যুবদলকর্মীর কবজি বিচ্ছিন্ন: আসামি গ্রেপ্তার নিয়ে র্যাব-পুলিশের ভিন্ন বক্তব্য
চট্টগ্রামে যুবদল কর্মীর হাতের কবজি কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় প্রধান আসামি মো. সবুজ (২৫) গ্রেপ্তার নিয়ে র্যাব ও পুলিশের ভিন্ন বক্তব্য আলোচনার জন্ম দিয়েছে। র্যাবের দাবি, আসামিকে তারা গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, এটি ছিল যৌথ অভিযান।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ এপ্রিল চট্টগ্রামের কোতোয়ালি এলাকায় আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে পূর্বশত্রুতার জেরে যুবদল কর্মী মিনহাজ উদ্দিনের (২৩) ওপর হামলা চালায় আবদুল আউয়াল অপু (৩৬), মো. সবুজ ও তুহিনসহ (২৭) অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন। সেসময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার একটি কবজি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেওয়া হয় মিনহাজকে। এ ঘটনায় তার বোন তানজিনা আক্তার বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, চট্টগ্রাম র্যাব-৭ ও সিলেট র্যাব-৯-এর যৌথ দল বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ২০মিনিটে অভিযান চালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার ইমামপাড়া এলাকা থেকে সবুজকে গ্রেপ্তার করেছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, আজ শনিবার সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ জোনের উপ-কমিশনার হোসাইন কবির ভুঁইয়া বলেন, তার নির্দেশনায় কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন, এসআই খালিদ হাসান তন্ময় ও র্যাবের একটি দল যৌথ অভিযান চালিয়ে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সবুজকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার নিয়ে ভিন্ন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ওসি মো. আফতাব উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এটি র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযান ছিল। সেখানে আমাদেরও টিম ছিল। সুবজের আগে এ মামলার আরেক আসামিকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।’
র্যাবের সঙ্গে পুলিশের গ্রেপ্তারের দিন ও সময়ের মিল না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যৌথ অভিযানের পর তাকে এনে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি এবং ঘটনার সময়ে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছি। তাই হয়তো বিলম্ব হতে পারে।’
জানতে চাইলে র্যাব-৭ (চট্টগ্রাম) এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফফর হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘পুলিশের সঙ্গে আমাদের তথ্য বিনিময় হয়েছে। তবে অভিযান চালায় র্যাব ৭ ও ৯।’
এ বিষয়ে সুজন চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী ডেইলি স্টারকে বলেন, এ ধরনের বিষয় মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেবে। এতে বাহিনীগুলোর অভিযানের বিশ্বাসযোগ্যতা ও তাদের কার্যক্রম নিয়ে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে। এসব বিষয় বিচারিক প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব না ফেললেও, এটি তাদের কাছ থেকে কাম্য নয়।