তুলার বাজার হিসেবে বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

রেফায়েত উল্লাহ মীরধা
রেফায়েত উল্লাহ মীরধা

মার্কিন তুলা রপ্তানি বাড়ানোর নতুন পরিকল্পনায় বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন চায় বাংলাদেশ যেন পোশাক রপ্তানিতে শুল্ক সুবিধা পেতে মার্কিন তুলা ও টেক্সটাইল কাঁচামাল ব্যবহার করে।

গত সপ্তাহে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) যুক্তরাষ্ট্রের তুলা খাতকে চাঙা করতে ‘গ্রেট আমেরিকান কটন প্ল্যান’ চালু করে।

পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ইউএসডিএ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার কাছ থেকে এমন প্রতিশ্রুতি পেয়েছে, যা ভবিষ্যতে মার্কিন তুলা কেনা ও মার্কিন তুলা ব্যবহার করে টেক্সটাইল পণ্য উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করবে।

এই পরিকল্পনায় বাংলাদেশ যদি মার্কিন তুলা ও টেক্সটাইল উপকরণ ব্যবহার করে পোশাক তৈরি করে, তাহলে শুল্ক কমানোসহ আরও কিছু বাণিজ্য সুবিধা পেতে পারে।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি সই হওয়া বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু বাংলাদেশি বস্ত্র ও পোশাকপণ্য শূন্য শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। তবে এ সুবিধা কতটা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কী পরিমাণ তুলা ও কৃত্রিম তন্তুর কাঁচামাল আমদানি করা হচ্ছে তার ওপর। যদিও এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের তুলা আমদানি করে, আর এর মধ্যে মার্কিন তুলার অংশ ধীরে ধীরে বাড়ছে। স্থানীয় সুতা ও বস্ত্রকল মালিকরাও এখন মার্কিন সরবরাহকারীদের কাছ থেকে আগের চেয়ে বেশি তুলা কিনছেন। 

এ বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানান তিনি।

তবে তার মতে, মার্কিন তুলার ব্যবহার বাড়াতে দুইটি বড় সমস্যা রয়েছে। একটি হলো রুলস অব অরিজিন (পণ্যের উৎপত্তি-সংক্রান্ত শর্ত), আর অন্যটি হলো পরিবহনে দীর্ঘ সময় লাগা।

তিনি বলেন, আমেরিকান তুলার মান ভালো হলেও বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা কী ধরনের শুল্ক সুবিধা পাবে, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা দরকার।

মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, শুল্ক ছাড় পেতে পোশাকে কতটা মার্কিন তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করতে হবে এবং রুলস অব অরিজিনের শর্তগুলো কী হবে।

‘আলোচনার ভিত্তিতে বোঝা যাচ্ছে, কম শুল্কের সুবিধা সব রপ্তানির জন্য নয়; বরং এটি নির্দিষ্ট একটি কোটার মধ্যেই সীমিত থাকতে পারে,’ বলেন তিনি।

মার্কিন তুলা সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশে গুদাম সুবিধা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে তুলা আনতে কম সময় লাগে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আসতে ৪৫ দিনেরও বেশি সময় লাগতে পারে। এতে রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমতে পারে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) পরিচালক ফয়সল সামাদ বলেন, মার্কিন তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে রুলস অব অরিজিনের শর্ত নিয়ে আগামী সপ্তাহে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে বিজিএমইএ।

তিনি আরও জানান, এর আগে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তখন তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ সংক্রান্ত নীতিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বর্তমানে বাংলাদেশের মোট তুলা আমদানির প্রায় ৯ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। দেশে বছরে তুলা আমদানির বাজার প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের।

২০২৫ সালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মোট পণ্য বাণিজ্য প্রায় ১১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের তুলনায় ১৩ দশমকি ৩ শতাংশ বেড়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি ছিল ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।

ফলে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৮৬ শতাংশই তৈরি পোশাক।