পরিবার নিয়ে উৎকণ্ঠা, এশিয়ান কাপে মানসিক চাপে ইরান

স্পোর্টস ডেস্ক

চলমান যুদ্ধের মধ্যে পরিবার-পরিজনদের নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন ইরানের নারী ফুটবলাররা। নারী এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করলেও দেশের সঙ্গে প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে কোচ মারজিয়েহ জাফারি জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের মনোযোগ ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের আসরে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। গোল্ড কোস্টে অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচের আগে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরে আসর শুরু করে তারা। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে দেশের পরিস্থিতি।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকায় দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে। ফলে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। জাফারি অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা এখানে থাকা ইরানি-অস্ট্রেলিয়ানদের সমর্থনে খুবই আনন্দিত। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই আমরা আমাদের পরিবার, প্রিয়জন এবং দেশের মানুষের জন্য ভীষণ উদ্বিগ্ন। তাদের সঙ্গে আমাদের পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা এখানে পেশাদারিত্বের সঙ্গে ফুটবল খেলতে এসেছি। সামনে যে ম্যাচ আছে, সেটিতে মনোযোগ দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”

স্ট্রাইকার সারা দিদারও কথা বলতে গিয়ে চোখের জল সামলাতে পারেননি। ২১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বলেন, “ইরানে যা ঘটছে, তা নিয়ে আমরা সবাই উদ্বিগ্ন ও দুঃখিত। আমাদের পরিবার ও প্রিয়জনদের কথা ভেবে খুব খারাপ লাগছে।”

এশিয়ান ফুটবল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা দলটিকে “পূর্ণ সমর্থন ও সহায়তা” দিচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর মাত্র কয়েকদিন আগে হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন, এমন খবর দলের ওপর আরও মানসিক চাপ তৈরি করেছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপে অভিষেক হয়েছিল ইরানের নারী দলের। সে সময় ঐতিহাসিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা জাতীয় নায়কে পরিণত হন, একটি দেশে, যেখানে নারীদের অধিকার এখনো কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ।