চট্টগ্রাম

থানায় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

 এফ এম মিজানুর রহমান
এফ এম মিজানুর রহমান

চট্টগ্রামে থানায় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে আটক স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ কয়েকজনকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে।

গতকাল সোমবার রাতে চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ইমাম হোসেন আবির চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
 

পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ৯টার দিকে ৯৯৯ নম্বরে আসা ফোনে পাওনা টাকার জন্য এক যুবককে আটক রাখার খবর পেয়ে চট্টগ্রামের টাইগারপাস রেলওয়ে কলোনি এলাকায় যায় পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে ওই যুবকসহ পাঁচজনকে থানায় নেওয়া হয়। পরে রাতে থানায় যান ছাত্রদল নেতা আবির ও তার সহযোগীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পুলিশ সদস্য দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, থানায় যাওয়ার পর ওসির সঙ্গে আবিরের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান আবির ও তার সহযোগীরা।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন ডেইলি স্টারকে বলেন, পাওনা টাকার বিরোধে দুই পক্ষকে থানায় আনা হয়েছিল। এ সময় নিজেকে ছাত্রদল নেতা পরিচয় দিয়ে এক যুবক থানা কম্পাউন্ডে আসেন। সেখানে কিছু ভুল বোঝাবুঝি থেকে তিনি হট্টগোল শুরু করেন। পুলিশ তাকে বুঝিয়ে শান্ত করে। পরে উভয় পক্ষ জানায়, তারা নিজেরাই পাওনা টাকার বিরোধ মিটিয়ে নেবে। এরপর তারা চলে যান।

তার দাবি, সেখানে ধস্তাধস্তি বা অন্যকিছু হয়নি।

এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা ইমাম হোসেন আবির ডেইলি স্টারকে বলেন, পাওনা টাকা আদায়ের জন্য এক যুবককে স্থানীয় ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সাগর হোসেন রুবেলের ক্লাবে নিয়ে আসেন কয়েকজন। তারা সবাই একে অপরের পরিচিত ছিলেন। সেসময় ওই যুবকের মা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, ঘটনার সময় রুবেল ক্লাবে ছিলেন না। খবর পেয়ে তিনি থানায় গেলে তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার ও গায়ে হাত তোলেন এক এএসআই। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তাকে লকআপে রাখা হয়। বিষয়টি জানার পর আমি কর্মীদের নিয়ে থানায় গেলে আমার সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করা হয়। সেসময় ওসির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে পুলিশ সদস্যরা আমাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেন। পরে রুবেলকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার নুর আলম মাহমুদ ডেইলি স্টারকে বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ কয়েকজনকে থানায় এনেছিল। নিজেরাই মিটমাট করবেন জানালে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়। থানায় তেমন কিছুই হয়নি।