উড়ন্ত শুরু, শেষে ধস, পাকিস্তানের লড়াকু পুঁজি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রথম ওয়ানডেতে কোনোমতে একশ পেরোনো পাকিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে এসে পেল দারুণ এক উড়ন্ত সূচনা। উদ্বোধনী জুটিতেই তারা তুলে ফেলে প্রথম ম্যাচের দলীয় স্কোরের প্রায় সমান রান। সাহিবজাদা ফারহানকে নিয়ে তরুণ মাজ সাদাকাতের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে গড়ে দেওয়া ভিতে ইমারত গড়েন সালমান আলী আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানরা। তাতে লড়াই করার পুঁজি পেয়ে যায় দলটি।

শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এই ব্যাটারদের কল্যাণে ৪৭.৩ ওভারে সব কটি উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রানের লড়াকু পুঁজি পেয়েছে সফরকারীরা।

তবে এই স্কোর পাকিস্তানের জন্য বড় আক্ষেপেরই হওয়ার কথা। বিনা উইকেটে ১০৩ রানের দুর্দান্ত শুরুর পর রিজওয়ান ও সালমানের ব্যাটে ভর করে এক পর্যায়ে তাদের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ২৩১ রান। তখন মনে হচ্ছিল, তিনশো তো বটেই, সাড়ে তিনশো রানও অনায়াসেই ছুঁয়ে ফেলবে পাকিস্তান।

কিন্তু সালমানের সেই বিতর্কিত রানআউটেই যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে তাদের ইনিংস! ক্রিজের বাইরে থেকে বল কুড়াতে গিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজের উপস্থিত বুদ্ধির ফাঁদে পড়েন পাকিস্তানের এই ব্যাটার। ওই আউটের পরেই মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় ম্যাচের দৃশ্যপট। শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে বোর্ডে মাত্র ৪৩ রান যোগ করতে পেরেছে পাকিস্তান, এমনকি পুরো ৫০ ওভারও টিকতে পারেনি তারা

এদিন টস জিতে আগের ম্যাচের মতোই ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মিরাজ। তবে শুরুটা আশানুরূপ হয়নি স্বাগতিকদের জন্য। আগের ম্যাচে পাঁচ উইকেট শিকার করা নাহিদ রানা এদিন শুরুতে ছিলেন ছন্নছাড়া। সেই সুযোগে পাকিস্তানি দুই ওপেনার মাজ সাদাকাত রীতিমতো তান্ডব চালান। তাতে মাত্র ১২.২ ওভারেই দলীয় শতরান পূর্ণ করে পাকিস্তান।

তবে দ্রুতই ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজে পায় বাংলাদেশ। ব্রেক-থ্রু এনে দেন খোদ অধিনায়ক মিরাজ; সাজঘরে ফেরান ভয়ংকর হয়ে ওঠা সাদাকাতকে। এরপরই পথ হারায় পাকিস্তান। তাসকিন আহমেদের বলে ফারহান এবং নাহিদ রানার শিকারে পরিণত হয়ে শামিল হোসেন বিদায় নিলে ১২২ রানেই ৩ উইকেট হারায় তারা। চতুর্থ উইকেটে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আগা মিলে ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন। এই জুটিতে আসে ১০৯ রান, যা পাকিস্তানকে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল।

কিন্তু ম্যাচের সব নাটকীয়তা যেন জমা ছিল ইনিংসের ৩৯তম ওভারের জন্য। মিরাজের একটি ডেলিভারি রিজওয়ান বোলারের দিকে ঠেলে দিলে মিরাজ সেটি পা দিয়ে থামান। এসময় নন-স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা সালমান আগা অনেকটা অসতর্কভাবেই ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন এবং বলটি কুড়িয়ে মিরাজের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বল তখনো ‘ডেড’ হয়নি দেখে উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দেন মিরাজ; দ্রুত বল তুলে নিয়ে আন্ডারআর্ম থ্রোতে স্টাম্প ভেঙে দেন। আম্পায়ারদের দীর্ঘ পর্যালোচনার পর নিয়ম অনুযায়ী সালমানকে আউট ঘোষণা করা হলে মাঠে গড়ায় চরম উত্তেজনা।

৬২ বলে ৬৪ রানের ইনিংস খেলে এভাবে বিদায় নেওয়াটা মেনে নিতে পারেননি সালমান। সাজঘরে ফেরার আগে মিরাজের সঙ্গে তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়ান তিনি। মাঠ ছাড়ার সময় রাগে-ক্ষোভে হেলমেট ও গ্লাভস ছুঁড়ে মারতেও দেখা যায় এই ব্যাটারকে। সালমানের এই বিতর্কিত বিদায়েই যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন-আপ। একই ওভারে মিরাজকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ধরা পড়েন থিতু হওয়া রিজওয়ানও (৪৪)।

এরপর আর কেউই দলের হাল ধরতে না পারায় ১৫ বল বাকি থাকতেই ২৭৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৫ রান আসে সাদাকাতের ব্যাট থেকে; মাত্র ৪৬ বলে ৬টি চার ও ৫টি ছক্কায় এই বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে ৫৬ রান খরচায় ৩টি উইকেট নেন লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন। অধিনায়ক মিরাজ নেন ২টি উইকেট।