রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা কী?
বাংলাদেশি নাগরিক, বয়স ৩৫ বছর ও সংসদের দুই সদস্যের সমর্থন থাকলেই আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করা যাবে।
রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে কোনো মনোনয়ন ফি দিতে হয় না।
সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থিতার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না যদি তিনি ৩৫ বছরের কম বয়সী হন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য না হন অথবা সংবিধান অনুযায়ী অভিশংসনের (ইমপিচমেন্ট) মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকেন।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছাড়েন মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।
আজ বৃহস্পতিবার ভোটার তালিকা প্রকাশের প্রায় আধা ঘণ্টা আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে।
ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে।
১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র যাচাই শুরু হবে এবং তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলবে।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
আজ বিকেলে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময়সূচি এবং মনোনয়নপত্রের মূল্যসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
ভোটার তালিকার আগে তফসিল ঘোষণা প্রসঙ্গে তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ভোটার তালিকা প্রকাশে কোনো বিলম্ব হয়নি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রথমে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রায় আধা ঘণ্টা পর একই দিনে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।’
মনোনয়নপত্রের মূল্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার জানা মতে, মনোনয়নপত্র বিনা মূল্যে পাওয়া যাবে।’
সংবিধান ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনিই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।
নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ২৮ জুলাই ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রাথমিক বৈঠকও করেছে নির্বাচন কমিশন।
বৈঠক শেষে সিইসি বলেন, ‘একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদে প্রকাশ্য ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।’
সংবিধান ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন প্রস্তাবকারী ও একজন সমর্থনকারী থাকতে হবে এবং তাদের দুজনকেই সংসদ সদস্য হতে হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়ও প্রার্থীর সঙ্গে একজন সংসদ সদস্য থাকতে হবে।
ভোটের দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন। সেদিন অন্য কোনো সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে না এবং দুপুর ১২টার পর ভোটগ্রহণ শুরু হতে পারে।
সংসদ সদস্যরা নির্বাচন কর্মকর্তার সামনে নির্ধারিত ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর নাম চিহ্নিত করে তাতে সই করবেন।
ব্যালট পেপার নেওয়ার আগে সংসদ সদস্যকে বিপরীত পৃষ্ঠায় (কাউন্টারফয়েল) সই করতে হবে। প্রত্যেক সংসদ সদস্যের একটি করে ভোট থাকবে। সংসদ সদস্য হিসেবে স্পিকারও ভোট দেওয়ার অধিকারী।
ভোটগ্রহণ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সবার সামনে ভোট গণনা করবেন। সমান ভোট পড়লে লটারির মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে।