বেঁচে যাওয়া খাবার ফেলে না দিয়ে বানাতে পারেন যেসব পদ
রাতের বেঁচে যাওয়া ভাত, ফ্রিজে রাখা তরকারি কিংবা সকালের অতিরিক্ত রুটি—এসব খাবার অনেক সময় ফ্রিজে পড়ে থাকে, তারপর একসময় ফেলে দেওয়া হয়। অথচ সামান্য কিছু উপকরণ যোগ করেই সেগুলোকে নতুন পদে রূপ দেওয়া সম্ভব। এতে যেমন খাবারের অপচয় কমে, তেমনি প্রতিদিন নতুন করে রান্না করার ঝামেলাও কিছুটা কমে।
ঝটপট ফ্রাইড রাইস
এই জিনিসটি কিন্তু বহুদিন ধরেই আমাদের মায়েরা করে আসছেন। রাতে বেঁচে যাওয়া ভাতের সঙ্গে পেঁয়াজ, মরিচ আর ডিম দিয়ে মায়ের তৈরি দেশি ফ্রাইড রাইস টিফিনে নিয়ে যাওয়ার স্মৃতি আছে অনেকেরই। চাইলে তেমনটাও বানাতে পারেন। আবার একদম রেস্টুরেন্ট স্টাইল ফ্রাইড রাইসও তৈরি করে ফেলতে পারেন। ফ্রিজে রাখা ভাত ফ্রাইড রাইস তৈরির জন্য বরং আরও ভালো কাজ করে। একটি প্যানে সামান্য তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ, গাজর, ক্যাপসিকাম বা ফ্রিজে থাকা যেকোনো সবজি ভেজে নিন। চাইলে ডিম ফেটিয়ে কিংবা মুরগির ছোট টুকরা দিয়ে ভেজে নিতে পারেন। এরপর ভাত দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে সয়া সস, গোলমরিচ ও সামান্য লবণ মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে সহজ অথচ দারুণ ফ্রাইড রাইস।
ভাতের মুচমুচে বল
বেঁচে যাওয়া ভাতের সঙ্গে সেদ্ধ আলু, কাঁচামরিচ কুচি, ধনেপাতা ও সামান্য গরম মসলা মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি ছোট ছোট বলের আকারে গড়ে ব্রেডক্রাম্বে গড়িয়ে তেলে ভেজে নিন। বাইরে মুচমুচে আর ভেতরে নরম এই পদটি বিকেলের নাশতায় বেশ ভালো লাগে।
রুটি দিয়ে পিৎজা
এক-দুই দিনের পুরোনো রুটি নাশতায় খেতে ইচ্ছে না হলেও ফেলে দেওয়ার দরকার নেই। রুটির ওপর প্রথমে টমেটো সস ছড়িয়ে দিন। এরপর পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম, রান্না করা মুরগির কুচি বা ফ্রিজে থাকা সবজি ছড়িয়ে তার ওপর সামান্য চিজ দিন। ঢাকনা দিয়ে চুলায় কয়েক মিনিট গরম করলেই তৈরি হয়ে যাবে রুটি পিৎজা। এই খাবারটি খেতে এত দারুণ হয় যে ছোটরা বিশেষ করে খেতে খুব পছন্দ করে।
রুটি দিয়ে রোল
বেঁচে যাওয়া রুটি কাজে লাগানোর আরেকটি দারুণ উপায় এটি। রুটি গরম করে তার মধ্যে ডিম ভাজি, রান্না করা মুরগির মাংসের কুচি, বেঁচে যাওয়া কাবাব কিংবা সবজি দিয়ে রোল বানিয়ে নেওয়া যায়। সঙ্গে সামান্য সস বা চাটনি যোগ করলে এটি সকালের নাশতা বা টিফিনের জন্য চমৎকার একটি পদ হতে পারে। শসা, টমেটো ও ধনেপাতা যোগ করে স্বাদে আনা যায় আরও নতুনত্ব।
মুরগির মাংস দিয়ে স্যান্ডউইচ
আগের দিনের মুরগির মাংস ছোট ছোট করে কেটে নিন। এরপর মেয়োনিজ, গোলমরিচ ও সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে স্যান্ডউইচের পুর তৈরি করুন। শসা বা লেটুস থাকলে যোগ করতে পারেন। এতে কয়েক মিনিটেই তৈরি হয়ে যাবে পুষ্টিকর স্যান্ডউইচ।
তরকারি মিশিয়ে নতুন স্বাদের খিচুড়ি
সবজি, মাংস বা মাছের তরকারি অল্প পরিমাণে বেঁচে গেলে সেটি নতুন করে রান্না করা খিচুড়ির সঙ্গে মিশিয়ে নেওয়া যায়। এতে খিচুড়ির স্বাদ আরও সমৃদ্ধ হয় এবং আলাদা করে তরকারি রান্নারও প্রয়োজন পড়ে না।
বেঁচে যাওয়া ডাল দিয়ে পরোটা
ডাল যদি একটু ঘন থাকে, তাহলে সেটি আটার সঙ্গে মেখে খামির তৈরি করা যায়। এরপর স্বাভাবিক নিয়মে পরোটা বেলে ভেজে নিলেই হবে। এতে ডালের স্বাদও থাকে, আবার নাশতায় নতুনত্বও আসে।
ডাল থেকে তৈরি স্যুপ
বেঁচে যাওয়া ডালের সঙ্গে গাজর, টমেটো বা অন্য কোনো সবজি সেদ্ধ করে ব্লেন্ড করে নিন। এরপর সামান্য মাখন ও গোলমরিচ দিয়ে গরম করলে তৈরি হবে ঘরোয়া স্যুপ। শীতের দিনে এটি বিশেষভাবে উপভোগ্য।
সবজি দিয়ে কাটলেট
ফ্রিজে থাকা সেদ্ধ বা রান্না করা সবজির সঙ্গে আলু মিশিয়ে নিন। এরপর কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ ও মসলা দিয়ে মেখে কাটলেটের আকার দিন। ব্রেডক্রাম্বে মুড়ে ভেজে নিলে চায়ের সঙ্গে পরিবেশন করার মতো একটি সুন্দর নাশতা তৈরি হবে।
বেশি পেকে যাওয়া ফল দিয়ে স্মুদি
কলা, আম বা আপেলের মতো ফল বেশি পেকে গেলে সেগুলো ফেলে না দিয়ে দুধ বা দইয়ের সঙ্গে ব্লেন্ড করে নেওয়া যায়। চাইলে সামান্য মধু বা বাদাম যোগ করা যেতে পারে। এতে তৈরি হবে স্বাস্থ্যকর স্মুদি।
খাবার বেঁচে যাওয়া মানেই ফ্রিজের কোণে ফেলে রেখে কয়েক দিন পর ফেলে দেওয়া নয়। সামান্য পরিকল্পনা আর একটু সৃজনশীলতা থাকলে সেই খাবারই নতুন রূপে আবার টেবিলে ফিরতে পারে। এতে অপচয় কমবে, সময় বাঁচবে এবং একই উপকরণ থেকে ভিন্ন স্বাদের নতুন কিছু পদও উপভোগ করা যাবে।