চ্যাটজিপিটির লকডাউন মোড কি, কাদের উপকারে আসবে
চ্যাটজিপিটির মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক চ্যাটবটের কাছে ইউজাররা খুব বেশি চিন্তা না করেই প্রচুর ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করে থাকেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চ্যাটজিপিটির সঙ্গে গল্প করারও নজির আছে।
মূলত, প্রশ্নের আরও ভালো এবং প্রাসঙ্গিক জবাব পেতেই এ কাজটা করে থাকেন বেশিরভাগ ইউজার।
যার ফলে, ইন্টারনেটে অন্য যেকোনো অ্যাকাউন্টের মতো চ্যাটবট হ্যাক হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যক্তিগত তথ্য বেহাত হওয়ার একটি বড় ধরনের ঝুঁকি থাকে।
সম্প্রতি চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই ‘লকডাউন মোড’ নামে একটি নতুন নিরাপত্তা ফিচার চালু করেছে। এর লক্ষ্য হলো হ্যাকারদের ব্যবহৃত ‘প্রম্পট ইনজেকশন অ্যাটাক’-এর মাধ্যমে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি কমানো।
প্রম্পট ইনজেকশন অ্যাটাক কী, কীভাবে কাজ করে
হ্যাকাররা কোনো একটি ওয়েবসাইটে বা ওয়েবও কন্টেন্টে (রিলস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, ইউটিউব ভিডিও বা এরকম কনটেন্ট) কিছু ‘গোপন’ ও ‘ক্ষতিকর’ নির্দেশনা ‘ইনজেক্ট’ করে বা অনুপ্রবেশ করিয়ে রাখে।
যখন ইউজারের প্রশ্নের জবাব দিতে চ্যাটজিপিটি বা অন্যান্য চ্যাটবট ওইসব ওয়েবসাইট বা কন্টেন্ট থেকে তথ্য নিতে যায়, তখন হ্যাকারদের নির্দেশনা কার্যকর হয়। মূলত, ইউজারদের ‘প্রম্পট’ বা চ্যাটবটের কাছে দেওয়া নির্দেশনার মাধ্যমেই হ্যাকাররা ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে।
যার ফলে, ইউজারের কাছে প্রশ্নের সঠিক জবাব যাওয়ার পরিবর্তে ওই ইউজারের সংবেদনশীল তথ্য হ্যাকারের কাছে চলে যায়।
লকডাউন ফিচার যেভাবে কাজ করবে
ওপেনএআই জানিয়েছে, যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে কাজ করে, তারাই মূলত এ ধরনের সাইবার হামলার লক্ষ্য। তাদের কথা মাথায় রেখেই ‘লকডাউন মোড’ ফিচারটি তৈরি করা হয়েছে।
তবে লকডাউন মোড চালু করলে চ্যাটজিপিটির কয়েকটি সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে।
এর মধ্যে আছে সরাসরি ওয়েব ব্রাউজিং, ইন্টারনেট থেকে আনা ছবি ব্যবহারের সুবিধা, ডিপ রিসার্চ টুল এবং এজেন্টধর্মী ফিচার।
লকডাউন মোডে থাকা অবস্থায় ইউজাররা চ্যাটজিপিটির ভেতর ছবি তৈরি করতে পারবেন, তবে মডেলটি তখন নতুন করে ওয়েব ব্রাউজিং না করে ক্যাশে সংরক্ষিত ওয়েব কনটেন্টের ওপর নির্ভর করে ছবি তৈরি করবে।
লকডাউন মোডের কার্যকারিতা
ওপেনএআই স্বীকার করেছে, এই ফিচার হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করতে পারে না।
সম্প্রতি এক ব্লগ পোস্টে ওপেনএআই জানিয়েছে, ‘প্রম্পট ইনজেকশন অ্যাটাকের ফলে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হওয়ার ঠেকাতে লকডাউন মোড কাজ করে। এই মোড চালু করলে বাইরের নেটওয়ার্ক থেকে আসা নির্দেশনাগুলো সীমিত আকারে অনুসরণ করা হয়। যেসব নির্দেশনার মাধ্যমে তথ্য পাচার হতে পারে, সেগুলো প্রতিহত করা হয়।
তবে তথ্যের উৎসে এ ধরনের সাইবার হামলার নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত থাকা না থাকার বিষয়ে লকডাউন মোডের তেমন কার্যকারিতা নেই।
ক্যাশে রাখা ওয়েবও কনটেন্ট বা আপলোড করা ফাইলে প্রম্পট ইনজেকশন অ্যাটাকের নির্দেশনা থাকতে পারে এবং তা ইউজারের ক্ষতির কারণ ঘটাতে পারে।
যেভাবে চালু করতে হবে লকডাউন মোড
আপাতত এই ফিচারটি বিজনেস অ্যাকাউন্টে চালু করা হচ্ছে। ধাপে ধাপে ব্যক্তি পর্যায়ের ইউজারদেরকেও এই সুবিধা দেওয়া হবে।
সেটিংস-এ ‘অ্যাডভান্সড সিকিউরিটি’ সেকশনের আওতায় থাকা ‘সিকিউরিটি’ সেকশনে যেয়ে এই ফিচারটি চালু করা যাবে।
তবে মজার বিষয় হলো, এই ফিচার কোনো অবস্থাতেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হবে না। ঝুঁকি যত বড় হোক, ইউজারকে সেটা নিজে বুঝে নিয়ে লকডাউন মোড চালু করতে হবে।
তবে লকডাউন মোড চালুর পর চ্যাটজিপিটির মূল সেবা বড় আকারে সীমাবদ্ধতার মধ্যে পড়বে।
পাশাপাশি, ওপেনএআই আরও জানিয়েছে, লকডাউন মোড ও ডেভেলপার মোড একসঙ্গে ব্যবহার করা যাবে না। একটি চালু করলে অন্যটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এই ফিচার ইউজারদের কতটুকু কাজে আসবে, তা এ মুহূর্তে বলা মুশকিল।
আপাতত করোনাভাইরাস মহামারির ‘লকডাউন’-এর কথা মনে করিয়ে দেওয়া ছাড়া ব্যক্তিগত পর্যায়ের ইউজারদের জন্য এই মোডের তেমন কোনো কার্যকারিতা নেই—এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা।


