ইতিহাসের হাতছানি ভারতের, ইংল্যান্ড চাইছে ‘নিখুঁত ম্যাচ’
মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই পরাশক্তি। যেখানে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত এবার মাঠে নামছে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতে প্রথম দল হওয়ার হাতছানি তাদের সামনে। অন্যদিকে, দুবারের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড চায় সেরা সময়ে নিজেদের ‘পারফেক্ট গেম’ উপহার দিতে।
টানা তৃতীয়বারের মতো এই দুই দল টুর্নামেন্টের শেষ চারে মুখোমুখি হচ্ছে। আগের দুইবারই একবার করে জয় পেয়েছে দু’দল, আর মজার বিষয়, যে দল সেমিফাইনালে জিতেছে, শেষ পর্যন্ত তারাই ট্রফি ঘরে তুলেছে। ২০২২ সালে অ্যাডিলেডে ভারতকে ১০ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে শিরোপা জেতে ইংল্যান্ড। দুই বছর আগে গায়ানায় ইংল্যান্ডকে ৬৮ রানে হারিয়ে পরে বার্বাডোজে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত।
২০২৪ আসরে ভারত ছিল অপরাজিত। তবে এবার সুপার এইট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে ধাক্কা খায় তারা। যদিও জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে ছন্দে ফেরে দলটি।
তবে ভারতের উদ্বেগের জায়গা টপ অর্ডার। ওপেনার অভিষেক শর্মা, যিনি এই ফরম্যাটের শীর্ষ র্যাঙ্কধারী ব্যাটার, ছয় ম্যাচে করেছেন মাত্র ৮০ রান; তিনবার শূন্য রানে আউট হয়েছেন। অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সঞ্জু স্যামসনের অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস স্বস্তি এনে দিয়েছে। মাঝের সারিতে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব, তিলক ভার্মা, হার্দিক পান্ডিয়া ও শিভম দুবের মতো বিস্ফোরক ব্যাটার থাকায় আত্মবিশ্বাসী স্বাগতিকরা।
বোলিং বিভাগ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। শীর্ষ র্যাঙ্কধারী লেগ-স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী ও পেস আক্রমণের নেতা জসপ্রীত বুমরাহর নেতৃত্বে আক্রমণভাগ শক্তিশালী। তবে ফিল্ডিংয়ে ১৩টি ক্যাচ ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা কিছুটা দুশ্চিন্তার কারণ।
ভারতের বোলিং কোচ মর্নে মরকেল মনে করেন, এখনো পর্যন্ত দল নিখুঁত পারফরম্যান্স দিতে পারেনি, কিন্তু সেটিই বড় কথা নয়। মুম্বাইয়ে সেমিফাইনালের আগে শেষ অনুশীলনের পর তিনি বলেন, “সেমিফাইনালে কীভাবে উঠলাম, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো পরের দুই ম্যাচে আমরা কেমন খেলব।”
মঙ্গলবার রাতে ভারতীয় দলের অনুশীলনের সময় এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়, যাতে সেটি চন্দ্রগ্রহণের সঙ্গে মিলে না যায়, দেশটিতে যা অশুভ হিসেবে বিবেচিত।
অন্যদিকে, শুরুটা কিছুটা অনিশ্চিত হলেও সময়ের সঙ্গে ছন্দ খুঁজে পেয়েছে ইংল্যান্ড। অলরাউন্ডার উইল জ্যাকস নিচের দিকে ব্যাট করে ১৯১ রান করার পাশাপাশি নিয়েছেন সাত উইকেট; চারবার হয়েছেন ম্যাচসেরা। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক, টম ব্যান্টন ও স্যাম কারানও ব্যাট হাতে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
কারান বলেন, “পারফেক্ট ম্যাচ খেলতে চাইলে, সম্ভবত এটাই সেই রাত। টি-টোয়েন্টিতে ব্যাট-বলে দু’একজনের জ্বলে ওঠাই পার্থক্য গড়ে দেয়।”
তবে সাবেক অধিনায়ক জস বাটলার ভুগছেন ফর্মহীনতায়, সাত ম্যাচে করেছেন মাত্র ৬২ রান। ওপেনিং সঙ্গী ফিল সল্টও আত্মবিশ্বাসহীন। ওয়াংখেড়ের ছোট বাউন্ডারি ও স্পিন-সহায়ক উইকেটে আদিল রশিদ, লিয়াম ডসন ও জ্যাকসের স্পিন আক্রমণ ভারতের ছন্দ নষ্ট করতে পারে বলেই মনে করছে ইংল্যান্ড শিবির।