মুম্বাইয়ের গর্জন থামাতেই মাঠে নামছে ইংল্যান্ড: কারান
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্বাগতিক ও অন্যতম ফেবারিট ভারতের বিপক্ষে লড়বে ইংল্যান্ড। তবে তাতে নিজ দলের মধ্যে কোনো ভয় কাজ করছে না বলেই জানিয়েছেন ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার স্যাম কারান। বরং তাদের প্রথম লক্ষ্য হবে মুম্বাইয়ের গর্জনমুখর দর্শকদের নীরব করে দেওয়া।
বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে প্রায় ৩৫ হাজার উচ্ছ্বসিত ভারতীয় সমর্থকের সামনে ভারতের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। এই ম্যাচের জয়ী দল ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে।
ওয়াংখেড়ের উত্তাল পরিবেশ নিয়ে আগেভাগেই সতর্ক সবাই। তবে কারানের মতে, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় ইংল্যান্ডের অনেক ক্রিকেটারের জন্য এই চাপ নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে খেলা উইল জ্যাকসসহ বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ইতোমধ্যেই এই পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত।
সংবাদমাধ্যমকে কারান বলেন, “একজন তরুণ ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে খেলা স্বপ্নের মতো অভিজ্ঞতা। ভারত শক্তিশালী দল, কিন্তু আমরা এখানে অনেক ক্রিকেট খেলেছি। মাঠ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাদের ভালো ধারণা আছে।”
এক বছর আগেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত ছিলেন না কারান। তবে বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ, বিশেষ করে আইপিএলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে আবারও ইংল্যান্ড দলে জায়গা করে নেন তিনি।
আইপিএলের অভিজ্ঞতা যে বড় ভূমিকা রেখেছে, সেটিও স্বীকার করেছেন এই বাঁহাতি পেসার। তার ভাষায়, “এই মাঠে বহুবার খেলেছি, তাই অজানা কিছু নেই। আইপিএল আমাদের অনেক সাহায্য করেছে।”
টুর্নামেন্টের শুরুতেই নেপালের বিপক্ষে ওয়াংখেড়েতে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে শেষ ওভারে মাত্র পাঁচ রান দিয়ে দলকে জয় এনে দেন কারান, যখন নেপালের দরকার ছিল ১০ রান। পরে ইতালির বিপক্ষেও একইভাবে শেষ ওভারে সাফল্য পান তিনি। ব্যাট হাতেও ছয় নম্বরে নেমে এখন পর্যন্ত ১৪৯ রান করেছেন, যার মধ্যে অপরাজিত ৪৩ রান তার সেরা ইনিংস।
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কারান বলেন, “আমরা কোনো কিছুই ভয় পাচ্ছি না। দুই দলই এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে রোমাঞ্চিত। দর্শকদের শব্দ দিয়েই বোঝা যাবে আমরা কেমন খেলছি, যদি গ্যালারি নীরব হয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে ইংল্যান্ড ভালো করছে।”
টানা তৃতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও ইংল্যান্ড। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আগের দুইবারই এই লড়াইয়ের বিজয়ী দল শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতেছে। ২০২২ সালে অ্যাডিলেডে ভারতকে ১০ উইকেটে হারিয়ে পরে ফাইনালে পাকিস্তানকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড। আর দুই বছর আগে গায়ানায় ৬৮ রানে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ভারত শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শিরোপা জেতে।
কারানের আশা, দীর্ঘ প্রস্তুতির ফল এবার মিলবে। “গত চার-পাঁচ সপ্তাহের সব পরিশ্রম আসলে এই মুহূর্তের জন্যই। আশা করি আমরা আর এক ধাপ এগিয়ে ফাইনালে পৌঁছাতে পারব,” যোগ করেন তিনি।
প্রথম সেমিফাইনালে আজ বুধবার মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড। আর টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে রোববার আহমেদাবাদে।