ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুইয়ে দুই

স্পোর্টস ডেস্ক

শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপদে পড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিল তারা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের 'সি' গ্রুপের ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৩০ রানে হারাল শেই হোপের দল। শেরফেন রাদারফোর্ডের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস ও জেসন হোল্ডারের ক্যামিওর পর ক্যারিবিয়ান স্পিনাররা করলেন নিয়ন্ত্রিত বোলিং।

বুধবার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৯৬ রানের বড় পুঁজি তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে ভালো শুরুর পর পথ হারিয়ে ফেলা ইংল্যান্ড ৬ বল বাকি থাকতে গুটিয়ে যায় ১৬৬ রানে। ফলে টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয় জয়ের দেখা পেল ক্যারিবিয়ানরা। অন্যদিকে, নেপালের বিপক্ষে ঘাম ঝরানো জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করা ইংলিশরা দ্বিতীয় ম্যাচেই নিল হারের তেতো স্বাদ।

ক্যারিবিয়ানদের ব্যাটিংয়ের শুরুটা ছিল বিভীষিকাময়। দলীয় মাত্র ৮ রানেই সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার শেই হোপ ও ব্র্যান্ডন কিং। প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেন শিমরন হেটমায়ার (১২ বলে ২৩ রান) ও রোস্টন চেজ (২৯ বলে ৩৪ রান)।

এরপর মূল ঝড়টা তোলেন ২৯ বলে ফিফটি ছোঁয়া রাদারফোর্ড। পাঁচ নম্বরে নেমে ৪২ বলে ৭৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। সেখানে ছিল সাতটি ছক্কা ও দুটি চার। রাদারফোর্ডকে যোগ্য সঙ্গ দেওয়া হোল্ডারের ব্যাট থেকে আসে ১৭ বলে ৩৩ রানের ক্যামিও। তিনি মারেন একটি চার ও চারটি ছক্কা। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনের ৩২ বলে ৬১ রানের জুটিতে ভর করে দুইশর কাছে পৌঁছায় উইন্ডিজের সংগ্রহ।

প্রথম ১০ ওভারে ৪ উইকেটে ৭৯ রান তুলতে পারা দলটি শেষ পাঁচ ওভারে চালায় তাণ্ডব। ম্যাচসেরা রাদারফোর্ড ও হোল্ডারের কল্যাণে তারা তোলে ৬৬ রান। বাকি বোলাররা খরুচে থাকলেও ইংল্যান্ডের হয়ে ২ উইকেট নিতে আদিল রশিদ দেন কেবল ১৬ রান।

উল্টো চিত্র দেখা যায় ইংলিশদের ব্যাটিংয়ের সময়। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তারা উড়ন্ত সূচনা পেলেও ভিত কাজে লাগাতে পারেনি। অষ্টম ওভারে এক পর্যায়ে তাদের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ৮৫ রান। এরপর পা হড়কে যায়।

পাওয়ার প্লেতে শুধু ফিল সল্টকে সাজঘরে পাঠাতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তিনি ১৪ বলে ৩০ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন চারটি চার ও দুটি ছক্কায়। এরপর দৃশ্যপটে হাজির হন ক্যারিবিয়ান স্পিনাররা। গুডাকেশ মোটি ও চেজের ঘূর্ণিতে খেই হারিয়ে ফেলে জস বাটলারের দল।

অধিনায়ক বাটলার (১৪ বলে ২১ রান), জ্যাকব বেথেল (২৩ বলে ৩৩ রান) ও হ্যারি ব্রুক (১৪ বলে ১৭ রান) থিতু হয়ে আউট হন। ফলে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। তাই শেষদিকে স্যাম কারান ৩০ বলে ৪৩ রান করে অপরাজিত থাকলেও তা কেবল হারের ব্যবধানই কমায়। মোটি ৩৩ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন। ২ উইকেট পেতে চেজের খরচা ২৯ রান।