হঠাৎ টিকিট বিক্রির ঘোষণা, বিভ্রান্ত বিশ্বকাপ ভক্তরা

স্পোর্টস ডেস্ক

২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিয়ে নতুন করে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে ফিফা। মঙ্গলবার সকালে বহু সমর্থক একটি ইমেইল পান, যেখানে বলা হয়, তাদের জন্য “বিশেষ অতিরিক্ত সুযোগ” তৈরি হয়েছে টুর্নামেন্টের টিকিট কেনার জন্য। ইমেইলে লেখা ছিল, “আপনার এক্সক্লুসিভ টিকিট উইন্ডো এই সপ্তাহেই খুলছে।” কিন্তু সমস্যাটি ছিল, কবে খুলবে, তা উল্লেখই করা হয়নি।

ইমেইলে বলা হয়, “আপনার ৪৮ ঘণ্টার এক্সক্লুসিভ অ্যাক্সেস উইন্ডো শুরু হবে:” কিন্তু সময়ের জায়গাটি ছিল ফাঁকা। আরও বিভ্রান্তি তৈরি করে টিকিট কেনার লিংকটি, যা ক্লিক করলে দেখা যায় ওয়েব শপ যা ২২ ফেব্রুয়ারি বন্ধ হয়ে গেছে এবং ২ এপ্রিলের আগে খুলবে না।

ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র আলোচনা ও প্রশ্নের ঝড়। রেডডিট, টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভক্তরা জানতে চান, এটি আসলে কী, নাকি কোনো ভুল হয়েছে। বহু মানুষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে স্ক্রিনশট শেয়ার করে ব্যাখ্যা খুঁজতে থাকেন।

ইমেইল পাঠানোর কয়েক ঘণ্টা পরও ফিফার পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। পরে স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে কিছু ভক্ত আবার নতুন ইমেইল পান, যেখানে নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ ছিল, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে, সবচেয়ে আগে সকাল ১১টা (ইস্টার্ন টাইম) থেকে শুরু হবে সেই সুযোগ।

এর আগে ফিফা জানিয়েছিল টিকিট কেনার শেষ সুযোগ আসবে এপ্রিল মাসে। তারা দাবি করেছিল, শেষ লটারিতে ৫০ কোটিরও বেশি টিকিট আবেদন জমা পড়েছে এবং প্রায় সব ম্যাচই বিক্রি হয়ে গেছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো পর্যন্ত বলেছিলেন, “প্রায় সব ম্যাচই সোল্ড আউট,” যদিও তিনি স্বীকার করেছিলেন কিছু টিকিট শেষ মুহূর্তের বিক্রির জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।

এখন হঠাৎ করে সীমিত সংখ্যক টিকিট বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা দেওয়া হবে নির্বাচিত কিছু আবেদনকারীদের, বিশেষ করে যারা আগে লটারিতে আবেদন করেও টিকিট পাননি। ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, “যেসব ভক্ত ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টে আগ্রহ দেখিয়েছেন, তাদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট একটি দলকে বেছে নেওয়া হয়েছে,” তবে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড জানানো হয়নি।

নতুন ইমেইলগুলোতে বিভিন্ন আয়োজক শহরের নামও উল্লেখ ছিল, যেমন ডালাস, ফিলাডেলফিয়া, কানসাস সিটি বা গুয়াদালাহারা। কিছু ভক্ত বোস্টন, টরন্টো, লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান ফ্রান্সিসকোর ম্যাচের জন্যও সময়সূচি পেয়েছেন। তবে সব শহরের জন্য এই সুযোগ থাকবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। মিয়ামি বা নিউইয়র্ক–নিউ জার্সির ম্যাচের আবেদনকারীদের অনেকেই কোনো সময়সূচি পাননি বলে জানিয়েছেন।

ইমেইলে কোন ম্যাচের টিকিট, কোন ক্যাটাগরি বা কী দাম, এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও উল্লেখ ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে, জনপ্রিয় ম্যাচগুলোর বদলে কম চাহিদাসম্পন্ন ম্যাচের টিকিট বিক্রি করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আবার এটি এমনও ইঙ্গিত দিতে পারে যে সস্তা টিকিটের চাহিদা বেশি থাকায় তুলনামূলক দামী ক্যাটাগরির কিছু টিকিট এখনও অবিক্রীত রয়েছে।

ফিফা জানিয়েছে, টিকিটের সংখ্যা “অত্যন্ত সীমিত” এবং আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে বিক্রি হবে। তবে মোট কত টিকিট পাওয়া যাবে বা সব ১৬টি আয়োজক শহরে এই সুযোগ থাকবে কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও পরিষ্কার নয়।

সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হলো, যারা প্রথম ইমেইল পেয়েছিলেন, তাদের সবাই কি দ্বিতীয় ইমেইলে সময়সূচি পাবেন? কেউ পেয়েছেন, আবার অনেকে এখনও পাননি বলে জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে টিকিট বিক্রির এই আকস্মিক ধাপ এবং অসম্পূর্ণ তথ্য নতুন করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে। গত কয়েক মাস ধরেই মূল্য, যোগাযোগের ঘাটতি ও জটিল প্রক্রিয়া নিয়ে সমর্থকদের ক্ষোভ বাড়ছিল, এই ঘটনা সেই অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে দিল।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা আগামী ১১ জুন।