সংরক্ষিত আসনে এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা নিয়ে যা বলছে ইসি

আহমেদ দীপ্ত
আহমেদ দীপ্ত

সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থিতার জন্য জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিন।

আজ মঙ্গলবার সকালে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ সংরক্ষিত নারী আসনে তাদের জোটের ১৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ইসিতে জমা দেন। এ তালিকায় আছে মনিরা শারমিনের নাম।

কিন্তু, সরকারি চাকরি থেকে অবসরের ৩ বছরের মধ্যে সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে আইনি বিধিনিষেধ এক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মনিরা শারমিন ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কৃষি ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করেন। এর আগে, ওই বছরের মার্চে তিনি এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান।

সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার মাত্র ৫ মাসের মধ্যেই তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন নিচ্ছেন।

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন আয়োজন করা হয় জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী। এই আইনের ২৯ ধারায় বলা আছে, সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনের ক্ষেত্রে অন্যান্য বিধিমালার জন্য গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর অধীনে প্রণীত বিধিমালা অনুযায়ী হবে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ (১) (চ) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য হবেন যদি তিনি প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কোনো চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন বা অবসর নিয়েছেন এবং এই পদত্যাগ ও অবসরগ্রহণ যদি তিন বছর অতিবাহিত না হয়।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবিধিবদ্ধ বিশেষায়িত ব্যাংক।

মনিরা শারমিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, '২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর কৃষি ব্যাংকের কুষ্টিয়া শাখায় যোগ দেই। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঢাকার কারওয়ান বাজারে করপোরেট অফিসে বদলি হয়ে আসি।'

আরপিও লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতে চাইলে শারমিন বলেন, 'আমি যতদূর জানি সংরক্ষিত নারী আসনের যোগ্যতা বা বিধিনিষেধ সরাসরি আরপিওর আওতাভুক্ত নয়। এখানে অযোগ্যতার ধারা কার্যকর হবে না। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক একটি বিশেষায়িত ব্যাংক এবং আমার ১০ম গ্রেডের পদটি ছিল এন্ট্রি লেভেল। আমার চাকরির মেয়াদ ছিল মাত্র দুই বছর এবং বেতন নির্ধারিত হতো ব্যাংকের নিজস্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী।'

'আমি আশাবাদী আমার মনোনয়ন বাতিল হবে না। কারণ এটি সরাসরি আরপিওর সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে অবগত আছে। আমি সংসদে জনগণের কণ্ঠস্বর হতে চাই,' বলেন তিনি।

জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা মনে করি না যে তার মনোনয়ন বাতিল হবে।'

তবে, এনসিপি মনিরা শারমিনের একজন বিকল্প প্রার্থী রেখেছে বলে জানা গেছে। দলটির এক যুগ্ম সদস্য সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমাদের আইনজীবীরা মনিরা শারমিনের বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন। বিকল্প হিসেবে আমরা এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের নাম প্রস্তাব করার পরিকল্পনা করছি।'

আজ মনোনয়ন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময় পার হওয়ার ১৯ মিনিট পর নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন জমা দেওয়া হয় বলে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত সাংবাদিকদের তথ্য জানান।

মনিরার প্রার্থিতার বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আগামীকাল ও পরশু মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। আরপিও এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারও মনোনয়ন বাতিল হলে প্রার্থীরা আপিল করতে পারবেন।'

সংরক্ষিত আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মইন উদ্দিন খান বলেন, 'আমরা যাচাই-বাছাইয়ের সময় নথিপত্র দেখে সিদ্ধান্ত নেব। এক্ষেত্রে আরপিওর বিধানগুলোই প্রযোজ্য হবে।'