মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে খুব বেশি সমস্যায় পড়তে হবে না: প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি সরকারের জন্য ‘চ্যালেঞ্জ’ হলেও তাতে ‘খুব বেশি সমস্যায়’ পড়তে হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন সরকার গঠনের পরই আমরা একটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছি। স্বাভাবিকভাবেই এই যুদ্ধ ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে হলেও বাংলাদেশের অর্থনীতি, জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর প্রভাব আছে।’

সরকারের পূর্ব-প্রস্তুতি রয়েছে উল্লেখ করে মধ্যপ্রাচ্যের এ পরিস্থিতিতে ‘আমাদের খুব বেশি সমস্যা হবে না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আজ বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে গণঅধিকার পরিষদের ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পটুয়াখালী-৩ আসনের এই সংসদ সদস্য।

প্রতিমন্ত্রী নুর বলেন, ‘ইউরোপ, জার্মানি, জাপান, কোরিয়াতে কীভাবে শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে পারি, দেশের মানুষের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারি, তা নিয়ে কাজ করছি।’

যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যতটুকু বুঝতে পারছি—হয়তো যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে না, হয়তো সমাপ্তির পথে যেতে পারে। এতে আমাদের কোনো হাত নাই, নিয়ন্ত্রণও নেই। আমাদের দেখতে হবে পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে।’

‘কোনো কারণে পরিস্থিতির অবনতি হলে এবং আমাদের শ্রমিকরা দেশে ফিরলে তাদের কর্মসংস্থান কিংবা ক্ষতিপূরণ কিংবা কল্যাণের জন্য ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে’, যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মপরিকল্পনার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আশা করি, সরকারি দল, বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ সরকারকে সহযোগিতা করলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা একটি ট্র্যাকে তুলতে পারবো। বেশিদিন প্রয়োজন হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি—সবাই আমরা একসঙ্গে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলাম। এই সরকার কারও প্রতিপক্ষ নয়। এই সরকার আমাদের সবার সরকার। এই সরকারকে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য, পুনর্গঠনের জন্য, আগামী ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সফল করতে হবে। সেইজন্য গত দেড় বছর অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করেছি। তেমনিভাবে এই সরকারকেও সহযোগিতা করে এগিয়ে যেতে হবে।’

বিগত সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে রাজধানীর পাশের জেলা নারায়ণগঞ্জের অবদানের কথাও তুলে ধরেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক।

তিনি নারায়ণগঞ্জের প্রাণ শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ ও দখল বন্ধ করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক-সামাজিক নেতাদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

গণঅধিকার পরিষদের জেলা সভাপতি নাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়কারী তারিকুল সুজন প্রমুখ।