সেঞ্চুরি মিস করায় বাসায় ফিরলে বউ গালি দিতে পারে: মুমিনুল
দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেও সেঞ্চুরি পাননি মুমিনুল হক। শতকের মাত্র ৯ রান দূরে থাকতে আউট হওয়া এই বাঁহাতি ব্যাটার অবশ্য বললেন, ব্যক্তিগত মাইলফলকের চেয়ে দলের রান তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে রসিকতার সুরে যোগ করলেন, বাসায় ফিরলে স্ত্রীর কাছে বকা খেতে হতে পারে।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুলকে পরপর তিনটি ইনিংসে সেঞ্চুরি মিস করা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘না, আক্ষেপ হয় না। তবে আজকে সামান্য আক্ষেপ হয়েছিল, কারণ হয়তো বাসায় ফেরার পর বউ গালি দিতে পারে।’
হাসির ছলে বলা এই কথার পরেই অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি দিলেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। তার ভাষায়, ‘সত্যি বলতে, আমার কাছে ১০০ করার চেয়ে প্রতিদিন দলের জন্য রান করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
সেঞ্চুরি না হওয়ার পেছনে কোনো মানসিক বাধা আছে কিনা জানতে চাইলে মুমিনুল স্বীকার করেন, কোনো মানসিক বিষয় থাকতে পারে, যা তিনি এখনো পুরোপুরি চিহ্নিত করতে পারেননি। তবে তিনি বলেন, ‘আমি চেষ্টা করছি আরও বেশি মনোযোগী হতে, যাতে ব্যাটিং সেশনগুলো দীর্ঘায়িত হয়। সেশন বড় করতে পারলে সেঞ্চুরি এমনিতেই আসবে।’
নিজের আউট হওয়া নিয়ে মুমিনুল জানান, ইনিংসের শেষ দিকে তিনি মোটেও মন্থর হননি বরং পরিস্থিতি বিবেচনা করেই খেলছিলেন। তার কথায়, ‘আমি দেখছিলাম যে সে সময় রানের জন্য অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন ছিল না। টার্গেট ছিল আরও এক ঘণ্টা খেলা, এবং স্বাভাবিক ক্রিকেট খেললে সেটি সম্ভব ছিল। বোলার ভালো বল করছিল, আমি স্বাভাবিকভাবেই খেলছিলাম। তবে একটি বল কিছুটা নিচু হয়ে যাওয়ায় আউট হয়ে যাই।’
ব্যক্তিগত ফর্ম নিয়ে মুমিনুল বলেন, ‘সেঞ্চুরি আসলে সবাই চায়। আমি বর্তমানে নিজের ব্যাটিং উপভোগ করার চেষ্টা করছি এবং অতিরিক্ত চিন্তা না করে স্বাভাবিক পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলছি। আমার লক্ষ্য থাকে নিজের প্রক্রিয়ায় স্থির থাকা।’
দিনের সবচেয়ে আলোচিত পারফরম্যান্স ছিল অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরি। মুমিনুল জানান, অপর প্রান্ত থেকে শান্তর ব্যাটিং দেখাটা তিনি ভীষণ উপভোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি যখন ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম, তখন অন্য প্রান্তে বড় খেলোয়াড়দের ব্যাটিং উপভোগ করতাম। আমার চোখে দেখা শান্তর এই ইনিংসটি তার জীবনের অন্যতম সেরা ইনিংস।’
উইকেট সম্পর্কে মুমিনুল বলেন, সামগ্রিকভাবে নতুন বলে এই পিচে চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি ছিল। বল দুই দিকেই মুভ করছিল এবং সুইং হচ্ছিল। তবে একবার সেট হয়ে গেলে এখানে রান করা সম্ভব। তাঁর ব্যক্তিগত পরিকল্পনা ছিল এক বল করে খেলা এবং দীর্ঘ সময় ক্রিজে থাকা। তিনি বলেন, 'দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করতে পারলে ৪০০-৫০০ রান এমনিতেই হয়ে যায়।'
পরের দিনের পরিকল্পনা নিয়ে মুমিনুল জানান, সকালের প্রথম এক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো উইকেট না হারিয়ে সেই সময়টা পার করতে পারলে দল ৪০০ থেকে ৪৫০ রান তুলতে সক্ষম হবে বলে মনে করেন তিনি।
উল্লেখ্য, শুক্রবার শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশ ৪ উইকেটে ৩০১ রান তুলেছে। শান্ত ও মুমিনুল তৃতীয় উইকেটে ১৭০ রানের জুটি গড়ে দলকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করান। শান্ত সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন, তবে মুমিনুল থামেন ৯১ রানে। দিনের শেষে মুশফিকুর রহিম ৪৮ রানে এবং লিটন দাস ৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন।