‘এলোমেলো’ বোলিংয়ের দায় দিলেন সালাউদ্দিন
টেস্টের প্রথম দিন দাপট দেখিয়েছিলো বাংলাদেশ, দ্বিতীয় দিন হলো পুরোপুরি ভিন্নধর্মী। এবার দাপট দেখানো দলের নাম পাকিস্তান। বাংলাদেশের পুঁজি খুব বড় হতে না দিয়ে দিনের শুরুতে ঝাঁজ দেখালেন মোহাম্মদ আব্বাস। পরে টপ অর্ডারদের ব্যাটে বাংলাদেশের বোলারদের হতাশায় পুড়িয়েছে সফরকারীরা। দিনের পর্যালোচনা করতে গিয়ে সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন দায় দিলেন বোলারদের।
৩ উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ সাত উইকেট পড়ে যায় দ্রুত। ৪১৩ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। জবাব দিতে নেমে পাকিস্তানের দুই ওপেনার ইমাম-উল হক ও আজান আওয়াইস গড়েন ১০৬ রানের জুটি। ৪৫ রান করে ইমাম আউট হলেও আব্দুল্লাহ ফজল দাঁড়িয়ে যান। দুই অভিষিক্ত আজান আর ফজল মিলে যোগ করে ফেলেছেন ৭৩ রান। ৮৫ রান করে ক্রিজে আজান, ফজল খেলছেন ৩৭ রানে।
পাকিস্তান এখনো ২৩৪ রানে পিছিয়ে আছে, তবে তাদের হাতে এখনো ৯ উইকেট। সব মিলিয়ে দিনটা বাংলাদেশের জন্য হতাশায় মোড়ানো।
দিনের খেলা শেষে গণমাধ্যমে কথা বলতে এসে সালাউদ্দিন ব্যাটিং-বোলিংয়ের ঘাটতির কথা তুলে ধরেছেন, ‘সকালে পাকিস্তান ভালো বোলিং করেছে। আমার মনে হয়, আমরা যদি আরও ৫০ রান করতে পারতাম তবে অনেক ভালো হতো, যদিও আমরা ৪০০ রান অতিক্রম করেছি । বোলিংয়ের ক্ষেত্রে বলব, আজ আমরা একটু এলোমেলো বল করেছি। যেহেতু এটি টেস্ট ক্রিকেট, আমাদের বিশ্লেষণের সুযোগ আছে যে কোথায় বল করলে ব্যাটসম্যানরা বেশি চাপে থাকবে। আশা করি আমরা তা কাটিয়ে উঠতে পারব।’
ওভারপ্রতি প্রায় ৪ করে রান নিয়েছে পাকিস্তান। লম্বা সময় পর টেস্ট খেলতে নামা তাসকিন আহমেদ ৮ ওভারে দিয়ে দেন ৪০ রান, ইবাদত হোসেনও ৮ ওভারে দেন ৩৮ রান। নাহিদ রানার ৯ ওভার থেকে এসেছে ৪৭ রান। তিনজনই আলগা বল করেছেন। সালাউদ্দিন মনে করেন আটসাটো বল করলে দিনটা কঠিন হতো পাকিস্তানের, ‘অনেক সময় বাজে বল করলে ব্যাটিং করা খুব সহজ হয়ে যায়। আজ আমরা কিছুটা এলোমেলো বল করেছি, যার ফলে রান দ্রুত উঠেছে । আমরা যদি সঠিক চ্যানেলে বল করতাম, তবে হয়তো পাকিস্তান এত সহজে রান করতে পারত না।’
দুই দল মিলিয়ে গতিময় পেসার বেশি বাংলাদেশের। তিনজনই নিয়মিত বল করতে পারেন ঘন্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে। গতিতে মন দিতে গিয়ে লাইন-লেন্থে গড়বড় হওয়া উড়িয়ে দিচ্ছেন না বাংলাদেশের সহকারী কোচ, ‘উইকেটে ঘাস থাকলে ফাস্ট বোলাররা অনেক সময় উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং লাইন-লেংথ হারিয়ে ফেলে। আমাদের ভালো জায়গায় বল করা খুব জরুরি ছিল। উইকেটে মুভমেন্ট থাকায় বোলাররা হয়তো ভেবেছিল জোরে বল করে ব্যাটসম্যানকে পরাস্ত করবে, কিন্তু ভালো জায়গায় বল করাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।‘