ইরানে ফিরেই বীরের সংবর্ধনা, তবে চলছে বিতর্কও
আশ্রয় প্রার্থনা ঘিরে তুমুল বিতর্ক, আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আর রাজনৈতিক টানাপোড়েন, সবকিছু পেরিয়ে দেশে ফিরেই বীরের মর্যাদা পেল ইরানের নারী ফুটবল দল। তবে এই উষ্ণ সংবর্ধনার আড়ালে চাপ, অভিযোগ আর অস্বস্তির কোনো জটিল গল্প রয়েছে কিনা তা নিয়েই চলছে নানা গুঞ্জন।
অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত নারী এশিয়ান কাপে অংশ নিতে গিয়ে ইরান দলের ছয় খেলোয়াড় ও একজন স্টাফ সদস্য আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। মূলত প্রথম ম্যাচে জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়াকে কেন্দ্র করে দেশে সমালোচনার ঝড় ওঠার পরই এই সিদ্ধান্ত নেন তারা। তবে পরবর্তীতে পাঁচজন খেলোয়াড় সেই আবেদন প্রত্যাহার করে দলের সঙ্গে দেশে ফেরেন।
বুধবার দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে মালয়েশিয়া, ওমান ও তুরস্ক হয়ে তেহরানে পৌঁছায় দলটি। পরদিন রাজধানীর ভ্যালিয়াসর স্কয়ারে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে তাদের দেওয়া হয় জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা। জাতীয় পতাকা হাতে সমর্থকদের ভিড়, বড় পর্দায় খেলোয়াড়দের ছবি আর 'আমার পছন্দ, আমার মাতৃভূমি' স্লোগানে মুখর ছিল পুরো আয়োজন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ বলেন, খেলোয়াড়রা তাদের দেশ, পতাকা ও আদর্শের প্রতি অনুগত। সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানিও দলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, 'পুরো ইরান তোমাদের অপেক্ষায় ছিল।'
তবে এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে বিতর্কও কম নয়। মানবাধিকারকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, খেলোয়াড়দের পরিবারকে চাপের মুখে ফেলে আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়েছে। নির্বাসিত সাবেক ইরানি ফুটবলার শিভা আমিনি দাবি করেন, গোয়েন্দা সংস্থার চাপ ও পরিবারের ওপর হুমকির কারণেই খেলোয়াড়রা সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হয়েছেন।
অন্যদিকে, ইরানি কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছেন। তাদের মতে, অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকেই খেলোয়াড়দের নানা প্রলোভন -বাড়ি, গাড়ি, অর্থ ও পেশাদার ক্লাবের চুক্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু খেলোয়াড়রা জাতীয় পরিচয়কেই প্রাধান্য দিয়ে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, দলের দুই সদস্য এখনো অস্ট্রেলিয়ায় রয়ে গেছেন। আর পুরো ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটলো, যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে ইরান, যা বিষয়টিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।