মানবাধিকার নিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের বাগযুদ্ধ
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য ঘিরে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং এবং ইসরায়েলের মধ্যে প্রকাশ্য বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শনিবার এক বিবৃতিতে লি জে মিউং অভিযোগ করেন, ইসরায়েল তাদের বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে যথাযথ আত্মসমালোচনা করছে না। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ভিডিওটি সত্য কি না তা যাচাই করা প্রয়োজন এবং সত্য হলে এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেটিও জানা জরুরি।
ভিডিওটিতে দাবি করা হয়, এতে ইসরায়েলি সেনারা এক ফিলিস্তিনি শিশুকে নির্যাতন করে ছাদ থেকে ফেলে দিচ্ছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। পরবর্তীতে ধারণা করা হয়, এটি ২০২৪ সালে পশ্চিম তীরে ধারণ করা একটি ঘটনার ভিন্ন কোণ থেকে নেওয়া ফুটেজ হতে পারে, যেখানে একজন ইসরায়েলি সেনাকে এক মৃতপ্রায় ব্যক্তির দেহ ছাদ থেকে নিচে ঠেলে দিতে দেখা যায়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালে হোয়াইট হাউস ভিডিওটিকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছিল এবং ইসরায়েলের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল। ইসরায়েল দাবি করে, ঘটনাটি আগেই তদন্ত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
어떠한 상황에서도 국제인도법은 준수되어야 하며, 인간의 존엄성 역시 타협할 수 없는 최우선 가치로 지켜져야 합니다.
영상은 24년 9월 발생한 실제 상황으로 미국 백악관이 매우 충격적(deeply disturbing)이라고 평가했고 존 커비 등 미당국자가 혐오스럽고 용납할 수 없는 행동”이라고 까지… https://t.co/r4ts6qsFAY— 이재명 (@Jaemyung_Lee) April 10, 2026
তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লি জে মিউংয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে জানায়, তিনি পুরোনো একটি ঘটনাকে নতুন হিসেবে উপস্থাপন করেছেন এবং একটি ‘ভুয়া অ্যাকাউন্ট’ থেকে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য উদ্ধৃত করেছেন। তাদের ভাষ্য, ওই অ্যাকাউন্টটি দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলবিরোধী ভুল তথ্য ছড়ানোর জন্য পরিচিত।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি প্রশমনের চেষ্টা করে। তারা জানায়, প্রেসিডেন্টের বক্তব্য কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার বিরুদ্ধে নয়, বরং এটি সার্বজনীন মানবাধিকারের পক্ষে একটি অবস্থান।
তবে বিতর্ক এখানেই থেমে থাকেনি। শনিবার আরেকটি বার্তায় লি জে মিউং ইসরায়েলের সমালোচনার জবাবে বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে যারা নিরন্তর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে ভোগান্তিতে রয়েছে, তাদের সমালোচনার বিষয়ে একবারও আত্মসমালোচনা না করা হতাশাজনক।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি কষ্ট পেলে অন্যরাও সেই কষ্ট অনুভব করে।’
যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখে এবং কোনো এক পক্ষের প্রতি সরাসরি সমর্থন দেয় না। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিউল ও তেল আবিবের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।