লাওসের গুহায় নাটকীয় উদ্ধার অভিযান, জীবিত ৫ জনের সন্ধান

স্টার অনলাইন ডেস্ক

লাওসের প্লাবিত গুহায় এক সপ্তাহ ধরে আটকে থাকা সাতজনের মধ্যে পাঁচজনকে জীবিত খুঁজে পেয়েছেন উদ্ধারকারীরা। তবে তাদের এখনো গুহা থেকে বের করে আনা সম্ভব হয়নি। বাকি দুজনের খোঁজে সন্ধান অব্যাহত রেখেছেন উদ্ধারকর্মীরা।

থাইল্যান্ড ও লাওসের উদ্ধারকারী দলের বরাতে বার্তাসংস্থা এএফপি আজ বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২০ মে বুধবার মধ্য লাওসের জাইসোমবুন প্রদেশের একটি গুহায় স্বর্ণ খুঁজতে ঢোকেন সাত গ্রামবাসী। হঠাৎ ভারী বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা দেখা দিলে পানিতে প্লাবিত হয়ে বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়।

তবে প্রবেশপথ বন্ধ হওয়ার আগেই ওই দলের একজন সদস্য বের হয়ে আসতে সক্ষম হন এবং তিনি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।

পানিতে ডুবে থাকা সংকীর্ণ সুরঙ্গ পথ দিয়ে উদ্ধার অভিযান চালানো রীতিমত কঠিন হয়ে পড়ে লাওসের স্থানীয় দলের জন্য।

গত সোমবার এই ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে যোগ দেন দুজন থাই ডুবুরি এবং একজন ফিনিশ বিশেষজ্ঞ। ২০১৮ সালে আলোচিত থাইল্যান্ডের গুহায় আটকে পড়া তরুণ ফুটবলারদের  নাটকীয় উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন এ তিন ডুবুরি।

লাওসে গুহায় আটকে পড়াদের উদ্ধারে যোগ দিয়েছেন থাই ও ফিনিস বিশেষজ্ঞ দল। ২৫মে, ২০২৬। ছবি: সংগৃহীত

লাওসে গুহায় আটকে পড়া সাতজনের মধ্যে আজ পাঁচজনের সন্ধান পাওয়ার পর থাই ডুবুরি নোররাসেদ পালাসিং বলেন, ‘আমরা পাঁচজনকে পেয়েছি। সবাই নিরাপদ আছেন।’

ফিনিশ ডুবুরি মিক্কো পাসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘এটা সাময়িক স্বস্তি মাত্র। পাঁচজনই সুস্থ ও মানসিকভাবে ভালো আছেন। কিন্তু তাদের উদ্ধার এখনো বাকি, এটা মোটেও সহজ নয়।’

 

তিনি আরও জানিয়েছেন, আটকে পড়াদের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন তারা। যাতে শক্তি সঞ্চয় করে বেরিয়ে আসার প্রস্তুতি নিতে পারেন ওই পাঁচজন।

উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, গুহার শেষ প্রান্তের চেম্বার থেকে আটকে পড়াদের নিরাপদে বের করে আনা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

যেভাবে চলছে এই উদ্ধার অভিযান

ফিনিস ডুবুরি পাসি গুহাটিকে একটি ‘পরিত্যক্ত স্বর্ণখনি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘গুহার ভেতরে শত শত মিটারজুড়ে সংকীর্ণ পথ, প্লাবিত এলাকা, যেকোনো সময় ধসে পড়ার ঝুঁকি ও বিষাক্ত বাতাস থাকার আশঙ্কা রয়েছে।’

 

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত লাওসের এই গুহাটি বহুস্তরবিশিষ্ট, গভীরে বিস্তৃত এবং সরু পথ ও সুড়ঙ্গে ভরা।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও গ্রামবাসীরা পাম্প করে পানি বের করার চেষ্টা চালালেও সপ্তাহের শুরুতে গুহার ভেতরে প্রবেশই করতে পারেননি উদ্ধারকারীরা।

গুহার কিছু অংশ মাত্র ২৩ ইঞ্চি চওড়া। ছবি: সংগৃহীত

বুধবার সকাল নাগাদ গুহার পানি কিছুটা কমলে ভেতরে প্রবেশ করেন থাই ও ফিনিস ডুবুরিরা।  

পাসি জানিয়েছেন, যেখানে পাঁচজনকে পাওয়া গেছে, সেই চেম্বারটি গুহার মুখ থেকে প্রায় ৩০০ মিটার বা ৯৮৪ ফুট দূরে।

দীর্ঘ এই সুরঙ্গ পথের মধ্যে কিছু অংশ রয়েছে যা মাত্র ৬০ সেন্টিমিটার বা ২৩ ইঞ্চি চওড়া। ওই অংশ পার হতে হলে উদ্ধারকারীদের হামাগুড়ি দিয়ে যেতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রায় সম্পূর্ণ পানিতে ডুবে থাকা অন্ধকার সুরঙ্গের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছেন উদ্ধারকারীরা।

সাইসোম্বুন প্রদেশের লং তিয়াংয়ের এই পাহাড়ি এলাকাটি খনিজ সম্পদের জন্য সুপরিচিত। প্রশাসন বলছে, সতর্ক করা সত্ত্বেও স্থানীয় গ্রামবাসী প্রায়ই স্বর্ণের সন্ধানে গুহায় যাতায়াত করেন।

সাইসোম্বুন প্রদেশের লং তিয়াংয়ের এই পাহাড়ি এলাকা। ছবি: সংগৃহীত

এর আগে, ২০১৮ সালে থাইল্যান্ডের উত্তরের চিয়াং রাই প্রদেশে থাম লুয়াং গুহায় দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আটকা পড়েন ১২ কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচ। প্রবল বৃষ্টিতে ওই গুহাটিও প্লাবিত হয়ে প্রবেশ পথ বন্ধ হয়ে যায়।

২০১৮ সালে থাইল্যান্ডের থাম লুয়াং গুহা থেকে উদ্ধার হওয়া ১২ কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচ। ছবি: স্টার অনলাইন গ্রাফিক্স

অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ ডুবুরিদের অংশগ্রহণে পরিচালিত সেই শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযান বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।