শরীর ঠান্ডা রাখে যে খাবারগুলো
গরমকালে টেলিভিশনে একটি বিজ্ঞাপন প্রায়ই দেখা যায়, যেখানে সূর্যকে এমনভাবে দেখানো হয় যেন সে একটি স্ট্র দিয়ে মানুষের শরীর থেকে জুসের মতো পানি শুষে নিচ্ছে। পানিশূন্যতার কারণে সেই ব্যক্তি শরীরে অস্বস্তি অনুভব করে এবং ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে সে এতটাই দুর্বল হয়ে যায় যে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এটি একটি কাল্পনিক দৃশ্য হলেও প্রচণ্ড গরমের দিনে আমাদের শরীরে প্রায় একই ধরনের প্রভাব পড়ে।
ঘামের মাধ্যমে শরীর নিজেকে ঠান্ডা রাখে। কিন্তু এর ফলে শরীরে পানি ও ইলেকট্রোলাইটের চাহিদা বেড়ে যায়। যখন পরিবেশের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়, তখন দেহের স্বাভাবিক কুলিং সিস্টেমের পক্ষে শরীরকে ঠান্ডা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এ সময় শরীর ঠান্ডা রাখে—এ ধরনের খাবারগুলো খেলে গরমের দিনে অনেকটাই স্বস্তি পাওয়া যায়। পাশাপাশি এসব খাবার পানিশূন্যতা রোধ করতে সাহায্য করে এবং হজমশক্তি বাড়ায়। খেয়াল করলে দেখা যায়, কিছু কিছু খাবার খেলে আমাদের মধ্যে এক ধরনের আরাম অনুভূত হয়।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন এমএইচ সমরিতা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের পুষ্টিবিদ আঞ্জুমান আরা শিমুল। তিনি বলেন, ‘তীব্র গরমে শরীরকে সুস্থ, সতেজ ও ঠান্ডা রাখতে সঠিক খাবার নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। এ সময় শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখা এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক খাবার ও পানীয় গ্রহণ করা উচিত।’
শরীর ঠান্ডা রাখতে সহায়ক খাবার ও পানীয়
তরমুজ
গ্রীষ্মকালের একটি জনপ্রিয় ফল হলো তরমুজ। এতে প্রায় ৯২ শতাংশ পানি থাকে, যা শরীর ঠান্ডা রাখতে ও পানিশূন্যতা প্রতিরোধে সহায়তা করে। এছাড়াও এতে রয়েছে ভিটামিন সি ও লাইকোপেন (এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট)। তরমুজ খেলে শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ হয় এবং কোষের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
শসা
প্রায় ৯৫ শতাংশ পানি সমৃদ্ধ শসা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং টক্সিন বের করতে সহায়তা করে। এতে উচ্চমাত্রায় ফাইবারও রয়েছে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। গরমের দিনে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে অনেকেই এ সমস্যায় ভোগেন। শসা খুবই রিফ্রেশিং একটি সবজি এবং এতে ক্যালরির পরিমাণও কম। শুধু তাই নয়, দিনের শেষে চোখের ক্লান্তি দূর করতে শসা পাতলা করে কেটে কিছুক্ষণ চোখের ওপর রাখলে আরাম পাওয়া যায়। গরমের দিনে শসা সত্যিই আমাদের পরম বন্ধু।
ডাব
ডাবের পানি একটি প্রাকৃতিক মিষ্টি পানীয়। এটি প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ, যা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করে এবং শরীর ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে।
আম
কাঁচা আম দিয়ে তৈরি আমপোড়া শরবত হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
টক ফল (কমলা, জাম্বুরা)
এই টক জাতীয় ফলগুলো শরীরে ভিটামিন ‘সি’-এর চাহিদা পূরণ করে এবং পানিশূন্যতা প্রতিরোধে সহায়তা করে।
টক দই ও বাটারমিল্ক
প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ দই হজমশক্তি বাড়ায় এবং শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। দই-চিঁড়া বা দইয়ের লাচ্ছিও উপকারী। প্রতিদিন এক থেকে দুইবার বাটারমিল্ক পান করলে তা শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
পুদিনা পাতা
পুদিনা পাতায় থাকা মেন্থল প্রাকৃতিকভাবে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। এটি বিভিন্ন ধরনের রান্না ও শরবতে ব্যবহার করা হয়। পুদিনা শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শরীরে এক ধরনের শীতলতা এনে দেয়।
সবজি
লাউ, ঝিঙে, পটল, চিচিঙ্গা, করলা এবং শাক (পালং, পুঁই)—এ ধরনের সবজিতে পানির পরিমাণ বেশি থাকে, যা শরীরে পানির চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। এছাড়া এগুলো সহজপাচ্য এবং বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ। ফলে অতিরিক্ত ঘামের কারণে যে ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি তৈরি হয়, তা পূরণ করতে সাহায্য করে।
তোকমা দানা
তোকমা দানা পানিতে ভিজিয়ে খেলে শরীর দ্রুত ঠান্ডা হতে সাহায্য করে।
পান্তা ভাত
পান্তা ভাত পেট ঠান্ডা রাখতে এবং শরীরের খনিজ লবণের ভারসাম্য বজায় রাখতে কার্যকর।
লেবুর শরবত
ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ লেবুর শরবত শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়তা করে।
ছাতুর শরবত
ছাতুর শরবত শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
যেসব খাবার এড়িয়ে চলা ভালো
অতিরিক্ত মাংস, বিশেষ করে লাল মাংস
ভাজাপোড়া খাবার
অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার
ক্যাফেইনসমৃদ্ধ পানীয় (চা ও কফি)



