১২ ছক্কার টার্নেডো ইনিংস খেলে সূর্যবংশীর ৩ রানের আক্ষেপ

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রফুল হিঙ্গের বলটা থার্ডম্যান দিয়ে উড়িয়েছিলেন, একদম বাউন্ডারি লাইনে সেটা ক্যাচে পরিণত হয়। এক সুতোর জন্য ক্রিস গেইলের রেকর্ডটা থেকে গেল আপাতত স্পর্শের বাইরে। তবে তার আগে বৈভব সূর্যবংশী যা করেছেন তাতে বিস্ময়ে আরেকবার হতভম্ব হওয়ার পালা।

২৮ বলে ১২ ছক্কা, ৫ চারে ৯৭ করেছিলেন। ২৯তম বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করতে পারতেন, যেটা হলে আইপিএলের ইতিহাসের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড হয়ে যেত তার। ২৯ বলে আপাতত ৯৭ রানে থামতে হলো। ৯৭ রানের ৯২ রানই বাউন্ডারি থেকে নিয়েছেন। তবে সূর্যবংশী জানিয়ে দিলেন এই রেকর্ড একদিন তার হবেই।

​ম্যাচের শুরু থেকেই সূর্যবংশী ছিলেন বিধ্বংসী মেজাজে। প্রফুল হিঙ্গের করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই নিজের অনবদ্য ক্লাস দেখান তিনি। অফ-স্ট্যাম্পের বাইরের লেংথ বলকে নিখুঁত টাইমিংয়ে কভার ড্রাইভ করে বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে খাতা খোলেন। সেই ওভারেরই চতুর্থ বলে একটু শর্ট ডেলিভারি পেয়েই পুল করলেন স্কোয়ার লেগের ওপর দিয়ে, বল গিয়ে আছড়ে পড়ল গ্যালারিতে।

​স্পিন আক্রমণ আসতেই আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন সূর্যবংশী। ক্রিজ থেকে সামান্য বেরিয়ে এসে সোজা বোলারের মাথার ওপর দিয়ে মারেন বিশাল ছক্কা। মাত্র ১০ বলেই তিনি পৌঁছে যান ব্যক্তিগত ৩০ রানে। পরের ওভারে লেগ স্ট্যাম্পের ওপর থাকা বলকে আলতো ফ্লিকে ফাইন লেগ দিয়ে সীমানার ওপারে পাঠিয়ে ব্যাক-টু-ব্যাক বাউন্ডারি আদায় করে নেন।

​ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে বিশাল এক ছক্কা হাঁকিয়ে মাত্র ১৬ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন বৈভব।

​হাফ-সেঞ্চুরির পর তার ব্যাটের ধার যেন আরও বেড়ে যায়। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারটি ছিল বোলারদের জন্য এক দুঃস্বপ্ন। সেই ওভারের প্রথম, দ্বিতীয়, চতুর্থ এবং ষষ্ঠ বলে লং-অন এবং কাউ কর্নার দিয়ে ৪টি চোখধাঁধানো ছক্কা মারেন তিনি। স্কোরবোর্ডে রানের গতি তখন রকেটের চেয়েও দ্রুত।

​সপ্তম ওভারের চতুর্থ বলে নিজের ১২তম ছক্কাটি মেরে মাত্র ২৮ বলে ৯৭ রানে পৌঁছে যান বৈভব সূর্যবংশী। ক্রিস গেইলের ৩০ বলে সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড ভাঙতে তার প্রয়োজন ছিল মাত্র ১টি বল এবং ৩টি রান। পুরো স্টেডিয়াম তখন অধীর আগ্রহে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে এক মহাকাব্যিক মুহূর্তের।

​কিন্তু ঠিক পরের বলেই ঘটল সেই হৃদয়বিদারক ঘটনা। প্রফুল হিঙ্গের অফ-স্ট্যাম্পের সামান্য বাইরের বলটিকে থার্ডম্যান অঞ্চল দিয়ে উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন সূর্যবংশী। কিন্তু ব্যাটের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা আলগা হওয়ায় বলটি সীমানা পার হতে পারেনি। একদম বাউন্ডারি লাইনে ফিল্ডারের হাতে জমা পড়ে বল। স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো স্টেডিয়াম। মাত্র ৩ রানের আক্ষেপে পুড়তে হয় তাকে। ২৯ বলে আপাতত ৯৭ রানে থামতে হলেও সূর্যবংশী জানিয়ে দিলেন এই রেকর্ড একদিন তার হবেই।