গল্প

রঙিন মা

dhrubo esh
ধ্রুব এষ

রঙিনের কয়টা পাখি আছে?
          রঙিনের ছয়টা পাখি আছে।

একটা নীল পাখি, একটা হলুদ পাখি, একটা কমলা পাখি, একটা সবুজ পাখি, একটা লাল পাখি আর একটা বেগুনী পাখি। এই পাখিরা মা ডাকে রঙিনকে। তার মানে তারা হলো রঙিনের ছানাপোনা। রঙিন তার ছানাপোনাদের নিয়ে অস্থির। এটা দাও, ওটা দাও, এটা করব, ওটা করব—একেকজনের একেক বায়নাক্কা। শুধু একটা ব্যাপারে ছয়জন একজোট—পড়াশোনার নামে নাই।

      ‘পড়তে বসো।’
      ‘পড়বো না মা।’
      ‘কেন রে বাবারা? পড়ালেখা না করে তোমরা কি গোমূর্খ হয়ে থাকতে চাও?’
      ‘আমরা গরু না, মা। গোমূর্খ হবো না। আমরা পাখিমূর্খ হয়ে থাকবো।’
      ‘কথা পারো! পাখিমূর্খ হয়ে থাকবে। পাখিমূর্খ হওয়া কি ভালো?’
      ‘আমরা তো গোমূর্খ বা মূর্খমানব হতে পারব না, মা। পাখিমুর্খ হওয়া ছাড়া উপায় নাই আমাদের।’

      ‘উফ! তোমরা কি একটু চুপ করবে? পাখিরা এত কথা বলে জানতাম না বাবা। জানলে পাখির মা কে হয়? উফ! আমি পড়েছি মহাবিপদে। আর কদিন পরে স্কুলে ভর্তি হতে হবে, পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি হতে হবে, সেই খেয়াল নাই একটা বাচ্চারও। অ আ পারে না, এক দুই পারে না। কোন স্কুল এদের ভর্তি নেবে রে?’
       ‘আমরা তো অ আ পারি, মা।’
      ‘তোমরা অ আ পারো?’
      ‘অ আ পারি। সব পারি। মিস্টার ম্যাকডোনাল্ড হ্যাড আ ফার্ম পারি। শোনাই, মা? শোনাই?’

      ‘ওরে! তার কোনো দরকার নাই! কোনো দরকার নাই! গানের নামে চেঁচিয়ে তোমরা আমার মাথা খারাপ করে দেবে, বাবারা।’
      ‘তোমার কি মাথা ভালো, মা?’
      ‘হ্যাঁ, ভালো! এখন আমার লক্ষ্মীছানারা, তোমরা অ আ পারো, সব পারো, এখন যে কোনো একটা মাত্র অক্ষরই আমাকে লিখে দেখাও দেখি।’

রঙিনের লক্ষ্মীছানারা তাদের হোমওয়ার্কের খাতা নিল। কাঠ পেনসিল নিল। একটা অক্ষর লিখে রঙিনকে দেখাল। অ না আ না ক না খ না, ছয়জন একটা অক্ষরই লিখেছে—ম।
      
       ‘এত থাকতে ম কেনরে বাবারা?’ রঙিন বলল।

তারা টুক করে ম-এ আ-কার দিয়ে দিল।
তাতে কী হলো?
মা হলো।
মা!
বাহ!

  রঙিনের বয়স দশ বছর। রঙিন একজন গরীব মানুষ। তার একটা নিজের মোবাইল ফোনও নাই। অথচ রঙিনের বোন রূপকথা, রঙিন তাকে ডাকে ইপাই, রূপকথা থেকে রুপাই থেকে ইপাই, সেই ইপাইয়ের কিনা মোবাইল ফোন আছে। ইপাই ও রঙিনের বাবা মামুনের মোবাইল ফোন আছে। ইপাই ও রঙিনের মা পুনমের মোবাইল ফোন আছে। মায়ের মোবাইল ফোন থেকে মামাকে কল দিয়ে রঙিন তার ছানাপোনার ঘটনা বলল। রঙিনের মামা খুবই খুশি হলো। বলল, ‘সেরা! আমাদের রঙিন এই পৃথিবীর সেরা মা।’

রঙিন একথা শুনে বিরাট ভাব নিল তার মা পুনম এবং তার বড়বোন ইপাইয়ের সঙ্গে, বার বার অনেকবার তাদের বলল, ‘আমি এই পৃথিবীর সেরা রঙিন মা। এটা মা তোমার দাদা তোমাকে বলে নাই জানো? তোমার মামা তোমাকেও বলে নাই, ইপাই। আমাকে বলেছে। আমার মামা আমাকে বলেছে, আমি এই পৃথিবীর সেরা রঙিন মা।
        অবশ্যই।