৫ তারকার স্মৃতিতে পহেলা বৈশাখ

শাহ আলম সাজু
শাহ আলম সাজু

আজ পহেলা বৈশাখ। নতুন বছরের প্রথম দিনটি বাঙালির জীবনে নিয়ে আসে উৎসব, আনন্দ আর নতুন প্রত্যাশা। এই বিশেষ দিনকে ঘিরে যেমন সাধারণ মানুষ মেতে ওঠেন, তেমনি তারকারাও ফিরে যান স্মৃতির পেছনে। ছেলেবেলার পহেলা বৈশাখ নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন পাঁচ জ্যেষ্ঠ তারকা।

মামুনুর রশীদ

আমাদের ছেলেবেলায় পহেলা বৈশাখে মেলা বসত গ্রামে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসতেন মেলায়। সেই মেলায় মজার মজার খাবার পাওয়া যেত। লোভনীয় সব খাবার। আমরা মেলা থেকে খাবার কিনে খেতাম। খুব আনন্দ করতাম। অপেক্ষা করতাম কবে পহেলা বৈশাখ আসবে।

এ ছাড়া, আমাদের ছেলেবেলায় পহেলা বৈশাখ পুতুলনাচ হত। কী যে আকর্ষণীয় ছিল পুতুলনাচ! দল বেঁধে পুতুলনাচ দেখতাম। এখনো স্মৃতিগুলো চোখে ভাসে। এখনো সবকিছু মনে পড়ে। সত্যি কথা বলতে, পহেলা বৈশাখ আমাদের জীবনে বড় উৎসব। দিনটি সবার।

তবে, পহেলা বৈশাখে ঝড়-বৃষ্টিও হতো। দিনের শেষে ঝড় এসে সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দিত। পরের দিন সকালে আবারও নতুন করে সব ঠিকঠাক করে ফের মেলায় দোকান বসত। কেননা, মেলা হতো কয়েকদিন ধরে। কিন্তু, পহেলা বৈশাখের দিন বেশি জমজমাট থাকত। দিনভর মেলায় ঘুরে বেড়াতাম।

আবুল হায়াত

ছেলেবেলায় অনেকগুলো বছর কেটেছে চট্টগ্রাম শহরে। অনেক স্মৃতি আছে। সেই সময় দেওয়ান হাটে চৈত্র সংক্রান্তি হতো। চৈত্র সংক্রান্তিতে মেলার মতো হতো। অনেক মানুষ আসতেন। ওখানে যাওয়ার স্মৃতি আছে। স্মৃতিগুলো আজও ভুলিনি।

পহেলা বৈশাখে তখনকার দিনে হালখাতা হতো। একটা উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করত। আসলে পহেলা বৈশাখ দিনটি আমাদের সবার। বছরের নতুন দিন শুরু হয়। সবাই ভালো কিছু প্রত্যাশা করেন। বিশেষ দিনে সবার জন্য শুভকামনা। সবার জীবনে সুখ শান্তি বিরাজ করুক। ছেলেবেলার পহেলা বৈশাখের মতো এখনকার বৈশাখও সবার জীবনে আনন্দ বয়ে নিয়ে আসুক।

রফিকুল আলম

আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা রাজশাহীতে। ছেলেবেলায় পহেলা বৈশাখের যত স্মৃতি, সবই রাজশাহী-কেন্দ্রিক। শহরে দরগাপাড়া নামে একটি জায়গা আছে। ওখানে পহেলা বৈশাখে মেলা হতো। অনেক মানুষ আসতেন মেলায়। আমাদের মতো স্কুলপড়ুয়াদের খুব আনন্দের বিষয় ছিল পহেলা বৈশাখ। স্কুলের বন্ধুরা কিংবা পরিবারের সমবয়সীরা দল বেঁধে মেলায় যেতাম, সেই স্মৃতি এখনো মনে পড়ে। ওইরকম আনন্দ আর হবে না। ওইরকম ভালোলাগা আর হবে না।

ওখানে একটা মাঠ ছিল। অনেক মানুষ আসতেন। তাছাড়া, ছেলেবেলায় যখন স্কুলে পড়ি, তখন স্কুলে স্কুলে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে অনুষ্ঠান হতো, গানের আয়োজনও হতো। তখনো অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার মতো অবস্থা আমার হয়নি। কিন্তু, আমরা দলবেঁধে শুনতে যেতাম। খুব মজা করতাম। স্কুলজীবনে দেখেছি, রাজশাহীতে অনেকগুলো মাড়োয়ারি পরিবার থাকত। আমার বেশ কয়েকজন মাড়োয়ারি বন্ধুও ছিল। একজনের নাম হিরালাল সেন। ওর সাথে কত স্মৃতি আছে! আসলে পহেলা বৈশাখটা অন্যরকম আনন্দের একটি দিন।

ওয়াহিদা মল্লিক জলি

ছোটবেলায় আমার পহেলা বৈশাখ কেটেছে রাজশাহী শহরে। খুব আনন্দ করতাম। বৈশাখী মেলা হতো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো। স্কুলের অনুষ্ঠানে কবিতা পড়তাম। এটা প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে করতে হতো। খুব আনন্দ নিয়ে কবিতা পড়তাম। এখনো মনে পড়ে, ছোটবেলায় পহেলা বৈশাখে অনেক দায়িত্ব পালন করতে হতো আমাকে।

রাজশাহীতে কড়াইতলা নামে একটি জায়গা আছে, ওখানে পহেলা বৈশাখে অনুষ্ঠান হতো। আমরা যেতাম এবং অনেক আনন্দ করতাম। মজার মজার খাবার বিক্রি হতো। হাওয়াই মিঠাইয়ের কথা ভুলিনি এখনো। পহেলা বৈশাখ আমার মা-বাবার বিয়েবার্ষিকী, সেজন্য বাড়িতে উৎসব হতো। খিচুড়ি রান্না হতো। বাবার কাছের মানুষেরা আসতেন। স্মৃতিগুলো খুব মনে পড়ে।

রহমত আলী

রাজশাহীর ঘোড়ামারায় আমাদের বাড়িতে চৈত্র সংক্রান্তিতে খুব বড় আয়োজন হতো। মায়ের জন্যই এটা হতো। কত মানুষ আসতেন বাড়িতে। কেউ না খেয়ে যেতে পারতেন না। লুচি রান্না হতো। আরও অনেক কিছু রান্না হতো।

তারপর, পহেলা বৈশাখের দিন রাজশাহী শহরে বৈশাখী মেলা হতো। ওখানে ছুটে যেতাম। আমাদের ঘোড়ামারাতেও মেলা হতো। তবে, নওগাঁয় গ্রামের দিকে পহেলা বৈশাখে বড় মেলা হতো। গ্রামীণ মেলা যেমন হয় আরকি। নওগাঁর মেলায় আমি যেতাম। আসলে, আমদের জীবনে পহেলা বৈশাখের গুরুত্ব অনেক।