দুরন্ত ছন্দ ধরে রেখে ‘২০১৬’ ফেরানোর আশায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ঠিক দশ বছর আগে ২০১৬ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, সেটি ছিল এই সংস্করণে তাদের দ্বিতীয় শিরোপা। এক দশক পর ফের ভারতের মাঠে ক্যারিবিয়ানরা ছুটছে দুরন্ত গতিতে, আভাস মিলছে বড় কিছুর। গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ সুপার এইটে নেমে পেয়েছে বিশাল জয়।
সোমবার রাতে ২৫৪ রান করে জিম্বাবুয়েকে ১০৭ রানের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় তারা। এবার বিশ্বকাপে এটিই কোন দলের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় পুঁজি। (আগের রেকর্ড শ্রীলঙ্কার ২৬০)
অধিনায়ক শেই হোপ, শেমরন হেটমায়ার, রভম্যান পাওয়েলরা সবাই আছেন ছন্দে। বোলিংয়ে আকিল হোসেন, গুডাকেশ মোটি, ম্যাথু ফর্ডরা খেলছেন পারফেক্ট ক্রিকেট। মাঠের পারফরম্যান্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বুঝিয়ে দিয়েছে—তৃতীয় শিরোপার লক্ষ্যেই এগোচ্ছে তারা।
তবে কিছুতেই আত্মতৃপ্তিতে ভুগছেন না অধিনায়ক হোপ। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের ব্যাটিং ইউনিটের প্রশংসা করলেও পা রাখছেন মাটিতেই। ২০১৬ সালের সেই সোনালী ট্রফি পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন থাকলেও হোপের মনোযোগ এখন বর্তমানের ওপর।
সংবাদ সম্মেলনে হোপ বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি ম্যাচে যখন আপনি স্কোরবোর্ডে ২৫০-এর বেশি রান তোলেন, তখন ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আপনাকে অবশ্যই খুশি হতে হবে। একইসঙ্গে আমাদের বোলাররা যেভাবে নিখুঁত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, বিশেষ করে পাওয়ারপ্লে আর মিডল ফেজে... আমি একে একটি কমপ্লিট গেম বলব। তবে আপনি যদি খুঁতখুঁতে হতে চান, তবে উন্নতির জায়গা সবসময়ই থাকে।’
রেকর্ড গড়া স্কোর নিয়ে খুব একটা ভাবতে রাজি নন হোপ। তার মতে, টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে ব্যক্তিগত বা দলীয় মাইলফলকের চেয়ে ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই বেশি জরুরি।
ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক আরও বলেন, ‘টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এসে আপনি কেবল নিজের সেরা ক্রিকেটটা খেলার দিকেই মনোযোগী থাকেন। যদি কোনো মাইলফলক পেরিয়ে যান, তবে ম্যাচ শেষে সেটা নিয়ে কথা হতে পারে বা সতীর্থরা অভিনন্দন জানাতে পারে। কিন্তু এটা নিশ্চিতভাবেই আমাদের ভাবনার কেন্দ্রে নেই।’
আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে হোপের মন্তব্য, ‘আপনি কখনোই ব্যাটিং করতে নামার সময় ভাববেন না যে আজ ৩৫০ রান করতে হবে। লক্ষ্য থাকে কেবল যতটা সম্ভব বেশি রান করা এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা। আমরা যেভাবে খেলছি, তা আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। তবে আমাদের এখনই থেমে থাকলে চলবে না। কয়েক দিন পরেই আরেকটি ম্যাচ, সেখানেও যেন আমরা একইভাবে জ্বলে উঠতে পারি সেটা নিশ্চিত করতে হবে।’
সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের মতো বড় প্রতিপক্ষ। হোপের দৃষ্টি এখন সেই চ্যালেঞ্জের দিকেই। তিনি বলেন, 'শুরুটা দারুণ হয়েছে, আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে। কিন্তু ওই ম্যাচগুলো এখন অতীত। আমাদের এখন সামনের দিকে তাকাতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আমাদের পরের ম্যাচ, এরপর ভারত। তাই আমাদের সেরা ক্রিকেটটা খেলে যেতে হবে।'
আহমেদাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচটি গ্রুপ ১-এর শীর্ষস্থান নির্ধারণী লড়াই হতে যাচ্ছে। জয়ী দলের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাবে প্রায় শতভাগ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ কি পারবে এক দশক আগের সেই স্মৃতি ফিরিয়ে এনে ভারতের মাটিতে ফের রাজত্ব করতে? ভক্তদের অপেক্ষা এখন সেই হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের।