অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় পেলেন ইরানের ৫ নারী ফুটবলার
ইরানে ফিরে গেলে নিপীড়নের আশঙ্কা, এই ভয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চেয়েছিলেন ইরানের নারী ফুটবল দলের কয়েকজন খেলোয়াড়। শেষ পর্যন্ত মানবিক বিবেচনায় তাদের পাশে দাঁড়াল অস্ট্রেলিয়া। পাঁচ ইরানি নারী ফুটবলারকে মানবিক ভিসা দিয়েছে দেশটি, ফলে আপাতত নিরাপদেই থাকছেন তারা।
মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার সরকার এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আন্থনি আলবানিজ বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মানুষ এই সাহসী নারীদের পরিস্থিতিতে গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন এবং তারা এখানে নিরাপদে আছেন।
'অস্ট্রেলিয়ানরা এই সাহসী নারীদের দুর্দশায় বিচলিত হয়েছে। তারা এখানে নিরাপদ, এবং এখানে যেন নিজেদের ঘরের মতোই অনুভব করে,' ক্যানবেরায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন আলবানিজ।
ইরানের নারী ফুটবল দল বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপ খেলতে গিয়েছিল। সেখানেই পাঁচ খেলোয়াড় গোপনে দলের হোটেল ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ান পুলিশের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে চলে যান। পরে তারা সরকারের কাছে সহায়তা চান। মানবিক ভিসা পাওয়া ওই পাঁচ ফুটবলার হলেন জাহরা সারবালি আলিশাহ, মোনা হামুদি, জাহরা ঘানবারি, ফাতেমেহ পাসানদিদেহ এবং আতেফেহ রামেজানিজাদেহ।
এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোড়ন তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কথা বলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলবানিজের সঙ্গে। ট্রাম্প প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্ক করে বলেন, খেলোয়াড়দের জোর করে ইরানে ফেরত পাঠানো হলে তা 'ভয়াবহ মানবিক ভুল' হবে। পরে আলবানিজের সঙ্গে ফোনালাপের পর তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়া পরিস্থিতি যথেষ্ট সতর্কতার সঙ্গে সামাল দিচ্ছে।
ট্রাম্পের দাবি, দলের পাঁচ সদস্য ইতোমধ্যে নিরাপদে আছেন, তবে বাকিদের কেউ কেউ পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে দেশে ফিরতে চাইতে পারেন। তাদের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হতে পারে, এমন আশঙ্কাও রয়েছে।
এশিয়ান কাপের এই টুর্নামেন্ট চলাকালেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দেশটিতে উত্তেজনা তীব্র হয়। এর মধ্যেই ইরানের নারী দল মাঠের পারফরম্যান্সে খুব একটা সফল হতে পারেনি; ফিলিপাইনের কাছে ২–০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় তারা।
এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত না গেয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকায় ইরানের এই ফুটবলাররা দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন। এক ভাষ্যকার এটিকে 'চরম অসম্মান' বলে মন্তব্য করেন। সেই ঘটনার পর থেকেই খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক সামাজিক মাধ্যমে পাঁচ খেলোয়াড়ের সঙ্গে তোলা ছবি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, কয়েক দিন ধরেই গোপনে তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। তবে পুরো দলের সবাই একই সিদ্ধান্ত নেবেন, এমনটি নিশ্চিত নয় বলেও জানান তিনি।
এদিকে বিশ্ব ফুটবলারদের সংগঠন ফিফপ্রো এই পাঁচ খেলোয়াড়কে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলে স্বাগত জানিয়েছে। তবে এখনও অস্ট্রেলিয়ায় থাকা দলের অন্য খেলোয়াড় ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানে ক্ষমতায় ফেরার পর নারী খেলাধুলা নিষিদ্ধ হলে আফগানিস্তানের নারী ক্রিকেট দলের ২০ জনের বেশি সদস্যকেও জরুরি মানবিক ভিসা দিয়ে আশ্রয় দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।