যানজটে গরমের কষ্ট কমাতে যা করতে পারেন
প্রকৃতিতে ঋতুর পরিবর্তন ঘটেছে, তীব্র গরমে জনজীবনে এসেছে নানা পরিবর্তন। গ্রীষ্মের দিনগুলোতে আমরা সবাই ঘরের বাইরে একটু কম থাকার চেষ্টা করি। কিন্তু প্রয়োজনের তাগিদে কখনো কখনো আমাদের বেশি সময় বাইরে থাকতে হয়। আর আমাদের এই ব্যস্ত নাগরিক জীবনে গরমের ভোগান্তিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয় যানজট।
উষ্ণ আবহাওয়া সাধারণত আমাদের শরীরের স্বাভাবিক ঠান্ডা হওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের শরীরে নানা ধরনের সমস্যা, যেমন: পানিশূন্যতা, র্যাশ, খিঁচুনি, ক্লান্তি, এমনকি হিট স্ট্রোকও হতে পারে। তাই যানজটে আটকে তীব্র গরমে নিজেকে নিরাপদ রাখার কিছু টিপস জানা থাকলে আমরা হয়তো গরমজনিত ভয়াবহ শারীরিক অসুস্থতা থেকে রক্ষা পেতে পারি।
বের হওয়ার আগে প্রস্তুতি
বাইরে বের হলে সঙ্গে একটি ছোট ব্যাগে তীব্র গরম থেকে বাঁচার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস রাখা উচিত। যেমন: একটি পানির বোতল, লম্বা কিনারাযুক্ত একটি ক্যাপ, সানগ্লাস, সানব্লক ক্রিম, একটি ছাতা। এছাড়া, আপনার যদি কোনো শারীরিক অসুস্থতা থাকে, তাহলে হঠাৎ প্রয়োজন হতে পারে এমন প্রয়োজনীয় ওষুধটিও ব্যাগে রাখতে অবশ্যই ভুলবেন না।
বাইরে বের হওয়ার আগে জানালা বা বারান্দা দিয়ে উঁকি দিয়ে যখন দেখবেন সূর্য মহারাজ প্রচণ্ড দাপটে আকাশে বিরাজ করছে, তখন এই ব্যাগটি সঙ্গে নিয়ে বের হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
গরমের দিনে আরামদায়ক পোশাকের কোনো বিকল্প নেই। পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে হালকা রঙের, ঢিলেঢালা ও সুতির কাপড় বেছে নেওয়া উচিত। বাইরে বের হওয়ার সময় বড় কিনারাযুক্ত ক্যাপ পরলে তীব্র রোদ সরাসরি চোখে লাগে না।
এছাড়া, রোদে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করা উচিত। এতে ত্বক রোদে পুড়ে যাওয়া থেকে সুরক্ষিত থাকে।
ট্রাফিকে আটকে থাকলে করণীয়
পর্যাপ্ত পানি পান
তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরে পানির চাহিদাও বেড়ে যায়। তাই এ সময়ে সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। শুধু পিপাসা পেলেই পানি পান করা যথেষ্ট নয়; বরং বারবার অল্প অল্প করে পানি পান করা উচিত।
বাইরে বের হওয়ার আগে শুধু পানি নয়, ফলের রস বা ডাবের পানিও সঙ্গে রাখা যেতে পারে। এতে শরীরের পানির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যও বজায় থাকে।
পাবলিক ট্রান্সপোর্টে থাকলে রুমাল বা টিস্যু হালকা করে ভিজিয়ে নিয়ে মুখ ও গলা মুছে নিতে পারেন। এছাড়া, চোখে-মুখে পানি ঝাপটা দিতে পারলে গরম কিছুটা কম অনুভূত হয়।
রুট পরিবর্তন
তীব্র গরমে শহরের অনড় ট্রাফিক জ্যামে বসে ধৈর্যচ্যুতি হওয়ার আগেই গুগল ম্যাপ থেকে ট্রাফিক আপডেট দেখে অপেক্ষাকৃত কম জ্যাম রয়েছে এমন পথে দিক পরিবর্তন করুন। প্রযুক্তির কল্যাণে গুগল ম্যাপ এক বিশাল আশীর্বাদ।
প্রখর সূর্যালোক থেকে নিরাপদ থাকুন
পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, যেমন: বাসে জানালা দিয়ে প্রচণ্ড রোদ এসে গায়ে পড়লে পাশ পরিবর্তন করে অপর দিকের ফাঁকা সিটে স্থান পরিবর্তন করুন। রিকশায় চলাচল করলে হুড তুলে দিন। বাইক বা সাইকেলে থাকলে রাস্তার ধারে কিছুটা ছায়াযুক্ত স্থান পেলে সেখানে থেমে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। এতে সানবার্ন হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। রোদে ত্বক পুড়ে গেলে নানা জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি স্কিন ক্যানসারের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
তীব্র গরমে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যানজটে করণীয়
এতক্ষণ গেল পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কিছু করণীয়। এবার আসা যাক যারা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যানজটের গ্যাঁড়াকলে আটকা পড়েন, তাদের ক্ষেত্রে প্রখর দাবদাহে করণীয় বিষয়ে।
গাড়ির সেফটি চেক
গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার আগে অবশ্যই সেফটি চেক করে নিন—সবকিছু ঠিকঠাক আছে কি না। ট্র্যাফিকে আটকে থাকা অবস্থায় যদি দেখেন ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাচ্ছে, তাহলে চেষ্টা করুন গাড়িটি একটু পাশে নিয়ে ইঞ্জিন কিছুক্ষণ বন্ধ রাখতে। কারণ আবহাওয়া গরম থাকলে বাইরের তাপমাত্রা যদি ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসও হয়, তবুও এক ঘণ্টার মধ্যে ইঞ্জিন গরম হয়ে গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা প্রায় ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা গরমের দিনে আরও অস্বস্তি তৈরি করে।
গরমের দিনে পুরো গাড়িকে ঠান্ডা রাখতে অনেক সময় এসি চালু রাখতে হয়। তাই গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার আগে এসির পারফরম্যান্স ও কেবিন এয়ার ফিল্টার চেক করে নিন। যখন আপনি তীব্র গরমে যানজটে আটকে বিরক্ত, তখন এর শীতল বাতাস আপনাকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে। বিশেষত শিশু বা বয়স্কদের জন্য গাড়িতে বসে গরম সহ্য করা ভীষণই দুর্বিষহ একটি বিষয়।
শান্ত থাকা
আপনি যখন নিজে চালকের আসনে থাকেন, তখন একদিকে আপনি চালক, অন্যদিকে যাত্রীও বটে। ট্রাফিক জ্যাম ও অসহনীয় গরমে মানসিক স্থিতি ঠিক রাখা খুবই কঠিন। এটি বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি করে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
সর্বোপরি আপনার দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি। এর ফলে গাড়ি চালানোর সময় এমন পরিস্থিতিতেও আপনি অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়বেন না।


