শান্ত-মুমিনুলের দৃঢ়তায় মিরপুরে বাংলাদেশের দাপট

ক্রীড়া প্রতিবেদক

দিনের শুরুর গল্পটা পাকিস্তানের। অনেকটা সবুজ উইকেটে টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নেয় তারা। সেখানে সূচনাও দারুণ। তবে এরপর দিনের বাকি অংশে দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ। আর তা এসেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হকের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে। তাতে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনটা কেবলই টাইগারদের।

শুক্রবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচের প্রথম দিন শেষে ৪ উইকেটে ৩০১ রান তুলেছে বাংলাদেশ। শান্তর দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও মুমিনুলের দারুণ ইনিংসে ভর করে এই রান তুলেছে স্বাগতিকরা। দিনের প্রতিটি সেশনেই বাংলাদেশ ১০০ বা তার বেশি রান সংগ্রহ করে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে।

সকালে পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদের বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত কাজে দেয়। সবুজ ঘাসে মোড়া উইকেটে শুরুতেই সুবিধা আদায় করে নেন পেসাররা। দলীয় মাত্র ৩১ রানেই ফিরে যান দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় এবং সাদমান ইসলাম। জয় ৮ রান করে শাহীন শাহ আফ্রিদির বলে এবং সাদমান ১৩ রান করে হাসান আলির বলে আউট হলে শুরুতেই বিপদের স্পষ্ট আভাস পায় বাংলাদেশ।

তবে খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তোলেন শান্ত ও মুমিনুল। শুরুর জড়তা কাটিয়ে পাকিস্তানি পেসারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে থাকেন তারা। ড্রিংকস বিরতির পর থেকে বদলে যায় খেলার চিত্র। শাহীন আফ্রিদি ও মোহাম্মদ আব্বাসদের গতি ও মুভমেন্ট কমে এলে হাত খুলে খেলতে শুরু করেন এই দুজন। এই দুই বাঁহাতি ব্যাটারের ১৭০ রানের অনবদ্য জুটি পাকিস্তানের বোলারদের দীর্ঘ সময় পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে রাখে।

অধিনায়ক শান্ত খেলেছেন আক্রমণাত্মক ও দৃষ্টিনন্দন এক ইনিংস। পেসারদের শরীর খুলে ড্রাইভ করার পাশাপাশি স্পিনার নোমান আলিকে দারুণভাবে সামলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের নবম টেস্ট সেঞ্চুরি। কভার অঞ্চলে চমৎকার শট খেলে শতক পূর্ণ করে শূন্যে লাফিয়ে মুষ্টিবদ্ধ হাতে উদযাপন করেন তিনি।

তবে এই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পরের বলেই মোহাম্মদ আব্বাসের ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন শান্ত। আম্পায়ার প্রথমে নট আউট দিলেও রিভিউ নিয়ে সাফল্য পায় পাকিস্তান, বল আঘাত হেনেছিল মিডল স্টাম্পের ওপরের অংশে।

অন্যদিকে, স্বভাবসুলভ ধৈর্যের প্রতিমূর্তি হয়ে থাকা মুমিনুল হক অসাধারণ সব লেট কাটে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন। তবে অসাধারণ খেলেও শতকের খুব কাছে গিয়ে ৯১ রানে থামতে হয় তাকে। এই দুজনের ১৭০ রানের মহাকাব্যিক জুটিই মূলত বোলারদের দীর্ঘ সময় নিষ্প্রভ করে রেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে এনে দেয়।

দুই সেট ব্যাটারকে ফিরিয়ে পাকিস্তান ম্যাচে ফেরার কিছুটা ইঙ্গিত দিলেও, শেষ বেলায় দেয়াল হয়ে দাঁড়ান অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। নোমান আলির ওপর চড়াও হয়ে সাবলীল ব্যাটিংয়ে দলের স্কোর তিনশো পার করেন তিনি। দিন শেষে মুশফিক ৪৮ এবং লিটন দাস ৮ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।