ফাইনালে উঠতে না পেরে চোখের জল আড়াল করার চেষ্টা ১৫ বছরের সূর্যবংশীর
দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে গুজরাট টাইটান্সের কাছে হেরে এবারের আইপিএল থেকে বিদায় নিয়েছে রাজস্থান রয়্যালস। দলের এই বিদায়ে যেন মন ভেঙে গেছে বৈভব সূর্যবংশীর। মাত্র ১৫ বছর বয়সী এই তরুণের পক্ষে নিজের আবেগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল। ম্যাচ শেষে ডাগআউটে তার স্তব্ধ হয়ে বসে থাকার দৃশ্যই বলে দিচ্ছিল রাজস্থানের বিদায়ের যন্ত্রণা কতটা তীব্র ছিল।
দলের সবচেয়ে কঠিন সময়ে আবারও ত্রাতা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সূর্যবংশী। ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়া রাজস্থানকে একাই টেনে তোলেন এই কিশোর। বিপদ দেখে কিছুটা সংযত হয়ে খেলেন তিনি। আগের দিন যেমন ২৯ বলে করে ফেলেছিলেন ৯৭, এবার একটু রয়েসয়ে। নিজের সবচেয়ে মন্থর ফিফটি করেন ৩১ বলে। তাও মাত্র ৪৭ বলে ৯৬ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দলকে ২০০ রানের বড় পুঁজি এনে দেন তিনি। পুরো মৌসুম জুড়েই চাপের মুখে এমন নির্ভীক ব্যাটিং করেছেন সূর্যবংশী। তবে তার এই অনবদ্য লড়াইয়ের পরও শুবমান গিলের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে হারতে হয়েছে রাজস্থানকে। ফলে প্রথম আসরের পর দ্বিতীয় শিরোপার জন্য তাদের অপেক্ষা আরও বাড়ল।
এবারের মৌসুমে রাজস্থানের সাফল্যের মূল নায়ক ছিলেন এই তরুণ বাঁহাতি ব্যাটার। ম্যাচ হারার পর বাউন্ডারি লাইনের পাশে ডাগআউটের সিটে চুপচাপ বসে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন তিনি। কান্না চেপে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও তার চোখে-মুখে হতাশা ছিল স্পষ্ট।
১৬ ম্যাচে ২৩৭.৩০-এর অবিশ্বাস্য স্ট্রাইক রেটে ৭৭৬ রান করে সূর্যবংশী নিজেকে এবারের আসরের অন্যতম সেরা আবিষ্কার হিসেবে প্রমাণ করেছেন। তিনি এখনো অরেঞ্জ ক্যাপের দৌড়ে সবার ওপরে আছেন। আরসিবি-র বিপক্ষে ফাইনালে গুজরাটের দুই ওপেনার শুভমান গিল ও সাই সুদর্শন বড় রান না পেলে সূর্যবংশীই হবেন এবারের আসরের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক।
শুক্রবার শুরুতে ও মাঝপথে দ্রুত উইকেট হারিয়ে রাজস্থান যখন কাঁপছিল, তখন নিজের চেনা আক্রমণাত্মক রূপ বদলে দেখিয়েছেন দারুণ পরিপক্বতা। ৩১ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করেন তিনি, যা তার আইপিএল ক্যারিয়ারের ধীরগতির পঞ্চাশ। পরিস্থিতি সামলে নিয়ে পরের দিকে গুজরাটের বোলারদের ওপর চড়াও হন। ৮টি চার ও ৭টি ছক্কায় ৯৬ রান করে আউট হওয়ায় টানা দ্বিতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপে পুড়তে হয় তাকে।
অবশ্য সূর্যবংশীর এই কীর্তিকে ম্লান করে ম্যাচটি নিজের করে নেন গুজরাট অধিনায়ক শুভমান গিল। মাত্র ৫৩ বলে ১০৪ রানের এক অপরাজিত সেঞ্চুরি করে দলকে সামনে থেকে জেতান তিনি। সাই সুদর্শনের (৫৮) সঙ্গে গিলের ১৬৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি রাজস্থানের সব আশা শেষ করে দেয়। ১৮.৪ ওভারে লক্ষ্য পেরিয়ে আইপিএল ২০২৬-এর ফাইনাল নিশ্চিত করে গুজরাট টাইটান্স।