রায় যখন বাস্তবায়ন হবে, তখন শতভাগ সন্তুষ্ট হব: রামিসার বাবা

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিশুটির বাবা।

আজ রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গণে রামিসার বাবা সাংবাদিকদের বলেন, আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট এবং এই রায় যখন বাস্তবায়ন হবে তখন আমি শতভাগ সন্তুষ্ট হব।

তিনি বলেন, যারা আমাকে সাহায্য করেছেন, আমার পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাদের ধন্যবাদ দিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, এই বাংলাদেশে প্রতিটি রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত হোক এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সেই রায় কার্যকর হোক। বাংলাদেশে আর কোনো রামিসার সঙ্গে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে।

দেশব্যাপী ব্যাপক জনরোষ এবং সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ন্যায়বিচারের আশ্বাসের পর ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় আদালত এই মামলার রায় দিলেন।

ট্রাইব্যুনাল মাত্র পাঁচটি শুনানিতে বিচার শেষ করেছেন। গত ১ জুন অভিযোগ গঠন করা হয় এবং তার পরের দিনই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

৪ জুন যুক্তিতর্ক শেষ করার সময় প্রসিকিউশন প্রধান আসামি সোহেল রানা (৩১) এবং তার স্ত্রী ও সহ-আসামি স্বপ্না খাতুনের (২৬) মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন।

প্রসিকিউশনের যুক্তি, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরার মাধ্যমে অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

তবে আসামিপক্ষ সাজা কমানোর আবেদন জানিয়ে দাবি করেছে যে, চার্জশিট প্রধান আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং হত্যার কাজে ব্যবহৃত কথিত অস্ত্রটির ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়নি।

এই মামলার সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীরা বলছেন, কোনো ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারে এত দ্রুত রায় ঘোষণা করার কথা তারা স্মরণ করতে পারছেন না।

গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় প্রতিবেশী সোহেলের ঘর থেকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরদিন প্রতিবেশী সোহেল, স্বপ্না ও অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তিকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন শিশুটির বাবা।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সোহেল রামিসাকে তার ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। তদন্তকারীরা জানান, পরে সে শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করে এবং অপরাধ ধামাচাপা দিতে লাশ টুকরো করার চেষ্টা করে।

গত ২৪ মে পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওহিদুজ্জামান ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

এতে সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও আলামত নষ্টের অভিযোগ আনা হয়। অন্যদিকে স্বপ্নার বিরুদ্ধে আলামত নষ্ট, মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং স্বামীকে অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।

কয়েক ঘণ্টা পরেই আদালত মামলাটি ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন।