গ্রীষ্ম কাটাতে কোথায় যান নর্ডিকরা?

স্টার অনলাইন ডেস্ক

নর্ডিক দেশগুলোতে গ্রীষ্ম মানেই শহরের ব্যস্ততা থেকে কিছুদিন দূরে থাকা। এ সময় অনেকেই চলে যান বন, হ্রদ কিংবা সমুদ্রের ধারে থাকা ছোট কটেজগুলোতে। সেখানে কাটে কয়েকটি শান্ত দিন। হাঁটাহাঁটি, মাছ ধরা, রান্নাবান্না কিংবা শুধু প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে থাকাই হয়ে ওঠে ছুটির অংশ।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, নর্ডিকদের এই কটেজ সংস্কৃতির শিকড় অনেক পুরোনো। শুরুর দিকে এসব বাড়িতে আরাম-আয়েশের তেমন ব্যবস্থা ছিল না। অনেক কটেজে পানি বা বিদ্যুৎও থাকত না। শহরের জীবন থেকে দূরে গিয়ে প্রকৃতির মধ্যে কিছুদিন থাকাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। সেই সরল জীবনযাপনই হয়ে উঠেছিল কটেজের অন্যতম আকর্ষণ।

তবে সময়ের সঙ্গে কটেজের চেহারা বদলেছে। বিবিসি জানায়, নর্ডিক দেশগুলোতে এখন প্রায় ১৮ লাখ কটেজ ও গ্রীষ্মকালীন বাড়ি রয়েছে। অনেক কটেজেই এখন পানি, বিদ্যুৎ, আধুনিক রান্নাঘর, ইন্টারনেট ও টেলিভিশনের মতো সুবিধাও আছে। কোথাও আবার গাড়ি নিয়েও সরাসরি পৌঁছানো যায়।

নর্ডিক গ্রীষ্মকাল। ছবি: সংগৃহীত

তবু কটেজে যাওয়ার মূল কারণ বদলায়নি। শহরের কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকাই এখনো এই সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু।

ফিনিশ লেখক টোভে ইয়ানসনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত দ্য সামার বুক চলচ্চিত্রেও এই জীবনযাপনের দৃশ্য দেখা যায়। গ্রীষ্মকালীন কটেজে মানুষের থাকা, প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক এবং নির্জনতার সৌন্দর্য উঠে এসেছে সিনেমাটিতে।

বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে নরওয়ের স্থপতি ভেনশে সেলমার কটেজ নকশার জন্য পরিচিত হয়ে ওঠেন। তার কাছে কটেজ ছিল সহজ ও সুন্দর জীবনযাপনের একটি ধরন। ক্লায়েন্টদের তিনি প্রায়ই একটি প্রশ্ন করতেন, ‘কী ছাড়া বাঁচতে পারেন?’

এই প্রশ্নের মধ্যেই নর্ডিক কটেজ সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা ধরা পড়ে। কী কী যোগ করা যায়, তার চেয়ে কী কী বাদ দেওয়া যায়, সেটিই এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ভোগবাদ নিয়ে উদ্বেগ, পরিবেশ রক্ষার চিন্তা এবং ডিজিটাল দুনিয়া থেকে কিছুদিন দূরে থাকার আকাঙ্ক্ষা মানুষকে আবার সরল জীবনযাপনের দিকে টানছে। কটেজে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও প্রকৃতির কাছাকাছি থাকাই এখনো এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।

নরওয়েজীয় ভাষায় প্রকৃতির মধ্যে এমন জীবনযাপনকে বলা হয় ‘ফ্রিলুফটসলিভ’, অর্থাৎ খোলা প্রকৃতির মধ্যে জীবনযাপন।

নর্ডিক অঞ্চলের এমন নয়টি কটেজ ও গ্রীষ্মকালীন বাড়ির গল্প তুলে ধরেছে বিবিসি।

ফিয়েলডালসয় কেবিন, নরওয়ে। ছবি: সংগৃহীত

ফিয়েলডালসয়, নরওয়ে

অসলোতে একটি প্রদর্শনীর মাধ্যমে স্থপতি ভেনশে সেলমার ও তার নকশা করা কটেজগুলো আবার আলোচনায় এসেছে। প্রকৃতি, সরলতা, কাঠের বাড়ির ঐতিহ্য এবং আধুনিক স্থাপত্য, এই বিষয়গুলো একসঙ্গে তার নকশায় দেখা যায়।

১৯৬০ সালে স্বামী ইয়েন্স সেলমারের সঙ্গে তৈরি করা ফিয়েলডালসয় কটেজ এর একটি বড় উদাহরণ বলে জানায় বিবিসি।

তবে নরওয়ের অনেক কটেজেই এখন আধুনিক সুযোগ সুবিধা আছে। কিন্তু সেলমারের ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকের কটেজগুলো ছিল এর বিপরীত। সেখানে পানি বা বিদ্যুৎ ছিল না। ছিল শুধু প্রয়োজনীয় কিছু ব্যবস্থা।

কটেজটির একটি দেয়াল এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে সেখানে রোদ পড়ে। সেই জায়গায় বন থেকে সংগ্রহ করা বেরি ও মাশরুম পরিষ্কার করা যেত।

অর্থাৎ বাড়িটির প্রতিটি অংশ তৈরির পেছনে ব্যবহারিক কারণ ছিল। অপ্রয়োজনীয় কিছুই রাখা হয়নি।

কোয়ার্সেবো সামারহাউস, সুইডেন। ছবি: সংগৃহীত

কোয়ার্সেবো সামারহাউস, সুইডেন

সুইডেনের গ্রামাঞ্চলে বন ও চারণভূমির মাঝখানে নিজের ও সন্তানদের জন্য এই কটেজটি তৈরি করেছেন স্থপতি লিও কোয়ার্সেবো।

ত্রিভুজ আকৃতির বাড়িটির নকশা বেশ আলাদা। সামনের ঢালু দেয়ালটি ক্লাইম্বিং ওয়াল হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। ছাদে ওঠার জন্য সেখানে দড়িও লাগানো আছে।

এখানে প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে সময় কাটানোর জন্য একটি বারান্দা রয়েছে। সেখানে রোদ পোহানোর চেয়ার রাখা যায়। আবার দুটি দোলনার জন্যও রয়েছে আলাদা কাঠামো।

ঘরের ভেতর ও বাইরে দুই জায়গাতেই রান্নার ব্যবস্থা রয়েছে। কাঠের কাঠামো ও পাইন কাঠের বাইরের দেয়াল বাড়িটিকে চারপাশের প্রকৃতির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে।

ভেতরের দেয়াল ও ছাদে ব্যবহার করা হয়েছে বার্চ প্লাইউড। একটি বন্ধ হয়ে যাওয়া পাজল কারখানা থেকে স্থপতি এটি সংগ্রহ করেছিলেন। বাড়ির দরজা ও জানালাগুলোও পুরোনো বা সেকেন্ড-হ্যান্ড।

ফলে বাড়িটির নকশায় প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকার পাশাপাশি পুনর্ব্যবহার ও সরলতার ধারণাও রয়েছে।

হাউস অন অ্যান আইল্যান্ড, নরওয়ে। ছবি: সংগৃহীত

হাউস অন অ্যান আইল্যান্ড, নরওয়ে

নরওয়ের দক্ষিণ উপকূলের কাছে স্কাতয় দ্বীপে এক শিল্পী দম্পতির জন্য ছোট এই বাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। তারা এমন একটি নিরিবিলি জায়গা চেয়েছিলেন, যেখানে চিন্তা ও কাজ করা যায়।

প্রিফ্যাব্রিকেটেড কাঠের কাঠামোর চারপাশে সরু কাঠের পাত দিয়ে একটি গ্রিড তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে বাড়ির ভেতরে আলো ও ছায়ার খেলা তৈরি হয়। অনুভূতিটা অনেকটা গাছের নিচে বসে থাকার মতো।

গ্রিডের নকশা কাচের দেয়াল দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখার ক্ষেত্রও ঠিক করে দিয়েছে।

মসৃণ গোলাকার পাথরের ওপর বাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। ভেতর ও বাইরে কংক্রিটের মেঝে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে বাড়িটিকে চারপাশের ভূদৃশ্যেরই একটি অংশ বলে মনে হয়।

বাইরের কাঠ তাপপ্রক্রিয়ার কারণে সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে ধূসর হয়ে যাবে। তখন বাড়িটির রং ও চেহারা আশপাশের প্রকৃতির সঙ্গে আরও বেশি মিশে যাবে।

ছবি: সংগৃহীত

স্লাভিক হাউস, সুইডেন

সুইডেনের উত্তর-পশ্চিম উপকূলের বোহুস্লেন অঞ্চলের একটি উঁচু জায়গায় এই বাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। যে পরিবারের জন্য বাড়িটি তৈরি করা হয়েছে, তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এখানে গ্রীষ্ম কাটিয়ে আসছে।

পাথুরে ঢাল কেটে সমতল করার বদলে বাড়িটিকে একটি ক্যান্টিলিভার কাঠামোর ওপর বসানো হয়েছে। ফলে এটি খাড়া ঢালের ওপর কিছুটা ঝুলে আছে।

বাড়িটির নকশায় স্থানীয় আবহাওয়া ও জীবনযাপনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নোনা পানির ঝড়ের কথা মাথায় রেখেই কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

কাঠের কাঠামোর ওপর রয়েছে গোলাকার ছাদ। এর আকৃতিও আশপাশের পাথুরে পাহাড়ের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

বাড়ির সামনের বড় জায়গাটিই মূল কেন্দ্র। এখানে রান্না, খাওয়া ও আড্ডা দেওয়া যায়। পেছনের অংশে রয়েছে শোয়া ও গোসলের ব্যবস্থা।

বড় কাচের স্লাইডিং দরজার কারণে প্রায় প্রতিটি ঘর থেকেই সরাসরি বাইরে যাওয়া যায়। ফলে ঘর আর বাইরের প্রকৃতির মধ্যে স্পষ্ট কোনো সীমারেখা থাকে না।

ভেইরহয়, ডেনমার্ক। ছবি: সংগৃহীত

ভেইরহয়, ডেনমার্ক

ডেনমার্কের জিল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় ১৯৬৭ সালে স্থপতি ওলে মেয়ার তৈরি করেছিলেন ভেইরহয় নামের এই গ্রীষ্মকালীন বাড়ি।

এটির নকশায় আধুনিকতাবাদী স্থাপত্যের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী কৃষকবাড়ির বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ছাদে ব্যবহার করা হয়েছিল খড়।

২০১৮ সালে বাড়িটির মালিকরা এটি সংস্কার ও সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেন। তত দিনে মূল ছাদ, খোলা কাঠের কাঠামো এবং কাঠের স্লাইডিং জানালাগুলোর অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। এগুলো আধুনিক নির্মাণবিধির মানও পূরণ করছিল না।

সংস্কারের সময় মূল বাড়ির চরিত্র ধরে রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। জানালার জন্য স্থানীয় এক কারিগর বিশেষ ধরনের যৌগিক কলাম তৈরি করেন। ইস্পাত ও আগুন প্রতিরোধী উপাদান ব্যবহার করা হয় এতে। বাইরে দেওয়া হয় পিচ পাইন কাঠের আবরণ।

পুরোনো স্থাপত্যের চরিত্র অক্ষুণ্ন রেখেই বাড়িটিকে আধুনিক ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হয়।

ছবি: সংগৃহীত

তোরো, সুইডেন

সুইডেনের তোরো দ্বীপে ১৯৭০-এর দশকের একটি ‘ক্যাটালগ হাউস’ নতুন করে সাজানো হয়েছে।

‘ক্যাটালগ হাউস’ হলো এমন মডুলার বা প্রিফ্যাব্রিকেটেড বাড়ি, যা ক্যাটালগ দেখে অর্ডার করা যেত। পাথুরে জমির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই বাড়িটি ফোকহেম স্থাপত্যধারার একটি উদাহরণ।

বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে সুইডেনে এই ধারার বিকাশ ঘটে। আধুনিক নির্মাণসামগ্রী ও ব্যাপক উৎপাদনের সঙ্গে স্থানীয় ঐতিহ্যকে মিলিয়ে নেওয়াই ছিল এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

সংস্কারের সময় বাড়ির ভেতরের ঘরগুলোর বিন্যাস বদলে দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষ যাতে একসঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারেন।

বাইরেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো নতুন ছাদ। সম্প্রসারিত অংশে তৈরি করা হয়েছে একটি অতিরিক্ত শোবার ঘর ও পড়ার ঘর।

অর্থাৎ পুরোনো একটি গ্রীষ্মকালীন বাড়িকে শুধু সংরক্ষণ করা হয়নি। নতুন প্রজন্মের জীবনযাপনের সঙ্গে মানিয়েও নেওয়া হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত

মানহাউসেন সি কেবিনস, নরওয়ে

নরওয়ের মেরু অভিযাত্রী বোরগে ওসলান্ড মানহাউসেন দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন। মাছ ধরা, কায়াকিং, ডাইভিং কিংবা পাহাড়ে হাঁটার জন্য জায়গাটি ছিল আদর্শ। ওসলান্ড সেখানে একটি অবকাশকেন্দ্র গড়ে তোলার সম্ভাবনাও দেখেছিলেন।

স্থপতি স্নোরে স্টিনেসেন তার জন্য সাতটি সি কেবিন ও কয়েকটি যৌথ সুবিধা তৈরি করেন।

প্রতিটি কেবিন যেন আলাদা একটি আশ্রয়। প্রতিটির সামনে রয়েছে নিজস্ব একটি দৃশ্য। স্থাপত্যবিষয়ক লেখক ডমিনিক ব্র্যাডবেরি তার দ্য আইকনিক নর্ডিক হাউস বইয়ে লিখেছেন, বেশির ভাগ কেবিন পুরোনো পাথরের ঘাটের ওপর তৈরি। সেগুলো পানির দিকে কিছুটা এগিয়ে গেছে।

কেবিনগুলো ছোট। তবে জায়গার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। রয়েছে বাংকরুম ও ছোট গ্যালি-ধাঁচের রান্নাঘর।

এই নকশার উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে কিছুদিনের জন্য ব্যস্ত জীবন থেকে দূরে রাখা। ভেতরটা আরামদায়ক ও উষ্ণ। আবার জানালা দিয়ে বাইরে তাকালেই মনে হয়, প্রকৃতির মাঝেই থাকা হচ্ছে।

এখানেও কটেজজীবনের সেই পুরোনো দর্শনটি ফিরে আসে। কম জায়গা, কম আয়োজন, কিন্তু প্রকৃতির সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ঠতা।

ছবি: সংগৃহীত

স্কিগার্ড হুত্তে, নরওয়ে

নরওয়ের কভিতফেলে শীতকালে স্কি করতে এবং গ্রীষ্মে হাঁটতে ও মাছ ধরতে যান স্থপতি ক্যাসপার মর্ক-উলনেস ও তার মার্কিন স্ত্রী, নকশাবিদ লেক্সি মর্ক-উলনেস।

তারা এমন একটি কটেজ চেয়েছিলেন, যেখান থেকে নিচের উপত্যকার বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যাবে। একইসঙ্গে বাড়িটি যেন মাটির ওপর যতটা সম্ভব কম প্রভাব ফেলে, সেটিও তারা চেয়েছিলেন।

সে কারণেই বিদ্যমান গাছগুলোর মাঝেই কটেজটি বসানো হয়েছে। আরও ভালো দৃশ্য পাওয়ার জন্য কাঠের খুঁটির ওপর বাড়িটি কিছুটা উঁচু করা হয়েছে।

বাড়ির বড় খোলা জায়গায় বসা, খাওয়া ও রান্নার ব্যবস্থা রয়েছে। মেঝে ও দেয়ালে ব্যবহার করা হয়েছে স্থানীয় পাইন কাঠ।

প্রকৃতিকে বদলে না দিয়ে তার মধ্যেই বাড়িটিকে বসিয়ে দেওয়াই এই কটেজের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য। বাড়িটি যেন জমির ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনো স্থাপনা নয়। বরং গাছ, ঢাল আর দৃশ্যপটের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করা একটি আশ্রয়।

ছবি: সংগৃহীত

কেবিন কে, ফিনল্যান্ড

স্বচ্ছ হ্রদ, ঘন বন আর আলো-ছায়ার পরিবর্তনের জন্য পরিচিত ফিনল্যান্ড। এমনই এক প্রাকৃতিক পরিবেশে উঁচু জায়গায় তৈরি করা হয়েছে কেবিন কে। এখান থেকে দেখা যায় সাইমা হ্রদ।

একটি বড় পরিবারের জন্য নতুন অতিথিশালা হিসেবে কেবিনটি তৈরি করা হয়েছে। পরিবারের মূল বাড়িটিও কাছেই। নতুন কেবিন তৈরি হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা এখন একসঙ্গে ছুটি কাটাতে পারেন। আবার প্রয়োজন হলে নিজেদের মতো সময়ও কাটাতে পারেন।

বসার ঘরে রয়েছে উত্তর ও দক্ষিণমুখী জানালা। বাড়ির দুই প্রান্তে রয়েছে দুটি শোবার ঘর।

পাইন কাঠের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি বাড়িটির নকশায় রয়েছে ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের প্রভাব। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কাঠের গুঁড়িগুলো ধূসর হয়ে যাবে। তখন কেবিনটি আরও বেশি আশপাশের বনের সঙ্গে মিশে যাবে।

প্রকৃতির সঙ্গে এমনভাবে মিশে যাওয়া নর্ডিক কটেজের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্যগুলোর একটি। এখানে বাড়ি প্রকৃতির প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। বরং প্রকৃতিরই একটি অংশ।

বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নর্ডিক কটেজ সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এখানেই। একটি কটেজ কত বড়, কত আধুনিক বা কত দামি, সেটি মুখ্য নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, সেটি মানুষকে তার ব্যস্ত জীবন থেকে কতটা দূরে নিয়ে যেতে পারে এবং প্রকৃতির কতটা কাছে আনতে পারে।