ফিফা বিশ্বকাপ

মেসিকে আটকানোর কৌশল নিয়ে যা বললেন ইংল্যান্ড কোচ

স্পোর্টস ডেস্ক

২০২৬ বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে মোটেও ভীত নন টমাস টুখেল। তবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসিকে আটকানোর কৌশল খোঁজার দিকে মনোযোগ রয়েছে ইংল্যান্ড কোচের।

জুড বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। বাংলাদেশ সময় আজ বুধবার দিবাগত রাত একটায় আটলান্টায় ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে তারা।

কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাসিস্ট করার মধ্য দিয়ে ১৯৬৬ আসরের পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে একাধিক বিশ্বকাপে (২০২২ ও ২০২৬) অন্তত ১০টি গোলে অবদান রাখার কীর্তি গড়েছেন লিওনেল মেসি। প্রথমজন হলেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে (২০২২ ও ২০২৬)। তাছাড়া, এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত এমবাপের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতাও (৮টি) তিনি।

তবে চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটিই হতে যাচ্ছে মেসির ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচ। তাকে থামানোর কৌশল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে টুখেল জানান, কাজটা মোটেও সহজ হবে না, ‘আমি এটা নিয়ে ভাবছিলাম, আমরা তাকে পুরোনো ধাঁচে ম্যান মার্ক করব কি না! পরিকল্পনাটা আমরা বাস্তবায়ন করব কি না নিশ্চিত নই, তবে এটি আমার মাথায় এসেছিল। সবাই জানে সে মাঠের কোন জায়গাগুলোতে উপস্থিত হতে চায়। আপনি যদি ম্যাচ বিশ্লেষণ করেন, দেখবেন যে সে বিষয়গুলো দ্রুত বুঝতে পারে। বল তার কাছে পড়লেই সে ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেয়। আমরা আর্জেন্টিনার খেলায় কিছু ছক খুঁজে পেয়েছি, কিন্তু আপনি একটি ছক বন্ধ করলে, তারা নতুন আরেকটি বের করবে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দল ও মেসির বিপক্ষে খেলাটা খুবই অনন্য ব্যাপার।’

পেনাল্টি শুটআউট হিসাবের বাইরে রাখলে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ পাঁচ আন্তর্জাতিক ম্যাচে অপরাজিত ইংল্যান্ড (২ জয়, ৩ ড্র)। এর মধ্যে শেষ দুটি ম্যাচেই জিতেছে তারা। দুই দলের সবশেষ দেখায় ২০০৫ সালের নভেম্বরে প্রীতি ম্যাচে মাইকেল ওয়েনের জোড়া গোল ও ওয়েইন রুনির লক্ষ্যভেদে ৩-২ ব্যবধানে জিতেছিল ইংলিশরা।

আলবিসেলেস্তেদের মোকাবিলা করার বিষয়ে নির্ভার থাকার চেষ্টায় আছেন জার্মান কোচ টুখেল। প্রতিপক্ষকে নিয়ে তার ভাষ্য, ‘তাদের শক্ত মানসিকতা ও একতা রয়েছে। প্রতিটি পজিশনেই তারা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং অত্যন্ত অভিজ্ঞ সব খেলোয়াড় রয়েছে তাদের। এমন খুব কমই হয় যে আপনি একটি টুর্নামেন্ট অনায়াসে পার করে ফেলবেন এবং সবকিছু ঠিকঠাক মতো হবে। বাধা অতিক্রম করাটাই স্বাভাবিক, তবে এটি তাদের দুর্বলতার চেয়ে শক্তিমত্তার কথাই বেশি বলে। আমরা সেরা সংস্করণের আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলার জন্যই প্রস্তুতি নেব। বিশ্বের যে কোনো দলকেই হারানো সম্ভব।’

টুখেলের সামনে এখন দারুণ এক রেকর্ডের হাতছানি। নিজ দেশের বাইরে অন্য কোনো জাতীয় দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলা চতুর্থ কোচ হওয়ার সুযোগ রয়েছে তার। সবশেষ এই কীর্তি ছিল ১৯৭৮ সালের আসরে নেদারল্যান্ডসের কোচ হিসেবে ফাইনালে ওঠা অস্ট্রিয়ার আর্নস্ট হ্যাপেলের।