বলে ৬৪ রানের ইনিংস খেলে এভাবে বিদায় নেওয়াটা মেনে নিতে পারেননি সালমান। সাজঘরে ফেরার আগে মিরাজের সঙ্গে তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়ান তিনি। মাঠ ছাড়ার সময় রাগে-ক্ষোভে হেলমেট ও গ্লাভস ছুঁড়ে মারতেও দেখা যায় এই ব্যাটারকে। সালমানের এই বিতর্কিত বিদায়েই যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন-আপ। একই ওভারে মিরাজকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ধরা পড়েন থিতু হওয়া রিজওয়ানও (৪৪)।

এরপর আর কেউই দলের হাল ধরতে না পারায় ১৫ বল বাকি থাকতেই ২৭৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে বোর্ডে মাত্র ৪৩ রান যোগ করতে পেরেছে পাকিস্তান, এমনকি পুরো ৫০ ওভারও টিকতে পারেনি তারা

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৫ রান আসে সাদাকাতের ব্যাট থেকে; মাত্র ৪৬ বলে ৬টি চার ও ৫টি ছক্কায় এই বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে ৫৬ রান খরচায় ৩টি উইকেট নেন লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন। অধিনায়ক মিরাজ নেন ২টি উইকেট।