কোর্তুয়ার নৈপুণ্যে ফাইনালে হচ্ছে এল ক্লাসিকো

স্পোর্টস ডেস্ক

শেষ পর্যন্ত এল ক্লাসিকোই হচ্ছে। আয়োজক থেকে শুরু করে স্থানীয় সমর্থক সবারই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। রোববার ফাইনালে মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। তবে সেমিফাইনালের পারফরম্যান্স যদি বিবেচনায় নেওয়া হয়, তাতে এই ক্লাসিকোর আগে রিয়ালের চেয়ে আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে বার্সেলোনাই। গত রাতে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদই ছিল ভালো দল, বরং অনেকটাই এগিয়ে। তবু শেষ হাসি হেসেছে জাবি আলোনসোর দল।

জেদ্দায় স্প্যানিশ সুপার কোপার সেমি-ফাইনালে শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের ব্যবধানে জিতেছে রিয়াল। এই সাফল্যের পেছনে দুটি বড় কারণ, গোলপোস্টের নিচে অটল প্রাচীর থিবো কোর্তুয়া এবং কয়েকজনের ব্যক্তিগত প্রতিভা, যারা মুহূর্তেই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পেরেছেন। দুর্দান্ত এক গোল করা ভালভার্দে এবং অ্যাতলেতিকোর বিপক্ষে বরাবরের মতোই বিধ্বংসী রদ্রিগো তার উজ্জ্বল উদাহরণ।

মেট্রোপলিতানোর সেই চেনা উন্মত্ততা এদিন অ্যাতলেতিকোর খেলায় ছিল না। পাবলো বারিওস না থাকলেও আক্রমণ গঠন ও সুযোগ তৈরিতে তারা ছিল রিয়ালের চেয়ে এগিয়ে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে আবারও পরিচিত ব্যর্থতা। কেন এমন হয়, তার ব্যাখ্যা করা কঠিন। সোরলোথ গোল পেলেও ছিলেন অপচয়ী, হুলিয়ান আলভারেজ ছিলেন সব সময় হুমকি, আর শেষ দিকে নামা আলমাদা প্রায় একাই ম্যাচকে টাইব্রেকারের দোরগোড়ায় নিয়ে গিয়েছিলেন।

ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য এগিয়ে যায় রিয়াল। দ্বিতীয় মিনিটে গ্যালাহারের ফাউল নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে, কিন্তু আসল ঘটনা ঘটে কিছুক্ষণ পর। দূর থেকে নেওয়া ভালভার্দের ট্রিভেলা শট একটি বজ্রাঘাতের মতো, যা ওব্লাকের ডান পাশ দিয়ে জালে ঢুকে পড়ে। অপ্রত্যাশিত সেই গোল ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়।

লিড পাওয়ার পর রিয়াল স্বাভাবিকভাবেই নেমে যায় রক্ষণে, ভরসা রাখে আক্রমণভাগের গতির ওপর। বলের দখল নেয় অ্যাতলেতিকো, ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, বিশেষ করে বায়েনার দিক দিয়ে। ভালভার্দের সঙ্গে তার দ্বন্দ্বে উত্তেজনাও ছড়ায়। হুলিয়ানের জন্য তৈরি হওয়া সুযোগগুলোতে সিদ্ধান্তের ঘাটতি ছিল। পাল্টা আক্রমণে রিয়ালও সুযোগ পেয়েছে, কারেরাসের পাসে রদ্রিগোর বাঁ পায়ের শট ঠেকান ওব্লাক, আর ভালভার্দের ক্রসে ফাঁকায় ভিনিসিয়ুসের হেডও রক্ষা করেন তিনি।

তবে সুযোগের বিচারে অ্যাতলেতিকোই ছিল এগিয়ে। হাইড্রেশন ব্রেকের পর তারা সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। দূরপাল্লার শট, কর্নার থেকে সোরলোথের হেড, ক্যামাভিঙ্গাকে কেড়ে নিয়ে বায়েনার টো-পোক, সবকিছুর জবাব দেন কোর্তুয়া। বিশেষ করে সোরলোথের হেডে তার সেভ ছিল অসাধারণ। সবচেয়ে পরিষ্কার সুযোগে অবশ্য বেলজিয়ানকে হস্তক্ষেপ করতে হয়নি, নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ডের হেড ঠেকান আসেনসিও।

বিরতিতে কোনো পরিবর্তন আনেননি জাবি আলোনসো, যদিও ভিনিসিয়ুস ও বেলিংহ্যাম দুজনই ছিলেন বলের সঙ্গে নিষ্প্রভ। পরিবর্তনের ঝাঁকুনি দেন সিমিওনে। লে নরমাঁকে নামিয়ে, মাঝমাঠে লোরেন্তেকে এনে অ্যাতলেতিকোর আধিপত্য আরও বাড়ান তিনি। কিন্তু ঠিক সেই সময়ই আবার আঘাত হানে রিয়াল। ডান পাশে ঢিলেঢালা একটি বল কাজে লাগান ভালভার্দে, মাঝখান দিয়ে দৌড়ানো রদ্রিগোকে নিখুঁত পাস। লে নরমাঁকে কাটিয়ে নিচু শটে ওব্লাককে পরাস্ত করেন ব্রাজিলিয়ান, ডার্বিতে অ্যাতলেতিকোর জন্য যেন এক চিরচেনা দুঃস্বপ্ন।

০–২ ব্যবধানে ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আতলেতিকো এত বড় শাস্তি পাওয়ার যোগ্য ছিল না। তারা আবার চাপ বাড়ায়। ডান দিক থেকে হূলিয়ানোর নিখুঁত ক্রসে সোরলোথ হেডে গোল করেন। আসেনসিও ফাউলের আবেদন করলেও রেফারি বাসকেতস গোল বৈধ ঘোষণা করেন।

এরপর বায়েনা ও কোকে উঠে গেলে অ্যাতলেতিকোর আক্রমণ কিছুটা নিস্তেজ হয়ে পড়ে। অন্যদিকে আলোনসো বাধ্য হয়ে রক্ষণে রদবদল করেন, মেন্দি ও ফ্রান গার্সিয়াকে এনে মাঝমাঠ জমাট করেন। পুরোটা যেন টিকে থাকার লড়াই। রদ্রিগোর আরেকটি সুযোগও ঠেকান ওব্লাক। ভিনিসিয়ুসকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তে উত্তেজনা ছড়ায়, সিমিওনের সঙ্গে কথা কাটাকাটির পর দুজনই হলুদ কার্ড দেখেন।

শেষ দিকে আলমাদা এসে অ্যাতলেতিকোর আক্রমণে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেন। গ্রিজমানের বাইসাইকেল কিকে কুর্তোয়ার অবিশ্বাস্য সেভ, আর যোগ করা সময়ে চুয়ামেনির শেষ মুহূর্তের হস্তক্ষেপে বেঁচে যায় রিয়াল। ৯৫ মিনিটে আলমাদার পাস পেয়ে হূলিয়ানের শট বাইরে চলে গেলে ভেঙে পড়ে আতলেতিকোর স্বপ্ন।