‘যেদিন মেসি খেলা ছাড়বে, সেদিন আমরা তাকে ভীষণ মিস করব’

স্পোর্টস ডেস্ক

লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে যখন কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়াম উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ছে, তখন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির কণ্ঠে ধরা পড়ছিল অন্যরকম এক আবেগ। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডে ভাগ বসানো, ৩৮ বছর বয়সেও অবিশ্বাস্য এক পারফরম্যান্স এবং আরও একবার ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করার মাঝেও স্কালোনির মনে যেন উঁকি দিচ্ছিল ভবিষ্যতের এক শূন্যতা।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। বিশ্বকাপে ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিকের রাতে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গিয়ে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে সমতা এনেছেন তিনি। কিন্তু স্কালোনির কাছে পরিসংখ্যানের চেয়েও বড় ছিল মেসির উপস্থিতি, প্রভাব এবং অনুপ্রেরণা।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনা কোচ বলেন, 'আমি বাকরুদ্ধ। ম্যাচ শেষে ওকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি, একটা চুমু দিয়েছি এবং বলেছি যে আমি ওকে খুব ভালোবাসি। কারণ সত্যি বলতে, ওকে নিয়ে আর কী বলব আমি জানি না।'

স্কালোনির মতে, মেসিকে শুধু গোল বা রেকর্ড দিয়ে বিচার করা যায় না। মাঠে এবং মাঠের বাইরে তিনি দলের জন্য যা করেন, সেটিই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে।

'সে শুধু গোল করে না, সে দলের মধ্যে এমন কিছু ছড়িয়ে দেয় যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সে অবিশ্বাস্য। যেদিন সে থাকবে না, সেদিন আমরা তাকে খুব মিস করব। তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তাকে উপভোগ করা,' বলেন ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী কোচ।

মেসির এই পারফরম্যান্সে তিনি বিস্মিত নন বলেও জানিয়েছেন স্কালোনি। আর্জেন্টাইন মহাতারকা গত দুই দশক ধরে একই কাজ করে যাচ্ছেন বলেন তিনি, 'এটা এমন নয় যে আমি এটা আশা করিনি। সে তো গত ২০ বছর ধরেই এমন করছে। শুধু আর্জেন্টিনার সমর্থক নয়, ফুটবলকে যারা ভালোবাসে, সবাই তাকে খেলতে দেখতে চায়।'

তবে স্কোরলাইন যতটা সহজ দেখিয়েছে, ম্যাচটি ততটা সহজ ছিল না বলেও মনে করেন স্কালোনি। আলজেরিয়া আর্জেন্টিনাকে বেশ কয়েকবার চাপে ফেলেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি, 'ফলাফল দেখে ম্যাচটাকে সহজ মনে হতে পারে, কিন্তু এটি ছিল কঠিন একটি ম্যাচ। অনেক উত্থান-পতন ছিল। প্রতিপক্ষও ভালো দল। সবসময় আপনি বলের নিয়ন্ত্রণে থাকবেন না, সবসময় প্রতিপক্ষকে চেপে ধরতেও পারবেন না। এসব বুঝতে হবে।'

তারপরও দলের মানসিকতা ও লড়াইয়ের প্রশংসা করেছেন স্কালোনি। তার বিশ্বাস, এই আর্জেন্টিনা দল কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজেদের সেরাটা বের করে আনতে পারে।