পৌনে ২ লাখ ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র, কারা তালিকায়

স্টার অনলাইন ডেস্ক

চলমান অভিবাসন কড়াকড়ির অংশ হিসেবে ১ লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশ করা একটি বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, যারা ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করেছেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন, মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ডাক দিয়েছেন, আমেরিকানদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার করেছেন কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছেন—এমন ব্যক্তিদের ভিসাই বাতিল করা হয়েছে।

ভিসা বাতিলের এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধান কারণ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—কাউকে আঘাত বা হামলা করা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং মাদক সংক্রান্ত অপরাধ। এ ছাড়া বেপরোয়া গাড়ি চালানো, যৌন নিপীড়ন, শিশু নির্যাতন, জালিয়াতি এবং অর্থ আত্মসাতের মতো অপরাধের কারণেও বিপুল সংখ্যক ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার নিয়মিতভাবে ভিসা পাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে থাকে। এই ভিসা বাতিলগুলো সেই নিয়মিত প্রক্রিয়ারই অংশ। এর মূল লক্ষ্য হলো—ভিসাধারীরা নিয়ম মেনে চলছেন কি না এবং তারা আমেরিকানদের নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি কি না, তা নিশ্চিত করা।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উত্তর আফ্রিকার একটি মার্কিন দূতাবাস শতাধিক বার্থ ট্যুরিস্ট বাবা-মায়ের ভিসা বাতিল করেছে। তারা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন যেন তাদের সন্তানেরা সেখানে জন্ম নিয়ে জন্মসূত্রেই আমেরিকার নাগরিকত্ব পেতে পারে।

এ ছাড়া আরও যাদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন এক বিদেশি নাগরিক, যার বিরুদ্ধে শিশুকে বলাৎকার এবং গুরুতর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। আরেক বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে, যার কাছে ডজনেরও বেশি শিশু যৌন নির্যাতনের ছবি বা ভিডিও পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এমন এক বিদেশি নাগরিকও ভিসা বাতিলের তালিকায় রয়েছেন, যাকে হেরোইনসহ গাড়ি চালানো এবং শরীরে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে তিন গুণ বেশি মদ বা অ্যালকোহল নিয়ে গাড়ি চালানোর দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।

এই তালিকায় রয়েছেন—কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের হয়ে অপতৎপরতা চালানো এক ব্যক্তি, ইরান সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ইরানি নাগরিক, লাওসের একজন শিশু যৌন অপরাধী (যাকে মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ ক্ষমা করেছিলেন) এবং কুয়েতের এক নাগরিক যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষতি করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন ও আমেরিকানদের নিজের ‘শত্রু’ বলে মনে করতেন।

ভিসা বাতিলের তালিকায় আরও রয়েছেন—চিকিৎসা সেবার নামে ভুয়া ব্যবসা খুলে ৫০ লাখ ডলার জালিয়াতি করা এক ব্যক্তি, বিনিয়োগকারীদের টাকা আত্মসাৎ ও জাল নথির মাধ্যমে ভিসা নেওয়া এক প্রতারক এবং নিজ ছাত্রকে যৌন হয়রানির দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া এক বিদেশি শিক্ষক।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে বৈধ এবং অবৈধ—সব ধরনের অভিবাসনের ওপর কঠোর কড়াকড়ি শুরু করেছেন।