গাবতলী গরুর হাটে ক্রেতা কম, দাম পড়ে যাওয়ায় বিপাকে ব্যাপারীরা

আকলাকুর রহমান আকাশ
আকলাকুর রহমান আকাশ

রাজধানীর গাবতলী হাটে কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত জোগান আছে। তবে শেষ মুহূর্তে ক্রেতা কম থাকা এবং টানা বৃষ্টির কারণে গরুর দামে ধস নেমেছে বলে দাবি ব্যাপারী ও খামারিদের। অন্যদিকে একদিনের ব্যবধানে দাম কিছুটা কমায় স্বস্তিতে ক্রেতারা।

আজ ভোর ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত হাট ঘুরে দেখা যায়, পুরো হাটে পর্যাপ্ত গরু আছে। এরপরও হাটে গরু নামানোর জন্য শত শত ট্রাক ও ট্রলারকে দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থেকে গতকাল বিকেলে হাটে এসেছেন ৭০ বছর বয়সী কৃষক ইউনুস পাটাদার। সঙ্গে এনেছেন লাল রঙের ছোট ও মাঝারি আকারের চারটি গরু। গতকাল সন্ধ্যায় একটি গরু কাঙ্ক্ষিত দামে বিক্রি করলেও বাকি তিনটি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘গতকাল বাজার ভালো ছিল। ৫ মণ ওজনের একটি গরু ১ লাখ ৮২ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। তখন বাকিগুলোরও ভালো দাম উঠছিল। কিন্তু রাত ৯টার দিকে হঠাৎ ক্রেতা কমে যাওয়ায় দাম পড়ে যায়। এখন বৃষ্টিতে হাটে তো ক্রেতাই নেই। গতকাল যে গরুর দাম ১ লাখ ৭০ হাজার বলেছিল, আজ সেটির দাম বলছে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। গরুপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা কম বলছে। ক্রেতারা এখন মাংসের দামও দিতে চাইছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘চার মাস আগে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকায় একটা গরু কিনেছিলাম লাভের আশায়। এখন সেটার দাম বলছে ১ লাখ ১০ হাজার। এমন হলে আমরা বাঁচব কীভাবে?’

ইউনুস পাটাদারের ছেলে আইয়ুব আলী জানান, চার মাস একটা গরু পালতে কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। হাটে আনতে চারটি গরুর পেছনে আট হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এর ওপর হাটে গরু বাঁধার জায়গা ভাড়া নিতেই এক ব্যাপারীকে দিতে হয়েছে ১৭ হাজার টাকা। এত খরচ করে ন্যায্যমূল্য না পেলে খুব কষ্ট লাগে।

১৭ হাজার টাকায় জায়গায় ভাড়া দেওয়া নজরুল ব্যাপারী বলেন, ‘আমি গদিমালিকের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকায় জায়গাটি ভাড়া নিয়ে পাঁচটি গরু তুলেছিলাম। চারটি বিক্রি হয়ে যাওয়ায় জায়গাটি খালি হয়। তাই ১৭ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে চারটি গরু বাঁধতে দিয়েছি। পুরো হাটেই গদিমালিকদের এভাবে টাকা দিতে হয়।’

অবিক্রীত গরু নিয়ে ফেরার শঙ্কা

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থেকে ৩২ হাজার টাকায় ট্রলার ভাড়া করে ১৭টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন আতিকুর রহমান। এর মধ্যে তিনি মাত্র একটি গরু বিক্রি করতে পেরেছেন।

আতিকুর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ভোররাত দুইটার দিকে হাটে গরু নামিয়েছি। ততক্ষণে ক্রেতা কমে বাজার পড়ে গেছে। বৃষ্টির কারণে এখন হাটে ক্রেতা নেই বললেই চলে। গরু বিক্রি করতে না পারলে বড় বিপদে পড়ব। অথচ গরু বিক্রি না হলেও খুঁটিমালিককে প্রতিটি গরুর জন্য দুই হাজার টাকা করে দিতে হবে।’

কুষ্টিয়া থেকে ১৫টি গরু নিয়ে আসা সেলিম ব্যাপারী অবশ্য গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ভালো দামেই ১৩টি গরু বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, ‘যেগুলো বিক্রি হয়েছে তাতে ভালোই মুনাফা হয়েছে। আজ সকালে একটি গরু ১০ হাজার টাকা লোকসানে বিক্রি করলাম। এখনো একটি অবিক্রীত আছে। তবে আগেরগুলোয় লাভ হওয়ায় অত চিন্তা করছি না। লোকসান হলেও এটা বিক্রি করে আজই বাড়ির পথে রওনা দেব।’

ফার্মগেট থেকে হাটে আসা ক্রেতা সাকিব আল আমিন খান বলেন, ‘ভোর ৬টার দিকে হাটে এসেছি। পর্যাপ্ত গরু আছে, কিন্তু ব্যাপারীরা সহজে দাম ছাড়ছেন না। তবে গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ ছোট ও মাঝারি গরুর দাম অনেকটাই কম মনে হচ্ছে।’

হাটের সার্বিক পরিস্থিতি দেখে ব্যাপারীদের আশঙ্কা, এবার হাটে থাকা সব গরু কোনোভাবেই বিক্রি হবে না। লোকসান দিয়ে অনেককেই অবিক্রীত গরু নিয়ে ফিরে যেতে হবে।