ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

মেসির রেকর্ড ছোঁয়া ম্যাচে দুরন্ত জয়ে শুরু আর্জেন্টিনার

স্পোর্টস ডেস্ক

কদিন আগেই মিরোস্লাভ ক্লোসা বলেছিলেন, বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড যদি কারোর কাছে হারাতেই হয় তবে সেটা তিনি লিওনেল মেসির কাছেই হারাতে চান। প্রথম ম্যাচেই সাবেক এই জার্মান স্ট্রাইকারের ‘ইচ্ছা পূরণ’ করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিকের ফলে ক্লোসার পাশাপাশি মেসি এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। মেসি নৈপুণ্যে বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করেছে আর্জেন্টিনাও, আলজেরিয়াকে হারিয়েছে ৩-০ গোলে। 

ফুটবলের রেকর্ডপুত্র মেসি এদিন মাঠে নামা মাত্রই এক রেকর্ডের মালিক হয়েছিলেন। প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে ৬টি বিশ্বকাপে মাঠে নামার কৃতিত্ব এখন পর্যন্ত শুধুই মেসির। তবে যে রেকর্ডের অপেক্ষায় ছিল গোটা ফুটবল বিশ্ব, সেটি পূরণ করতে এক ম্যাচের বেশি সময় নিলেন না মেসি। ১৩ গোল নিয়ে ম্যাচ শুরু করেছিলেন, শেষ করেছেন ক্লোসার সমান রেকর্ড ১৬ গোল নিয়ে। 

এমন গৌরবময় রেকর্ড বোধহয় মেসি নিজেও যেনতেন ভাবে করতে চাননি। ম্যাচটা তাই মেসি আরও রঙিন করেছেন বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক করে। এর আগে ২০১৪ সালে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ও গত বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে জোড়া গোল করলেও এবারই প্রথম ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে হ্যাট্রিকের দেখা পেলেন এই ফুটবল জাদুকর। 

আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে নিজের ২০০তম ম্যাচের মাত্র পঞ্চম মিনিটেই সমর্থকদের একবার গোলের উল্লাসে মাতিয়েছিলেন মেসি। তবে অফসাইডে থাকায় সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। মাত্র তিন মিনিট পর আচমকা এক গোলে আর্জেন্টিনাকে স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন ফারেস চাইবি। তবে আলজেরিয়ার এই গোলও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। 

অবশ্য ‘মেসি-ম্যাজিক’ দেখতে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি আর্জেন্টিনা সমর্থকদের। ম্যাচের ১৭ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ট্রেডমার্ক জোরালো শটে ১-০ গোলের লিড এনে দেন মেসি। এরপর পুরো প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা বল পায়ে রেখে খেললেও খুব একটা আক্রমণ করতে পারেনি। আলজেরিয়াও কঠিন কোনো পরীক্ষা নিতে পারেনি এমিলিয়ানো মার্টিনেজের। 

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ৫১ মিনিটের মাথায় সুবিধাজনক জায়গায় বল পেয়েছিলেন মেসি। কিন্তু শট গোলপোস্টে রাখতে পারেননি। এর নয় মিনিট পরেই দ্বিতীয় গোলের দেখা পান তিনি। বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে নেয়া অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট ঠেকিয়ে দিলেও সেটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান। রিবাউন্ড হয়ে আসা বল আলতো টোকায় জালে পাঠিয়ে বিশ্বকাপে গোলের তালিকায় ব্রাজিল কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকে স্পর্শ করেন মেসি। 

বিশ্বকাপে কখনো হ্যাটট্রিক পাননি মেসি, আর্জেন্টাইন সমর্থকদের নিশ্চয়ই একটা আক্ষেপ ছিল এটি নিয়ে। রেকর্ডের রাতে ভক্তদের সেই আক্ষেপও আর রাখতে চাইলেন না আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ৭৭ মিনিটে করলেন ম্যাচের সবচেয়ে সুন্দর গোলটি। আবারও বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে নিখুঁতভাবে খুঁজে নিলেন জাল, যে দৃশ্য বছরের পর বছর ধরে অগুণতিবার দেখেছেন কোটি ফুটবলপ্রেমী। আর এতেই ক্লোসার পাশাপাশি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৬ গোলের মালিক এখন মেসি। সাথে রয়েছে ৮টি অ্যাসিস্টও।

ছোট রেকর্ড হয়েছে আরেকটি। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী ও সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতা- দুই জায়গাতেই এখন একটাই নাম। লিওনেল মেসি!