ইরানে ফের মার্কিন হামলা

একই সময়ে দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছিল
স্টার অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা যেন থামছেই না। যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলার মধ্যেই ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে কয়েকটি নৌযান ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় এই হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব নৌকা সমুদ্রে মাইন পেতে রাখার চেষ্টা করছিল, তাই নিজেদের সেনাদের নিরাপত্তার জন্য এই অভিযান চালানো হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, একই সময়ে কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছিল। বৈঠকে অংশ নেন ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আলোচনায় মধ্যস্থতা করছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ওয়াশিংটন এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখতে চায়। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে ‘অন্য ব্যবস্থা’ নেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

তিনি জানান, আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে প্রণালিটি স্বাভাবিকভাবে খোলা থাকুক। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বড় ধরনের আলোচনা হতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ভালোভাবেই এগোচ্ছে’। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও হামলা হতে পারে। তার ভাষায়, ‘হয় ভালো চুক্তি হবে, না হলে কোনো চুক্তিই হবে না।’

এর কিছুক্ষণ পরই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড নতুন হামলার তথ্য প্রকাশ করে। তারা জানায়, ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য হুমকি ঠেকাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানও পাল্টা দাবি করেছে, তারা একটি ‘শত্রু স্টেলথ ড্রোন’ ভূপাতিত করেছে। দেশটির সংবাদমাধ্যমের দাবি, নতুন ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্যে ড্রোনটি গুলি করে নামানো হয়েছে। তবে ড্রোনটি কোন দেশের ছিল, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে লেবানন সীমান্তেও। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা আরও জোরদার করা হবে। এরপরই লেবাননের বেকা উপত্যকাসহ কয়েকটি এলাকায় হিজবুল্লাহর স্থাপনায় হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।

যদিও এপ্রিলের মাঝামাঝিতে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তারপরও ইসরায়েল বলছে আত্মরক্ষার প্রয়োজনেই তারা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

দোহায় চলা আলোচনায় হরমুজ প্রণালি ছাড়াও ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এবং জব্দ করে রাখা ইরানি অর্থ ছাড়ের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাঘাই বলেছেন, আগে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হতে হবে, এরপর পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে। তবে তেহরান বরাবরই সেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।