ফার্স্ট বেঞ্চ
আজও মন খারাপ করে স্কুল থেকে বাসায় ফিরেছে চিনি। মন খারাপের এ ঘটনা নতুন কিছু নয়। এর আগেও একাধিক বার হয়েছে। এইতো কিছুদিন আগে নতুন স্কুলে ভর্তি হলো। তারপর থেকে নিয়মিত মন খারাপ হচ্ছে চিনির। এজন্য দায়ী স্কুলের ফার্স্ট বেঞ্চ। এই ফার্স্ট বেঞ্চে বসা নিয়েই যত গণ্ডগোল!
নতুন স্কুলে যেতে কিছুটা দেরি হয়ে যায়। তাই ফার্স্ট বেঞ্চে বসতে পারে না চিনি। কীভাবে পারবে, ওর আগেই সবাই চলে আসে। তারাই ফার্স্ট বেঞ্চটা দখল করে। আর ফার্স্ট বেঞ্চে না বসলে ক্লাসে চিনির মন বসে না। শিক্ষকের কথাও ঠিকঠাক শুনতে পায় না। আরও কত কী..! তাই চিনির মন খারাপ।
মেয়েকে নিয়ে মহা চিন্তায় পড়েছেন মা। কীভাবে সমাধান করা যায় তা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে বারবার। অবশেষে মা সিদ্ধান্ত নিলেন, স্কুল শুরু হয় দশটায়। তবে চিনিকে নিয়ে নয়টার আগে যেতে হবে। তাহলে চিনি ফার্স্ট বেঞ্চে বসতে পারবে। তাতে আর সমাধান আর হলো কই। দু’এক দিন ফার্স্ট বেঞ্চে বসতে পেরেছে। তারপর আর পারেনি। কেন পারেনি? উত্তর খুব সোজা, অন্যরাও চিনির আগে আসতে শুরু করল। তারাও ওই ফার্স্ট বেঞ্চেই বসতে চায়।
চিনি মাকে বলেছে, ‘ফাস্ট বেঞ্চে বসতে না পারলে আর স্কুলে যাব না।’
মেয়ের এ কথায় মায়ের ঘুম উধাও। এর একটা সমাধানতো দরকার।
একদিন, দুই দিন, তিন দিন পার হয়ে যায়। চিনি স্কুলে যাচ্ছে না। শেষে স্কুল থেকে জরুরি নোটিশ এলো। অভিভাবকসহ পরদিন স্কুলে যেতে হবে। ওদের সাথে প্রিন্সিপাল স্যার কথা বলবেন। আরও বলা হলো, কোনোভাবে ক্লাস মিস করা যাবে না।
তবে চিনি অটল। ফার্স্ট বেঞ্চে বসতে পারলেই কেবল সে স্কুলে যাবে।
নোটিশ পেয়ে চিনির বাবা গেলেন স্কুলে। ক্লাস টিচার, প্রিন্সিপাল স্যারের সাথে কথা বললেন। তবে কোনো উপায় মিলল না। সবার জন্য যা, চিনির জন্যও একই নিয়ম। ওর জন্য আলাদা করে ক্লাসরুমে সিট রাখার সুযোগ নেই। চিনির বাবা চিন্তিত মুখে বাসায় ফিরলেন।
ততক্ষণে চিনির স্কুলে না যাওয়ার খবর পৌঁছে গেছে নানাবাড়িতে। ছুটে আসেন ছোট মামা। ছয় সাত বছরের একটা বাচ্চা মেয়ে স্কুলে যাচ্ছে না, এ কেমন কথা! তাও আবার ফার্স্ট বেঞ্চে বসতে না পারায়! বিষয়টি অবশ্যই ভাবনার।
ছোটমামা এসে চিনির সাথে আলাপ করেন। চিনির ওই এক কথা, ‘আমি যখনই স্কুলে যাব ফার্স্ট বেঞ্চেই বসব।’
ছোটমামা এরপর কথা বলেন চিনির বাবা-মায়ের সাথে। স্কুল থেকে জানানো হয়েছে নিয়মিত স্কুলে না গেলে ভর্তি বাতিল হবে। অথচ রীতিমত যুদ্ধ করে মেয়েকে এই স্কুলে ভর্তি করাতে হয়েছে।
ছোটমামা ভাবছেন, কীভাবে সুন্দর একটা সমাধান করা যায়। আচ্ছা এমন যদি হয়, কেবল চিনি নয়, সব শিশুই ফার্স্ট বেঞ্চে বসবে। তিনি এ বিষয়ে গুগলের জেমিনাইকে প্রশ্ন করে।
জেমিনাই উত্তর দিলো, চিন্তার কিছু নেই, এটার সহজ সমাধান আছে। এজন্য ক্লাসরুমের সারি সারি করে রাখা বেঞ্চগুলোকে ইউ আকৃতিতে সাজাতে হবে। তাহলেই সব শিশু সামনের বেঞ্চে বসতে পারবে।
ছোটমামা চিৎকার করেন,‘ হুররে! সমাধান পেয়ে গেছি। আর চিন্তা নেই।’
পরদিনই ছোট মামা চিনিকে নিয়ে স্কুলে যান, সঙ্গে যায় চিনির বাবা ও মা। তারপর প্রিন্সিপাল স্যারকে বিস্তারিত বলেন। সেদিন থেকে বদলে যায় চিনির ক্লাস রুমের চিত্র। এখন আর কেউ আগে বা পরে নয়, সবাই সামনে বসবে।
চিনি এখন নিয়মিত স্কুলে যায়।


