শিরোপার লড়াইয়ের নিয়ন্ত্রণে সিটি, আর্সেনালকে তাড়া করছে পুরনো আতঙ্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

আবারও সেই ম্যানচেস্টার সিটি, আবারও সেই পুরোনো আতঙ্ক। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে হারের ফলে আর্সেনালের গত ২২ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জয়ের স্বপ্নে বড় ধাক্কা লেগেছে।

রবিবার রাতে সিটির মাঠে ২-১ গোলে হেরে গেছে গানাররা। আপাতত মিকেল আর্তেতার দল প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকলেও ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো শীর্ষস্থান হারানোর শঙ্কায় রয়েছে তারা। ৩৩ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৭০। এক ম্যাচ কম খেলা সিটিজেনদের অর্জন ৬৭ পয়েন্ট। আগামী বুধবার রাতে সিটি যদি অবনমনের শঙ্কায় থাকা (পয়েন্ট তালিকার ১৯ নম্বরে) বার্নলির মাঠে জয় পায়, তাহলে আর্সেনালকে সরিয়ে তারা লিগের চূড়ায় উঠে যাবে।

গত মাসে লিগ কাপের ফাইনালে সিটির কাছে হারের আগে এই মৌসুমে খেলা মোট ৪৯ ম্যাচে আর্সেনাল হেরেছিল মাত্র তিনটি। কিন্তু শেষ ছয় ম্যাচের মধ্যে তারা জিতেছে মাত্র একটিতে, যার মধ্যে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় (এফএ কাপ, ইএফএল কাপ ও লিগ) টানা চারটি পরাজয় রয়েছে। ফলে আবারও একটি ট্রফিশূন্য মৌসুমের আশঙ্কা নিয়ে দিন গুনছে তারা।

দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকা আর্সেনালের সমর্থকদের জন্য এটি যেন ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি। গত তিন মৌসুমে তারা দ্বিতীয় স্থানে থেকে প্রিমিয়ার লিগ শেষ করেছে। ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ মৌসুমে পেপ গার্দিওলার দল অবিশ্বাস্যভাবে আর্তেতার দলকে পেছনে ফেলেছিল। আর গত মৌসুমে গানাররা রানার্সআপ হয়েছিল আর্নে স্লটের পুনরুজ্জীবিত লিভারপুলের পেছনে থেকে।

ঠিক যখন আর্সেনালের দম ফুরিয়ে এসেছে বলে মনে হচ্ছে, সিটি তখনই তাদের সেরা ছন্দে ফিরেছে। ম্যানচেস্টারে নিজের এক দশকের ক্যারিয়ারে সপ্তম প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে আছেন গার্দিওলা। এখন পর্যন্ত এপ্রিল মাসে খেলা (শিরোপা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ মাস) মোট ৩৯টি লিগ ম্যাচের মধ্যে ৩১টিতেই জয় পেয়েছেন তিনি। বিপরীতে, সাড়ে ছয় বছরের দায়িত্বে আর্তেতা এপ্রিল মাসের ২৭টি লিগ ম্যাচে জয় পেয়েছেন মাত্র ১১টিতে।

আর্তেতা অবশ্য দাবি করেছেন যে, ইতিহাদ স্টেডিয়ামের সবশেষ এই সূক্ষ্ম ব্যবধানের ম্যাচে ভাগ্য তাদের সহায় ছিল না। গত সপ্তাহে ঘরের মাঠে বোর্নমাউথের কাছে হারের সময় আর্সেনালের মাঝে স্নায়ুচাপ স্পষ্ট থাকলেও সিটির বিপক্ষে তারা চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে। খেলার শুরুর দিকে রায়ান চেরকির দুর্দান্ত গোলের পরও তারা দমে যায়নি।

গোলরক্ষক জানলুইজি দোন্নারুম্মার বল ক্লিয়ার করার চেষ্টাকে রুখে দিয়ে কাই হাভার্টজ দ্রুতই সমতা ফেরান। এরপরও আর্সেনাল বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করেছিল। ১-১ গোলে সমতা থাকাকালীন এবেরেচি এজের শট গোললাইন অতিক্রম না করে পোস্টে বাধা পায়। ম্যাচের শেষদিকে গ্যাব্রিয়েলের হেড সিটির একজনের গায়ে লেগে আবারও সেই পোস্টে আটকে যায়।

তবে বারবার ফিরে আসা একই ভুলগুলোর দায় আর্সেনাল এড়াতে পারে না। দ্বিতীয়ার্ধে হাভার্টজ দুটি বিশাল সুযোগ নষ্ট করেন— প্রথমে ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে দোন্নারুম্মাকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হন এবং পরে যোগ করা সময়ে ফাঁকায় থেকে হেড করে বল জালের বাইরে পাঠান। তখন তীব্র হতাশায় ডাগআউটে হাঁটু গেড়ে বসে পড়তে দেখা যায় আর্তেতাকে।

চোটের কারণে গত ১৮ মাস ধরে অনিয়মিত থাকা হাভার্টজকে পুরো ম্যাচ খেলানো হয়। ভিক্টর ইয়োকেরেসকে প্রায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন আর্তেতা। গত গ্রীষ্মকালীন দলবদলে একজন পূর্ণাঙ্গ স্ট্রাইকারের অভাব মেটাতেই তাকে দলে নেওয়া হয়েছিল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৮ গোল করে চলতি মৌসুমে ক্লাবের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেও বড় দলগুলোর বিপক্ষে তিনি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

বিপরীতে, আর্লিং হালান্ড আবারও প্রমাণ করেছেন— কেন একজন বিশ্বমানের স্ট্রাইকার দলের জন্য অপরিহার্য। তাকে কড়া মার্কিংয়ে রাখা গ্যাব্রিয়েলের সাথে ম্যাচ জুড়ে তার শারীরিক লড়াই চললেও সুযোগ বুঝে সিটির জয়সূচক গোলটি করেন তিনি। ক্লাব ও দেশের হয়ে এটি ছিল এই মৌসুমে তার ৪৭তম গোল।

হারের পর আর্তেতা স্বীকার করেছেন যে, ম্যান সিটি আক্রমণে অনেক বেশি ধারালো ছিল, 'আমরা প্রমাণ করেছি যে, আমরা লড়াইয়ে আছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দুই ডি-বক্সের লড়াইয়েই পার্থক্য তৈরি হয়ে গেছে। ফিনিশিংই দুই দলের মধ্যে ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। এখানে ভাগ্যের ব্যাপার থাকে, টাইমিং থাকে এবং মাঠে সঠিকভাবে প্রয়োগের বিষয় থাকে। অনেক কিছুই আপনার পক্ষে যেতে হয়, যেই মুহূর্তগুলোর ওপরই শেষ পর্যন্ত জয় বা পরাজয় নির্ভর করে। আমাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কিছু ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের মুহূর্ত প্রয়োজন।'