দিনাজপুরে অ্যান্টিভেনম না পেয়ে নারীর মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় সাপের কামড়ে আহত এক নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।
নিহত জুলেখা খাতুন (৫৫) উপজেলার রনগাঁও ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী।
স্বজনদের দাবি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিভেনম মজুত থাকলেও তা প্রয়োগ না করে রোগীকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্বজনদের ভাষ্য, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শয়নকক্ষের পাশের স্টোররুম থেকে ধানের বস্তা বের করার সময় জুলেখার বাম হাতের কব্জিতে সাপ কামড় দেয়। তার চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
জুলেখার ছেলে আব্দুল হান্নান (৩৬) অভিযোগ করেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মায়ের রক্ত পরীক্ষা করা হয়। এ সময় সাপটিকেও ধরে হাসপাতালে নিয়ে যান তারা।
তিনি বলেন, সেখানে অ্যান্টিভেনম রয়েছে বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে তা প্রয়োগ করলে আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন হতে পারে, যা উপজেলা হাসপাতালে নেই।
‘আমরা অ্যান্টিভেনম দিতে বারবার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু চিকিৎসক তা দিতে রাজি না হওয়ায় মাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
স্বজনদের দাবি, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর নার্সরা জানান, আইসিইউতে কোনো শয্যা খালি নেই। পরে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী জুলেখাকে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিজয় কুমার রায় বলেন, ‘হাসপাতালে বর্তমানে ৪০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের মেডিকেল অফিসার আইরিন পারভীন রোগীর স্বজনদের জানিয়েছিলেন যে, অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের পর আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন হতে পারে, যা উপজেলা পর্যায়ে নেই। পরে তারা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে রোগীকে নিয়ে যান।’
চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের বিষয়ে বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ হাসান বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে জেনেছি। চলতি অর্থবছরে এডিবির বরাদ্দ থেকে হাসপাতালে র্যাবিস ভ্যাকসিন ও অ্যান্টিভেনমের ৫০টি ভায়াল কেনা হয়েছিল। রোগীকে কেন তা দেওয়া হয়নি, গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরে প্রায়ই সাপের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
তবে স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে জেলায় অন্তত ১৫ জন সাপের কামড়ে মারা গেছেন।
দিনাজপুরের সিভিল সার্জন আসিফ ফেরদৌস বলেন, ‘বোচাগঞ্জের রোগীর মৃত্যু এবং অ্যান্টিভেনম না পাওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে জেলায় অ্যান্টিভেনমের কোনো সংকট নেই।’