৬০ হাজার টন ডিজেল চট্টগ্রাম বন্দরে, চলতি মাসেই আসবে আরও আড়াই লাখ টন
চট্টগ্রাম বন্দরে ৬০ হাজার টন ডিজেলবাহী দুটি জাহাজ পৌঁছেছে গতকাল মঙ্গলবার রাতে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষাপটে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাপের মুখে থাকা বাজারে কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে এই চালান।
বন্দর কর্মকর্তারা জানান, টর্ম দামিনী ও লুসিয়া সোলিস নামে ট্যাংকার দুটি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আউটার অ্যাঙ্করেজে (আলফা জোন) পৌঁছেছে।
তারা জানান, ৬০ হাজার টন ডিজেলবাহী জাহাজ দুটি ১৮ এপ্রিলের মধ্যে পতেঙ্গার ডলফিন জেটিতে ভেড়ার কথা রয়েছে। প্রতিটি চালান খালাসে প্রায় দুদিন সময় লাগতে পারে।
বাংলাদেশের বার্ষিক জ্বালানি চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ টন এবং মাসিক গড় চাহিদা প্রায় সাড়ে ৫ থেকে ৬ লাখ টনের মধ্যে। এর মধ্যে ডিজেলের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। এই চাহিদার অধিকাংশই পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের আরও চালান ইতোমধ্যে পথে রয়েছে।
বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন আজাদ দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ৬০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আরও দুটি জাহাজ ১৮ এপ্রিল পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সরবরাহের চাপ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। যেসব চালান আসছে সেগুলো দিয়ে বাজারের বর্তমান চাহিদা মেটানো যাবে।’
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, ১৬ থেকে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে অতিরিক্ত ১ লাখ ৯৮ হাজার টন ডিজেলসহ প্রায় ৫০ হাজার টন জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েল আসার কথা রয়েছে।
আমদানি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী মাসগুলোতে সরবরাহ আরও বাড়ানো হবে। মে মাসে দেশে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ হাজার টন ডিজেল, ৪০ হাজার টন জেট ফুয়েল, ২৫ হাজার টন অকটেন ও ৭৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল আসার কথা রয়েছে।
জুনের জন্য বিপিসি প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টন ডিজেল, ৬০ হাজার টন জেট ফুয়েল, ২৫ হাজার টন অকটেন ও ৭৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল আমদানির পরিকল্পনা করেছে।