বাজারে বড় ইলিশের সরবরাহ কম, দামও চড়া
বাঙালি ঐতিহ্য পহেলা বৈশাখে নানা আয়োজনের পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে মাটির পাত্রে পান্তা-ইলিশ।
বছরের এই সময়ে ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে জাতীয় মাছ থাকলেও এবার চাহিদা অনুসারে সরবরাহ করতে পারছেন না বিক্রেতারা।
সোমবার রাজধানী ঢাকার কারওয়ান বাজারসহ শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া ও মিরপুর-১১ নম্বর এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরের মতো এবারও বেড়েছে ইলিশের দাম।
তবে দাম বাড়লেও এসব বাজারে টাটকা বড় ইলিশ দেখা যায়নি।
ব্যবসায়ীরা জানান, নদীতে বড় ইলিশ নেই বললেই চলে, যে কারণে সরবরাহ কম। টাটকা যা আসছে, সবই ছোট আকারের।
‘১ কেজি ওজনের একটি ইলিশ ধরা পড়লে সেটার যে দাম হয়, আমরা বাজারে রাখতে পারি না। টাটকা বড় ইলিশ চলে যায় সুপার শপে,’ দ্য ডেইলি স্টারকে বলছিলেন কারওয়ান বাজারের মাছ ব্যবসায়ী শুক্কুর আলী।
তার দোকানে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১০০০-১২০০ টাকা কেজি, ৪৫০ গ্রামের ইলিশ ১৬০০-১৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়।
টাটকা বড় ইলিশ কিনবেন বলে কারওয়ান বাজারের ৭-৮ দোকান ঘুরেছেন ইস্কাটনের বাসিন্দা আমেনা বেগম। পছন্দ অনুযায়ী মাছ না পেয়ে তিনি শুক্কুর আলীর দোকানেও আসেন।
আমেনা ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘প্রতি বছর বৈশাখের প্রথম দিনে আমরা পান্তা-ইলিশ খাই। এটা আমাদের পারিবারিক রেওয়াজ হয়ে গেছে। আমাদের পাঁচ সদস্যের পরিবার। টাটকা বড় ইলিশ পুরো বাজারে পেলাম না। যে কারণে ৪৫০ গ্রাম ওজনের একটা মাছ কিনেছি।’
গ্রিন রোডের একটি বাসার কেয়ারটেকার লোকমান হোসেন। তাকেও কারওয়ান বাজারে ইলিশের দর-দাম করতে দেখা যায়।
জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘টাটকা বড় ইলিশের এবার যে দাম, স্যারের (গৃহকর্তা) নাগালের বাইরে চলে গেছে। যে কারণে বাজার থেকে হিমাগারের মাছ কিনতে এসেছি।’
১ হাজার ৯০০ টাকা কেজি দরে ৯০০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ কেনেন লোকমান।
ফার্মগেট এলাকার একটি সুপার শপ ঘুরে দেখা যায়, ১ কেজি ওজনের টাটকা ইলিশের দর ৪ হাজার ৬০০ টাকা।
প্রশ্ন করা হলে ওই প্রতিষ্ঠানের দুজন কর্মী জানান, বড় মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম এত বেশি।
‘গত সপ্তাহেও ফ্রেশ ১ কেজি ওজনের ইলিশের কেজি ছিল ৩ হাজার টাকা,’ বলেন তারা।
তবে এই দুই বিক্রয়কর্মী পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি।
লোকমানের মতে, যারা নিয়মিত মাছ কেনেন না, তাদের পক্ষে টাটকা ও হিমাগারের ইলিশের পার্থক্য করা কঠিন।
‘স্বাদের পার্থক্য বোঝা যায় রান্নার পরে,’ বলেন তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাছ ব্যবসায়ী শুক্কুর বলেন, ‘ঘাটে যখন ইলিশের দাম একদম কম থাকে, সেই সময় আমরা কিছু মাছ প্রক্রিয়াজাত করে হিমাগারে রেখে দেই। পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও হিমাগারের খরচ মিলিয়ে আমাদের প্রতি কেজিতে প্রায় ১৫০ টাকা ব্যয় হয়। এই মাছগুলোই সংকটের সময় বাজারে আসে।’
‘অনেক ব্যবসায়ী আমাদের কাছ থেকে কিনে এই হিমায়িত মাছ বিক্রি করেন। প্রক্রিয়াজাত করায় মাছ দেখতে প্রায় একই রকম থাকে। ফলে অনেকেই টাটকা ও দীর্ঘ দিন হিমাগারে থাকা মাছের পার্থক্য করতে পারেন না,’ যোগ করেন তিনি।
কারওয়ান বাজারের ইলিশ বিক্রেতা মো. সুমন বলেন, ‘হিমাগারের ইলিশ আমরা এক সপ্তাহ ধরে কিনে আনছি। বড় ফ্রেশ ইলিশ কম পাওয়া যায়।’
‘আবার যে দাম, আমরা কারওয়ান বাজারে বিক্রি করতে পারবো না। যে কারণে এগুলো সুপার শপে চলে যায়। হিমাগারের ইলিশ ১০০-১৫০ টাকা লাভ রেখে আমরা বিক্রি করছি,’ বলেন সুমন।
ক্রেতারা বলেন, টাটকা ছোট ইলিশের দামও সপ্তাহের ব্যবধানে ১০০-১৫০ টাকা বেড়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, হিমাগারের ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ এবং ১ কেজি ওজনের ইলিশ বাজার ভেদে ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
রোকেয়া সরণির ফুটপাতের বাজারের মাছ বিক্রেতা ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘প্রতি পহেলা এবারও বড় ইলিশের চাহিদা বেশি ছিল। তবে সরবরাহ না থাকায় অনেকেই টাটকা ছোট ইলিশ কিনে নিয়ে গেছেন।’